বুধবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

মানুষ মরছে আর আপনারা রাজনীতি করছেন, রাষ্ট্র সংঘের জলবায়ু সম্মেলনে অগ্নিকন্যা গ্রেটা

বয়স বড় জোর পনোরো-ষোলো বছর। এই বয়সেই জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আন্দোলন করে বিশ্বের নজর কেড়েছে সুইডিশ কিশোরী গ্রেটা থানবার্গ। রাষ্ট্র সংঘের জলবায়ু সম্মেলনে উপস্থিত বিশ্বের তাবড় রাষ্ট্র নেতাদের রীতিমতো ধমক দিলেন গ্রেটা। ১৯৬ দেশের রাষ্ট্র প্রধান ও প্রতিনিধির উদ্দেশ্যে তার প্রশ্ন– এত সাহস হয় কী করে আপনাদের। আপনারা সার্বভৌম ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও কেন আমাদের শৈশব ও স্বপ্ন চুরি হয়ে যাবে? কেন আমরা এই পৃথিবীর বাসযোগ্যতা ধরে রাখতে পারব না? আপনাদের সব কাজ আমরা লক্ষ্য করছি। দর্শকাসনে বসে বিভিন্ন দেশের প্রধানমন্ত্রী– রাষ্ট্র পতি ও বিদেশমন্ত্রীরা সোমবার এভাবে গ্রেটার প্রশ্নবাণে বিদ্ধ হলেন। তখন তার চোখ থেকে যেন আগুনের স্ফূলিঙ্গ বের হচ্ছিল। হঠাৎ দৃষ্টি যায় প্রথম সারিতে বসে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিকে। চোখে চোখ রেখে গ্রেটা বলে, আপনাদের দায়িত্ব অনেক। তাই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ইস্যু বাছাই করে কার্যকর করতে হবে। 
উল্লেখ্য, প্রথম থেকেই বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বির*প মনোভাব ব্যক্ত করে চলেছেন ট্রাম্প। প্যারিস আন্তর্জাতিক জলবায়ু চুক্তি-২০১৭তে সইও করেননি। তাঁর মতে– ‘এসব আইওয়াশ– বোগাস। জলবায়ু টলবায়ু সব চিনের ধাপ্পাবাজি’। সোমবারের জলবায়ু সম্মেলনে ট্রাম্প থাকবেন না বলে আগেই জানিয়েছিলেন। তবে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে শেষমেষ সম্মেলনে হাজির হলেও মাত্র মিনিট ১৫ ছিলেন– কিন্তু বক্তব্য রাখেননি ডন। এদিকে গ্রেটা তোপ দেগে বলতে থাকে– উজাড় হয়ে যাচ্ছে বৃক্ষরাজি। গলে যাচ্ছে বরফ। বাড়ছে সমুদ্রের উচ্চতা। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গ্রিনহাউজ গ্যাসের নির্গমণ। জল– স্থল– আকাশে দূষণের মাত্রা দিন দিন লাফিয়ে বাড়ছে। মানুষ ভুগছে– মারা যাচ্ছে। আর আপনারা সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থ দেখছেন। পরিবেশ ও প্রকৃতিকে ম্যানমেড দূষণের করাল গ্রাস থেকে রক্ষায় আপনারা নির্বিকার।
এভাবেই বিশ্বনেতাদের নিশানা করে অগ্নিকন্যার ভূমিকা নেয় গ্রেটা। যদিও তার বক্তব্য শুনে প্রশংসার সুরে ট্রাম্প বলেন– একঝলক দেখে মনে হল খুবই ভালো মেয়ে। আশা করি তার উজ্জ্বল ও দুর্দান্ত ভবিষ্যত রয়েছে। উল্লেখ্য– স্টকহম থেকে সৌরচালিত বোটে চড়ে আমেরিকা যায় গ্রেটা। বিমান থেকে দূষণ ছড়ায় বলে আকাশপথ এড়িয়ে দীর্ঘ সফরকে পরিবেশ বান্ধব করে বিশ্ববাসীকে নতুন বার্তা দেয় সে।
গ্রেটা আরও বলে– আজ আমার এখানে থাকার কথা নয়। স্কুলে থাকার কথা ছিল। আমার ক্লাস অফ যাচ্ছে। তবুও এসেছি কারণ– আপনাদের অন্তঃসারশূন্য ভাষণ আমাদের প্রজন্মের সবকিছু কেড়ে নিচ্ছে। পুরো বাস্তুতন্ত্র ভেঙে পড়ছে। আমরা ব্যাপক ধ্বংসের মুখে পতিত হয়েছি। আপনারা শুধু আর্থিক উন্নয়ন আর উন্নত লাইফস্টাইলের স্বপ্ন ফেরি করে ভোট নিচ্ছেন। বাস্তব পরিস্থিতি জেনেবুঝেও যদি মুখ ফিরিয়ে থাকেন বা ব্যর্থ হন– তাহলে আপনাদেরই পাপ হবে।    

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only