বুধবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

‘সন্ত্রাসের শিকড় প্রতিবেশী দেশেই’, মোদির নিশানায় পাকিস্তান

সন্ত্রাসবাদের শক্ত ভিত গেড়ে বসেছে আমাদের প্রতিবেশী দেশে। সেখানেই সন্ত্রাসের শিকড়কে মদদ দেওয়া হচ্ছে। ফলে আজ এর এত বাড়বাড়ন্ত। ৯/১১-র টুইন টাওয়ার হামলার ১৮তম বার্ষিকীর দিনে এ ভাবে নাম না করেই প্রতিবেশী পাকিস্তানকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাকিস্তানকে বিঁধে সন্ত্রাসের মোকাবিলায় বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দেন তিনি। ‘ সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা করতে আমাদের দেশ ভারতবর্ষ পরিপূর্ণ ভাবে সক্ষম এবং ভবিষ্যতে সেটা বিশ্ববাসী দেখতেও পাবে। যারা সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেয় ও প্রশিক্ষণ দেয়– তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সমগ্র বিশ্বকে এক হয়ে শপথ নিতে হবে।’ উত্তর প্রদেশের মথুরাতে ‘ন্যাশনাল অ্যানিম্যাল ডিজিজ কনট্রোল প্রোগ্রাম’-এর সূচনার পর ভাষণ দিতে গিয়ে বুধবার তিনি এই মত ব্যক্ত করেন। 
এ দিন মোদি আরও বলেন– যারা এই সন্ত্রাসের আদর্শকে ছড়ানোর চেষ্টা করছে– যারা এদের আশ্রয় দিচ্ছে– প্রশিক্ষণ দিচ্ছে– তাদের বিরুদ্ধে সমগ্র পৃথিবীর মানুষকে এগিয়ে এসে এক সন্ত্রাস-বিরোধী ঘোষণাপত্র তৈরি করা উচিত। সন্ত্রাসের মোকাবিলায় চাই শক্ত প্রতিরোধ ও জবাব।
বক্তব্যের এই পর্যায়ে তিনি সম্প্রতি দেশের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক সহ আরও বেশকিছু সফল প্রতিরক্ষা কর্মসূচির প্রশংসার উদ্দেশ্যে বলেন– ‘হামনে দিখায়া ভি হ্যায়– আউর আগে ভি দিখায়েঙ্গে।’ কার্যত তিনি পাকিস্তানের উদ্দেশেই এই সতর্কবাণী দিলেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। পুলওয়ামা– বালাকোটের সময় দেশ জঙ্গিবাদকে রুখতে ষথেষ্ট সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। সে ক্ষেত্রে যোগ্য জবাব পেয়েছে পাকিস্তান। আর এর ফলে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠীগুলিও বেশ জ· হয়েছে– কড়া বার্তা গেছে পাকিস্তানের ইমরান-সরকারের দিকে। 
সংসদের বিগত অধিবেশনে পাস হয়েছে সংশোধিত ইউএপিএ( আনল’ফুল অ্যাকটিভিটিজ প্রিভেনশন অ্যাক্ট)। এর ফলে বেশ কয়েকজন পাক-মদতপুষ্ট জঙ্গিকেও সন্ত্রাসী অ্যাখ্যা দেওয়া গেছে প্রথম ধাপেই। লস্কর-ই-তৈবা প্রধান হাফিজ সায়িদ– ২৬/১১-র মুম্বই হামলার মূল চক্রী জাকিউর রহমান লাখভি– আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিম– জৈশ-ই-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারকে এই সংশোধিত আইন অনুযায়ী সন্ত্রাসীর তালিকায় আনা হয়েছে। পাকিস্তানের মাটি ব্যবহার করে তারা বারবার ভারতে সন্ত্রাসবাদী-হামলা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইউএপিএ-এর সংশোধনীকে ‘সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় একটি নয়া পদক্ষেপ’ হিসবেই বিবেচনা করেছেন। তিনি বলেন– এখন আর সন্ত্রাসীরা ছদ্মনামে তাদের কাজকর্ম লুকিয়ে রাখতে পারবে না। আজ সন্ত্রাস এমন একটি আদর্শে পরিণত হয়েছে যা আর কোনও নির্দিষ্ট সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। এটি এখন সারা বিশ্বের জন্য মাথাব্যথার কারণ। 
সম্প্রতি কাশ্মীর নিয়েও বেশ নাক গলিয়েছে পাকিস্তান। মোদি-সরকার বারবার সেটাকে ‘অভ্যন্তরীণ ব্যাপার’ বললেও পাকিস্তান আন্তর্জাতিক স্তরে এটিকে আলোচনার ইস্যুতে পরিণত করেছে। অথচ সেই দেশটিই সন্ত্রাসবাদকে পানি-সিঞ্চন করছে। তাই এই ৯/১১-র দিনে প্রধানমন্ত্রী মোদির বক্তব্যে সন্ত্রাসের মদদদাতাদের তীরবিদ্ধ করার বিষয়টিকে পাকিস্তানের দিকে স্পষ্ট বার্তা বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।          

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only