বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

রাষ্ট্রসংঘে হিরো এরদোগান, কাশ্মীর– গোলান– মিশর ইস্যুতে ঝড় তুললেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট

রাষ্ট্র সংঘের সম্মেলনে জ্বালাময়ী ভাষণ দিয়ে হিরো বনে গেলেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান। মঙ্গলবার জেনারেল অ্যাসেম্বলির ৭৪তম বার্ষিক অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুর ওপর আলোকপাত করে নজর কাড়েন তিনি। এ দিন তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে কাশ্মীর, জেরুসালেম, গোলান, ইসরাইল, মিশর, আমাজন, জলবায়ু পরিবর্তন, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার মতো নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কাশ্মীর ইস্যুতে এভাবে মুখ খোলায় এরদোগানকে ধন্যবাদ জানান পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তিনি বলেন, ভারত অধিকৃত কাশ্মীরের সাংবিধানিক মর্যাদা তুলে নেওয়ার পর গত ৫০ দিনে উপত্যকায় যে মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে– তা ১৯৬ দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সামনে তুর্কি প্রেসিডেন্ট যেভাবে তুলে ধরেছেন– তা আর কোনও রাষ্ট্র প্রধান করেননি। এরদোগান বলেছেন, রাষ্ট্র সংঘের আওতাধীন থাকা সত্ত্বেও বিগত ৭২ বছরে কাশ্মীর সংকটের কোনও সুরাহা হয়নি। ৫ আগস্টের পর থেকে কারফিউ মোতায়েন হওয়ায় উপত্যকাবাসী অবরুদ্ধ জীবনযাপন করছেন। তাঁর কথায়– কাশ্মীর ইস্যু মোটেই দ্বিপাক্ষিক নয়। সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির প্রশ্ন জড়িত এর সঙ্গে। তাই অবিলম্বে ভারত ও পাকিস্তানকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সূত্র বের করার তাগিদ দেন এরদোগান। এক্ষেত্রে তাঁর প্রস্তাব– জাতি-ধর্ম নয়– মানবিক ইনসাফই হবে সমাধানের মাপকাঠি। না হলে সংঘাত-সংঘর্ষের পথে সমাধান চিরকাল অধরাই রয়ে যাবে।
ইসরাইলের সীমান্ত কোথায়? কিবলার প্রশ্নে কারও তোয়াক্কা করব না
ইসরাইল ইস্যুতে এ দিন সবথেকে বেশি সুর চড়ান প্রেসিডেন্ট এরদোগান। ১৯৪৮ সালের ম্যাপ তুলে ধরে এরদোগান প্রশ্ন করেন– ইসরাইলের সীমান্ত কোথায়? গত ৭ দশকে তারা সর্বভুক প্রাণীর মতো ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গিলে খাচ্ছে। ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্র সংঘে গৃহীত প্রস্তাবে ফিলিস্তিনকে ৪৫ এবং ইসরাইলকে ৫৫ শতাংশ ভূখণ্ড দেওয়া হয়েছিল। যদিও সেটাও আদৌ ইনসাফ ছিল না। তবুও ফিলিস্তিনিরা সেই প্রস্তাব মেনে নিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে– এখন প্রায় ৯০ শতাংশ ভূখণ্ড জবর দখল করে নিয়েছে ইসরাইল। এখন তারা জেরুসালেম– গোলান মালভূমি এমনকী জর্ডন উপত্যকা এবং ডেড-সির একাংশের ওপরেও দখলদারী ও সার্বভৌমত্ব কায়েমে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। ১৯৪৭– ১৯৬৭ এবং ২০১৭ সালের মানচিত্র হাতে নিয়ে তুলনামূলক আলোচনা করেন এরদোগান। 
সম্প্রতি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জর্ডন উপত্যকায় তাদের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিতে গিয়ে মানচিত্র হাতে নিয়ে ভূগোল শিক্ষক সেজেছিলেন। এ দিন এরদোগানও সেভাবেই মানচিত্র নিয়ে ভূগোল অধ্যাপকের ভূমিকা নেন। দর্শকাসনে বসে থাকা বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র প্রধানদেরকে এরদোগান জিজ্ঞেস করেন– কোনটা ইসরাইলের সীমান্ত– তা আপনারাই বলুন। এভাবে কুমিরের মতো গোটা ফিলিস্তিনকে গিলে খাচ্ছে ইসরাইল। এই আগ্রাসন ও দখলদারী কি অবৈধ নয়?  
এরদোগান আরও বলেন– পূর্ব জেরুসালেম হল প্রস্তাবিত স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী। তাছাড়া এখানেই রয়েছে মুসলিম উম্মাহর প্রথম কিবলা পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস। এই সুপ্রাচীন ইসলামি ঐতিহ্যবাহী ইবাদাতগাহেই হয়েছিল বিশ্বনবী সা.-এর পবিত্র মিরাজ। তাই বায়তুল মুকাদ্দাসকে পুরোপুরি ইসরাইলি দখলমুক্ত করতে কারও তোয়াক্কা করব না বলে হুঙ্কার দেন এরদোগান। বলেন– রাষ্ট্র সংঘ এবং আন্তর্জাতিক মহল সময়োপযোগী ও ইনসাফপূর্ণ পদক্ষেপ করুক। একটা দেশ যে নিজেই অবৈধ– সে আবার অন্য দেশের ভূখণ্ড একের পর এক দখল করে চলেছে। অথচ নির্বিকার সারাবিশ্ব। নীরব থাকা মানে ইসরাইলকে সমর্থন করা। সারাবিশ্ব ইসরাইলের দিকে ঢলে পড়লেও তুরস্ক একাই ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়ে থাকবে বলেও সাফ জানিয়ে দেন তিনি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only