রবিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

চন্দ্রযান নিয়ে মাতামাতির মধ্যেই বিপুল কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে বিএসএনএল


চিন্ময় ভট্টাচার্য: আংশিক ব্যর্থ কোটি কোটি টাকার চন্দ্র অভিযান। তবুও ইসরো কর্তার পাশে থেকে জাতীয়তাবাদের প্রমাণ দিতে ব্যস্ত কেন্দ্রের মোদি সরকার। তবে, ইসরোর কর্মী ও বিজ্ঞানীদের পাশে থাকলেও সরকারের এই জাতীয়তাবাদী আবেগের ন্যূনতম ছোঁয়াও পাচ্ছেন না রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিফোন সংস্থা বিএসএনএলের কর্মীরা। উলটে, এই সংস্থার ৭০ হাজার কর্মীকে ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছে মোদি সরকার। বিএসএনএল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই স্বীকার করেছে, অন্তত ৭০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছাবসর দেওয়ার একটা পরিকল্পনা আনা হয়েছে। কারণ, এই সরকারি টেলিফোন সংস্থার আয়ের ৭৫ শতাংশই নাকি কর্মীদের বেতন দিতে খরচ হয়ে যায়।


বর্তমানে বিএসএনএলের ১ লক্ষ ৬৫ হাজার কর্মী রয়েছেন। তার মধ্যে ৭০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছাবসর দেওয়া হলে, কর্মীসংস্যা পৌঁছবে ৯৫ হাজারে। তাতেই নাকি তাদের সব কাজ চলে যাবে বলে বিএসএনএল কর্তৃপক্ষের দাবি। এই পরিস্থিতিতে এই সরকারি টেলিফোন সংস্থার নিয়মিত কর্মীরা এখনও অগস্ট মাসের বেতন পাননি। চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকরা ফেব্রুয়ারি থেকে বেতন পাচ্ছেন না। এই ব্যাপারে শ্রমিক ও কর্মচারীদের প্রতি সরকার উদাসীনের মতো আচরণ করছে। এই অভিযোগে আন্দোলনে নেমেছেন বিএসএনএলের কর্মীরা। তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি। সংগঠনের সভানেত্রী দোলা সেন জানিয়েছেন, তাঁরা আগামী দিনেও বিএসএনএলের কর্মীদের পাশে থাকবেন।


দোলা সেন আরও জানিয়েছেন, বিএসএনএল শুধু নয়। কেন্দ্রীয় সরকার ৪২টি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার প্রতিবাদে আইএনটিটিইউসি আন্দোলন চালাচ্ছে। রিলে অনশন চলছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন কারখানার গেটেও বিভিন্ন সময় বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে।  দোলা সেনের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ শিল্পপতি অম্বানি গোষ্ঠীর টেলিফোন সংস্থা রিলায়েন্সকে সুবিধা করে দিতেই বিএসএনএলের মতো সরকারি সংস্থাকে দুর্বল করে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে মোদি সরকার।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only