বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

দেউচা পাঁচামির উত্তোলন শুরু হলে ১০০ বছর কয়লা নিয়ে ভাবতে হবে না:­ মুখ্যমন্ত্রী

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কয়লা ব্লক দেউচা পাঁচামির কাজ শুরু হতে চলেছে। বুধবার নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলন করে এ খবর জানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কয়লা ব্লক নিয়ে জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন কাজ ঝুলে ছিল। এ দিন মুখ্যমন্ত্রী জানান– অবশেষে সেই জট কেটেছে। এই খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের অনুমতি পেয়েছে রাজ্য সরকার। আর একটি মউ স্বাক্ষর বাকি– তা হলেই কাজ শুরু করা যাবে। এ দিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন– এখনও অনেক কাজ করতে হবে। দেউচা পাঁচামিতে মাটি ও পাথরের নীচে প্রচুর পরিমাণে কয়লা রয়েছে। এখান থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু হলে আগামী ১০০ বছর আমাদের কয়লা নিয়ে ভাবতে হবে না। তিনি বলেন– শুধু বাংলা নয়– আগামীতে কয়লা উত্তোলন শুরু হলে লাভবান হবে দেশও। এক লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান হবে। 
এ দিন মুখ্যমন্ত্রী জানান– কয়লাখনির কাজ শীঘ্রই শুরু হলেও কয়লা উত্তোলন শুরু হতে প্রায় পাঁচ বছর সময় লাগবে। তার আগে এর জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি করা হবে। এখানে পাথরের অনেক নীচে কয়লা রয়েছে। কাজেই আগে পাথর কেটে প্রকল্প এলাকাকে তৈরি করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়– ওই কয়লা ব্লকে প্রায় ২১০২ মিলিয়ন টন কয়লা মজুদ রয়েছে। মোট ১১ মৌজা এই প্রকল্পের আওতায় আসবে। সামগ্রিকভাবে কাজ হবে ১১২২২.৫ একরে। এখানে প্রায় চার হাজার মানুষের বাস রয়েছে। আছে ৩৮৯টি বাড়ি। এখানে প্রকল্প এলাকার আওতায় থাকা বাসিন্দাদের ৪০ শতাংশই আদিবাসী। 
মুখ্যমন্ত্রী বলেন– এই মুহূর্তে মানচিত্র ও পরিকল্পনা তৈরির কাজ হবে। তবে মূল কাজ করার আগে স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে আলোচনা করেই তা করা হবে। তিনি এও বলেন– এই প্রকল্প র*পায়িত হলে সবচেয়ে লাভবান হবেন এই অঞ্চলের মানুষ। কাজেই তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করে– তাঁদের আস্থা অর্জন করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে আমি নিজে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলব।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান– এই কাজের জন্য মোট দু’টি কমিটি গঠন করা হচ্ছে। একটি তৈরি হচ্ছে মুখ্যসচিব মলয় দে-র নেতৃত্বে। অন্যটি হবে স্থানীয় স্তরে ডিএমের নেতৃত্বে। মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে থাকা কমিটিতে রয়েছেন রাজ্যের ভূমি দফতর– দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ সহ একাধিক দফতরের সচিবরা। থাকছেন স্থানীয় বিধায়ক– স্থানীয় মানুষদের প্রতিনিধিরাও। ওই কমিটি একটি সমীক্ষা করবে এলাকায়। সেই সমীক্ষার রিপোর্ট দেখেই পরবর্তী স্তরের কাজ শুরু হবে। এই কমিটিই স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবে। যেহেতু এই প্রকল্প এলাকায় ৫ শতাংশ বনভূমি রয়েছে– তাই পুনরায় গাছ লাগানোর কাজ হবে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নেতৃত্বে। কাজ শুরু হলে প্রকল্প এলাকায় বায়ুদূষণ নিয়ে অভিযোগ উঠে কাজ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই ওখানে বিষয়টি দেখার জন্য একটি আঞ্চলিক অফিস তৈরি করা হবে। 
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন– প্রকল্পের জন্য ওখানকার বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের সব ধরনের ব্যবস্থা সরকার করবে। বাসিন্দাদের কারও কথায় কান দেওয়ার দরকার নেই। ভয়ও পাওয়ার দরকার নেই। পরিবারগুলির দায়িত্ব নেবে রাজ্য সরকার। কোথাও সমস্যা হলে আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করা হবে। ওই এলাকার বাসিন্দাদের জীবন-জীবিকার বিষয়টি সরকার দেখবে। স্থানীয় মানুষদের যুক্ত করেই কাজ হবে। 

উল্লেখ্য– শুরুতে এই কোলব্লক থেকে কয়লা উত্তোলনে পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি বিহার– কর্নাটক– পঞ্জাব– উত্তরপ্রদেশ– তামিলনাড়ু এবং কেন্দ্রীয় একটি সংস্থার কাজ করার কথা ছিল। কিন্তু পরে অন্য রাজ্যগুলি পিছিয়ে যায়। ফলে ১২.৩১ বর্গ কিলোমিটার এলাকা থেকে কয়লা তোলার বরাত এককভাবে পায় রাজ্য। তার পরেও চূড়ান্ত ছাড়পত্রের জন্য বিষয়টি ঝুলে ছিল। এবার সে বিষয়ে ছাড়পত্র আসায় কাজের উদ্যোগ শুরু করল রাজ্য সরকার। রাজ্যকে কাজ শুরু করার জন্য ৫০ কোটি টাকা সিকিউরিটি মানি দিতে হবে। আপাতত দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ থেকে ১০০ কোটি টাকা নিয়ে কেন্দ্রকে দিচ্ছে রাজ্য। পরে কেন্দ্র টাকা ফিরিয়ে দিলে এই ৫০ কোটি টাকা তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only