শনিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

রবিবার থেকে ভারী যান বন্ধ টালা ব্রিজে

ভগ্ন স্বাস্থ্যের কারণে কাল– রবিবার সকাল থেকে ভারী যান চলাচল বন্ধ টালা ব্রিজে। শুক্রবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বৈঠকে এই সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে। টালা ব্রিজের স্বাস্থ্য নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে সরকারি স্তরে তৎপরতা চলছিল। যান চলাচল ইতিমধ্যেই নিয়ন্ত্রণও করা হয়েছিল। এ দিন এই ইস্যুতে নবান্নে জরুরি বৈঠক ডেকেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাতে সিদ্ধান্ত হয়েছে তিন টনের বেশি ওজনের গাড়ি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে টালা ব্রিজে। এ দিনের বৈঠক শেষে এ কথাই জানান পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী তথা মেয়র ফিরহাদ হাকিম ।
উল্লেখ্য– প্রতিদিন বিভিন্ন রুটের ৬০০-র বেশি বাস চলে টালা ব্রিজ দিয়ে। রবিবার সকাল থেকেই তা পুরোপুরি বন্ধ করে দিচ্ছে প্রশাসন। টালা ব্রিজে ছোট গাড়ি চললেও তা যেন কোনওভাবেই ৩ টনের বেশি না হয় । এমনটাও জানিয়েছেন মেয়র। অন্যদিকে– পণ্যবাহী গাড়ি ও বাস ঘুরপথে চলবে বলে জানানো হয়েছে। তবে সেটা কোন রুটে চলবে– সেই সম্পর্কে এখনও কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি। সেটা আজ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানিয়ে দেওয়া হবে। নবান্নের তরফে স্পষ্টভাবে এও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে– পুজোর পরে ফের ব্রিজের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। তখন ঠিক করা হবে আদৌ ব্রিজটি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলা হবে কি না– নাকি নতুন করে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে সংস্কার করা হবে।  
মূলত– পুজোর মুখে ভারী যানবাহন না চালিয়ে কীভাবে ভগ্নপ্রায় টালা ব্রিজকে বাঁচিয়ে রাখা যায়– সেটাই এখন সবচেয়ে চ্যালেঞ্জ প্রশাসনের কাছে। সেই মতোই ধারের ভার কমিয়ে ব্রিজের মাঝখান দিয়ে যান চলাচল করানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি জানানো হয়েছে– রাস্তার দু’দিক দিয়ে ৪ ফুট করে মোট ৮ ফুট ঘিরে দেওয়া হবে বাঁশ দিয়ে। এরপর মাঝখান দিয়ে চলাচল করবে গাড়ি। এর পাশাপাশি সমস্যাটি নিয়ে রেলের সঙ্গেও আলোচনা করা হচ্ছে বলে জানান মেয়র। এ দিন কলকাতার মেয়র তথা নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম– পূর্তমন্ত্রী অর*প বিশ্বাস আরও বলেন– মানুষের যাতে দুর্ভোগ না হয়– সে ব্যাপারে সমস্ত চেষ্টা করবে রাজ্য প্রশাসন। রাজ্যের তরফে কথা বলা হচ্ছে মেট্রো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। 
তবে পুজোর সময় উত্তর কলকাতার ঠাকুর দেখতে গিয়ে বিস্তর দুর্ভোগে পড়তে হতে পারে সাধারণ মানুষকে। আরজিকর হাসপাতালের সামনের ব্রিজ ব্যবহার করে পাইকপাড়া দিয়ে বিটি রোডে আসার সংযোগ রাস্তা করলেও একটি রাস্তার উপরই গোটা চাপ পড়বে। ফলে ব্যাপক যানজটের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। যদিও প্রাইভেট গাড়ি চলাচলে কোনও সমস্যা নেই বলেও জানিয়েছে নবান্ন।
টালা ব্রিজের নীচে বহু মানুষের বসবাস। এ দিন ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন– তাঁদের খালপাড়ে বিকল্প থাকার জায়গার ব্যবস্থা করবে সরকার। বিশেষজ্ঞ দল পুজো মিটলেই ফের টালা ব্রিজ পরিদর্শন করবে। তারপর ব্রিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে পূর্ত দফতর।
যদিও এ দিন সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়েছে– বিকল্প রুট শনিবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে সূত্রের খবর– বিকল্প রাস্তার একটা খসড়া ইতিমধ্যেই প্রস্তুত করে ফেলেছে। সেই খসড়া অনুযায়ী একাধিক বিকল্প পথ হতে পারে। এক্ষেত্রে উত্তরমুখী গাড়িগুলিকে চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ থেকে চিৎপুর রোড– কাশীপুর রোড– গোপাললাল ঠাকুর রোড দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হতে পারে। এ ছাড়া চিৎপুর রোড থেকে খগেন চ্যাটার্জি রোড বা চিৎপুর লকগেট ফ্লাইওভার দিয়ে বিটি রোডে ঘুরিয়ে দেওয়া হতে পারে। দক্ষিণমুখী গাড়িগুলিকে চিড়িয়ামোড় থেকে দমদম রোড– নাগেরবাজার– যশোর রোড দিয়ে নিয়ে যাওয়া হতে পারে। এ ছাড়া দক্ষিণমুখী গাড়ির জন্য দমদম রোড– সেভেন ট্যাঙ্কস রোড– নর্দার্ন অ্যাভিনিউ– ইন্দ্র বিশ্বাস রোড হয়ে বেলগাছিয়া বা পাইকপাড়া থেকে টালা হয়ে বেলগাছিয়ার দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হতে পারে। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only