বুধবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

যে মানুষটি সকলকে আলো দেখায়, সে নিজেই অন্ধকারে

রুবাইয়া

যে মানুষটি সকলকে আলো দেখায়,আলোর পথে নিয়ে চলে সেই মানুষটি দীর্ঘদিন রয়েছেন অন্ধকারে। সন্ধ্যার পরেই ঝুপঝুপ করে অন্ধকার নেমে আসে ডুয়ার্সের বীরপাড়ার হেভেন শেল্টারে।যে হেভেনের প্রায় সকল বাসিন্দাই জীবনের শেষ দোরগোড়ায় পৌঁছেছেন।কারোর বা বয়স ষাটোর্ধ কারোর বা আশি পার।সেসব মানুষের পক্ষে রাতের অন্ধকারে চলাফেরা কতটা কষ্টকর তা বোধহয় বীরপাড়ার ডিমডিমা চা বাগানে হেভেন শেল্টারে না এলে অনুভব করা যাবে না।হেভেন শেল্টার হোমের এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হল আলোর সমস্যা।কারণ এখানে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই।আর বাগান এলাকা হওয়ায় রাতে হাতির উৎপাত তো নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।হেভেন শেল্টারের প্রধান তথা সমাজসেবী সাজু তালুকদার জানান, "বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে গেলে আঠারোটা খুঁটি লাগবে বা একটা ট্রান্সফরমার লাগবে।এসবের খরচ বহন করা আমার পক্ষে দুঃসাধ্য ।আবাসিকদের নিয়ে খুব কষ্টেসৃষ্টে অন্ধকারে রাত কাটাতে হয় তাকে।তিনজন জন সহৃদয় ব্যক্তি একজন বীরপাড়ার রাজা ভট্টাচার্য, আমেরিকার নিরুপম চট্টোপাধ্যায় এবং অন্যজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক। এই তিনজন সহৃদয় ব্যক্তি মিলে একটি জেনারেটর দান করেছেন কিন্তু সেটা সারা রাত চালানো সম্ভব নয় কারণ ঘন্টায় এক লিটার ডিজেল লাগে।" অন্যদিকে ইলেক্ট্রিসিটি না থাকায় টিউবওয়েলের জলই একমাত্র ভরসা এখানকার বাসিন্দাদের।এছাড়া বৃষ্টিবাদলের দিনে বন জঙ্গল থেকে সাপ ও অন্যান্য বিষাক্ত পোকামাকড় রাতের অন্ধকারে যদি আবাসিকদের ঘরে চলে আসে তো সেক্ষেত্রেও ভয়ের কারণ থেকেই যায় ।বর্তমানে হেভেন শেল্টারে ষোলোজন আবাসিক থাকে।কিছুদিন আগেই গত হয়েছে মনোমায়া ছেত্রী এবং রুইচাঁদ দাস।এই অবস্থায় কোন সরকারি সাহায্য যদি পাওয়া যায় তবে এখানে ইলেক্ট্রিসিটির ব্যবস্থা করবেন বলে জানান সাজু তালুকদার।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only