বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

গাড়ি শিল্পে মন্দার জের, মারুতির কারখানা বন্ধ থাকবে ২ দিন

দেশজুড়ে চলা আর্থিক মন্দায় ধাক্কা খেয়েছে গাড়ি শিল্প। গাড়ি উৎপাদন তলানিতে এসে ঠেকেছে। বুধবারই দেশের বাজারে বৃহত্তর গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা মারুতি সুজুকি দু’দিন গাড়ি তৈরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গাড়ি শিল্পে এই মন্দার ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আনুষঙ্গিক শিল্প-ব্যবসা। ইস্পাত থেকে শুরু করে গাড়ির যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী সংস্থাও এই মন্দার কবলে। এইসব সংস্থাগুলিও জানিয়েছে– তাদের বিক্রি কমেছে। সেখানেও কর্মী ছাঁটাই হয়েছে। অনেক ইউনিট বন্ধও করে দেওয়া হয়েছে। ‘লাইভ মিন্ট’ নামে এক পোর্টাল দাবি করেছে– তারা অন্তত একডজন অটো পার্টস প্রস্তুতকারক সংস্থার সঙ্গে কথা বলে জেনেছে কীভাবে আর্থিক মন্দা তাদের রুটি-রুজিতে কোপ বসিয়েছে। ভারতের বাজারে গাড়ির যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী বৃহত্তম সংস্থা ‘বশ লিমিটেড’-এর সঙ্গে কথা বলে মিন্ট। জানা গিয়েছে– ৫ দিন তারা তাদের তামিলনাডYর গঙ্গাইকোন্ডান প্লান্ট বন্ধ রেখেছিল। এখানেই শেষ নয়– কর্নাটকের নাগানাথাপুরায় তাদের যে ইউনিট রয়েছে– সেটিও তারা দু’দিন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিল। শুধু ‘বশ’ কোম্পানিই নয়– গাড়ির যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী আর এক সংস্থা ‘এক্সাইড ইন্ডাস্ট্রিজ’ও মন্দার জেরে জেরবার। একই অবস্থা ‘কন্টিনেন্টাল অটোমোটিভ কম্পোনেন্টস (ইন্ডিয়া)’– ‘জেড এফ ব্রোজ ইন্ডিয়া অটোমোটিভ সিস্টেম’– ‘স্কেইফলার ইন্ডিয়া’– ‘ব্রেমবো ব্রেকস ইন্ডিয়া’– ‘কল্যাণী ম্যাক্সিওন হুইল’– ‘ভ্যারক গ্রুপ’– ‘ইটন’– ‘আইএসি ইন্ডিয়া’র মতো গাড়ির যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির। তারাও তাদের যন্ত্রাংশ তৈরির পরিমাণ চাহিদা অনুযায়ী কমিয়ে দিয়েছে। এক্সাইড সংস্থার এক আধিকারিক জানান– দীর্ঘ সময় ধরে যদি চাহিদায় ভাটা চলতে থাকে– তাহলে তা সত্যিই উদ্বেগের বিষয়। কল্যাণী ম্যাক্সিওন তাদের ট্রাকের চাকা তৈরির ইউনিট তিনদিনের জন্য বন্ধ রাখে। গাড়ির উইন্ডো ও দরজার পাল্লা প্রস্তুতকারক সংস্থা ব্রোসে তিনটি সিফটের পরিবর্তে এখন একটি সিফটে কাজ করাচ্ছে। গাড়ির ইঞ্জিন ও ট্রান্সমিশনের পার্টস প্রস্তুতকারী সংস্থা সিন্টেরকম ইন্ডিয়া লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জিগনেশ রাভাল বলেন– বিক্রিতে মন্দা অব্যাহত রয়েছে। ফলে যন্ত্রাংশ উৎপাদন কমাতে আমরা বাধ্য হয়েছি। এমনটা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে হয়তো একসপ্তাহ উৎপাদন বন্ধ রাখতে হবে। গাড়ি শিল্পে এই মন্দার জেরে ধাক্কা খেয়েছে ইস্পাত শিল্পও। গত অর্থবর্ষের তুলনায় চলতি অর্থবর্ষে এই শিল্পে আর্থিক বৃদ্ধি ৭ শতাংশ থেকে কমে ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। ফলে এই সেক্টরেও ব্যাপক কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।           

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only