বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

৩৭০ ধারা রদের পর দু'মাস হতে চলল, কেমন আছে কাশ্মীর?

৩৭০ ধারা রদের পর থেকে ৫২ দিন অতিক্রান্ত। কাশ্মীর যথারীতি সেই অবরুদ্ধই। কেন্দ্রের তরফে দাবি করা হচ্ছে, উপত্যকার পরিস্থিতি শান্ত। কোথাও একটা বুলেট পর্যন্ত ব্যবহার করতে হয়নি পুলিশকে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে– সত্যিই যদি পরিস্থিতি শান্ত– স্বাভাবিক থাকবে তাহলে ৩৭০ ধারা রদের এতদিন পরও কেন প্রশাসনিক বিধি নিষেধে এত কড়াকড়ি? সম্প্রতি– মহিলা সমাজকর্মীদের একটি তথ্য অনুসন্ধানকারী দলও কাশ্মীর ঘুরে এসে জানিয়েছে সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। সামান্য কারণে বাড়ির পুরুষ সদস্যদের তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। রেহাই দেওয়া হচ্ছে না শিশুদেরও। 

বুধবার কার্যত বন্ধের চেহারায় দেখা গিয়েছে কাশ্মীরকে। রাস্তায় পাবলিক পরিবহণ ব্যবস্থা ছিল না বললেই চলে। অধিকাংশ দোকান বন্ধ ছিল। শুধুমাত্র টিআরসি চক্-লাল চক্ এলাকার মতো বড় বড় মার্কেটে কিছু দোকান খোলা ছিল। শহরের কিছু অংশে আন্তঃজেলা ক্যাব ও অটো চলতে দেখা গিয়েছে। স্কুল খোলা থাকলেও পডYয়াদের উপস্থিতি সেখানে ছিল নগন্য। নিরাপত্তার কারণে অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। হান্দওয়ারা ও কুপওয়ারা বাদে কাশ্মীরের সর্বত্র ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।  এখনও গৃহবন্দি রাখা হয়েছে রাজ্যের দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতিকে। ন্যাশনাল কs³ারেন্সের শীর্ষ নেতা ফারুক আবদুল্লাহকে জনসাধারণ নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করা হয়েছে। যদিও প্রশাসনিক আধিকারিকদের দাবি– কোথাও বিধিনিষেধ জারি করা হয়নি। শুধু অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে।

গত সপ্তাহেই মহিলা সমাজকর্মীদের একটি তথ্য অনুসন্ধানকারী টিম কাশ্মীর ঘুরে এসে যে বর্ণনা দিয়েছে তা রীতিমতো চাঞ্চল্যকর। তাদের দাবি– কিশোর ও যুবকদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী। এমনকী ১০-১২ বছরের শিশুদেরও বাদ দেওয়া হচ্ছে না। তাদের বাবা বা পরিবারের কোনও সদস্য তাদের উদ্ধারের জন্য গেলে তাদের থেকে ২০-৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। ন্যাশনাল ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ওমেন– প্রগতিশীল মহিলা সংগঠন– মুসলিম ওমেন ফোরম প্রভৃতি সংগঠনগুলির সদস্যারা এই ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং দলে ছিলেন। ফোরামের নেত্রী তথা প্রাক্তন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যা সৈয়দা হামিদ কাশ্মীরের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন– ‘বান্দিপোরায় এক ছাত্রী স্কুল খুলতে পারে এই আশায় রাতে ল্যাম্প জ্বালিয়ে পরীক্ষার পড়াশোনা করছিল। তা দেখতে পেয়ে পাঁচিল টপকে সেনা বাহিনীর লোকরা তাদের বাড়িতে ঢুকে পড়ে। এভাবে রাতে আলো জ্বালানোয় কারফিউ নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে দাবি করে তারা জেরা করার জন্য ওই ছাত্রীর বাবা ও নাবালক ভাইকে ধরে নিয়ে যায়। সেই থেকে এখনও পর্যন্ত তারা আটক রয়েছে। ঘরে ফিরতে পারেনি।’ মহিলা সমাজকর্মীদের আরও অভিযোগ– ১৪-১৫ বছরের কিশোরদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে সেনা বাহিনী। তাদের উপর নির্যাতন করা হচ্ছে। হেনস্থা করা হচ্ছে মহিলাদেরও। তাদের নিকাব খুলতে বাধ্য করা হচ্ছে। তথ্য অনুসন্ধানকারী দলের দাবি– কাশ্মীরি যুবকদের বিরুদ্ধে ৩৭০ ধারা রদের পর থেকে এ পর্যন্ত যত এফআইআর হয়েছে সব বাতিল করতে হবে। সেনা বাহিনীর যেসব অফিসারদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠছে তার তদন্ত করতে হবে।  
যদিও সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত দাবি করেছেন– কাশ্মীরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক। সাধারণ মানুষ স্বাধীনভাবেই রাস্তায় ঘোরা ফেরা করছে। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only