বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

রাজগ্রাম পাথর শিল্পাঞ্চলে খালাসির মৃত্যু, উত্তেজিত জনতা অগ্নি সংযোগ করে লরিতে


দেবশ্রী মজুমদার, রামপুরহাট, ৫ সেপ্টেম্বর:-  লরির নিচে পিষ্ট হয়ে মৃত্যু এক খালাসির। ঘটনার জেরে উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। উত্তেজিত জনতা লরি, পাথর ব্যবসায়ীর অফিস এবং একটি অত্যাধুনিক ডিজেল জেনারেটরে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রায় ঘণ্টা ছয়েক পর পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের মুরারই থানার রাজগ্রাম পাথর শিল্পাঞ্চলে জিতপুর গ্রামে। মৃত খালাসির নাম হিরন শেখ (২২)।

জানা গেছে, মৃতর বাড়ি মুরারই থানার ধৃতরা গ্রামে। বৃহস্পতিবার সকালে জিতপুরের একটি খাদান থেকে ১০ চাকা লরিতে পাথর বোঝাই করে সেখান থেকে গাড়ি পিছন দিকে বের করছিলেন চালক। চলন্ত গাড়িতে হিরণ চড়তে গিয়ে পা পিছলে লরির নিচে চলে যায়। তার কোমরের নিচ দিয়ে লরির চাকা চলে যায়। অবস্থা বেগতিক বুঝতে পেরে চালক লরি ছেড়ে পালিয়ে যায়। সেসময় ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন পাথর ব্যবসায়ী সিরাজুল খান। তাকে সাহায্যের আবেদন করেন শ্রমিক থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু তিনি আসছি বলে এলাকা ছাড়েন। যদিও সিরাজুলের দাবি তিনি রক্ত দেখে আর থাকতে পারেননি। তবে অ্যাম্বুলেন্স এবং পুলিশকে খবর দিয়েছিলেন তিনিই। তাছাড়া তার ক্যাশার থেকে পাথর বোঝাই হয়নি, ঘাতক লরিও তার নয়। তা সত্ত্বেও এলাকার মানুষ তার অফিসে হামলা চালিয়েছে। এদিকে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে এলাকায় পড়ে থেকে বাঁচার আকুতি করেছে হিরণ। কিন্তু পাথর শিল্পাঞ্চলে কোন অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় এবং পাথর ব্যবসায়ীরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে না দেওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। এরপরেই শ্রমিক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ঘাতক লরিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপরেই সিরাজুল খানের অফিস ও অত্যাধুনিক ডিজেল জেনারেটরে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনার দুই ঘণ্টা পর এলাকায় পুলিশ ঢোকার চেষ্টা করে। কিন্তু উত্তেজিত মানুষের প্রতিরোধে পিছিয়ে আসে। বেলা চারটে নাগাদ রামপুরহাট মহকুমা পুলিশ আধিকারিক বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী খাবারের দোকানি নাজেমা বিবি বলেন, “চোখের সামনে ছেলেটা মারা গেল। এলাকার মানুষ জল চাইতে এসেছিল। আমি দুধ গরম করে খাওয়ায়। হিরণ আমার কাছে বার বার তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছিল। কিন্তু কোন অ্যাম্বুলেন্স বা পুলিশের গাড়ি মেলেনি। ফলে চোখের সামনে ছেলেটাকে মরতে দেখলাম। হিরণের মামা তহিদুল শেখ বলেন, “সকালে পাথর বোঝাই করতে এসেছিল। আর বাড়ি ফিরল না। এখানে পাথর ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকা আয় করছে। অথচ একটি অ্যাম্বুলেন্স নেই। প্রাথমিক চিকিৎসা টুকুও নেই। কোন কিছু ঘটে গেলে ছুটতে হয় ১২ কিলোমিটার দূরে রাজগ্রাম স্বাস্থকেন্দ্রে”। এলাকার মানুষের দাবি অবিলম্বে পাথর শিল্পাঞ্চলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু করতে হবে। স্থানীয় বাসিন্দা গাউস শেখ বলেন, “এলাকার মানুষ উত্তেজিত হয়ে আগুন ধরিয়েছে”। আন্দোলনকারীরা দাবি করেন ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। মালিক পক্ষকে এলাকায় আসতে হবে। সেই মতো বিকেলের দিকে পুলিশের সঙ্গে পাথর ব্যবসায়ীরা গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আসগার আলি বলেন, “আমাদের একটা অ্যাম্বুলেন্স ছিল। কিন্তু সেটা বিকল হয়ে গিয়েছে। অবশ্য পঞ্চায়েত থেকে অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু এলাকার মানুষ ঢুকতে দেয়নি”।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only