রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

কেন পোলিও ড্রপস বয়কট করল গ্রামবাসী!

দেবশ্রী মজুমদার, রামপুরহাট, ১৫ সেপ্টেম্বর: রাস্তা মেরামতের দাবিতে পোলিও ড্রপস বয়কট গ্রামবাসীদের। আন্দোলনের এই পহ্না কতটা যুক্তিসঙ্গত প্রশ্ন তুলেছেন গ্রামের মুরুব্বি থেকে স্বাস্থ্যকর্মী ও পাশাপাশি প্রশাসনের আধিকারিকরা।  রাস্তার দাবিতে পোলিও বয়কট করলেও,  প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর  পোলিও বয়কট  ছাড়েন গ্রামবাসীরা। দুপুরের দিকে পোলিও খাওয়ানো শুরু করা হয়। তবে কাজ না হলে ফের পোলিও বয়কটের হুমকি দিয়েছে পাঁচটা গ্রামের বাসিন্দারা।

     বীরভূমের মুরারই ২ নম্বর ব্লকের চৌতি ভাদিস্টা, বাগীশপুর, গোয়ালকোন্ডা, মহম্মদপুর গ্রামের রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে খারাপ। রাস্তা দিয়ে চলাচল করা যায় না। ফলে এক পশলা বৃষ্টি হলেই গ্রামবাসীদের যাতায়াত করতে প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে রবিবার পোলিও বয়কট করে প্রতিবাদের রাস্তায় হাঁটেন গ্রামবাসীরা। ফলে সকাল থেকে ৬১৮ জন শিশুকে পোলিও না খাইয়ে আন্দোলন শুরু করেন গ্রামবাসীরা। গ্রামের বাসিন্দা মুস্তাক হোসেন, চৌতি গ্রামের গৃহবধূ নুরসেদা বিবিরা বলেন, “আমরা বসবাস করি মুরারই ২ নম্বর ব্লকে। আবার বিধানসভায় ভোট দিই নলহাটিতে। থানা পাইকর। স্বাস্থ্যকেন্দ্র পাইকর। রাস্তার অভাবে ব্লক, থানা কিংবা স্বাস্থকেন্দ্রে যেতে হয় কয়েক কিলোমিটার ঘুরে। অথচ চার কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার করলে খুব সহজেই পৌঁছান যায়। গ্রামের রাস্তা অত্যন্ত খারাপ। তাছাড়া রাস্তার ধারে কয়েকটি দিঘি রয়েছে। তাতে গার্ডওয়াল না থাকায় রাতের দিকে অনেকেই দিঘিতে পড়ে যায়। গ্রামের রাস্তায় কোন পথবাতি নেই। ফলে সন্ধ্যা হলেই অন্ধকারে ডুবে যায় পাঁচটি গ্রাম। প্রশাসনকে বার বার জানিয়েও কোন লাভ হয়নি। ভোটের সময় সকলেই এসে প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু ভোট ফুরলেই সবাই ভুলে যায়। তাই আমরা এই নিজের সন্তানদের ক্ষতি হবে জেনেও আন্দোলন শুরু করেছি”। কুশমোড় ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের স্বামী আব্দুল গনি বলেন, “গ্রামবাসীদের দাবি নাহ্য। আমিও বহুবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। কিন্তু কাজ হয়নি। ফলে গ্রামবাসীরা পঞ্চায়েতকে দোষারোপ করছে”। নলহাটির বিধায়ক মইনুদ্দিন সামস বলেন, “বিষয়টি আমারা জানা আছে। অনেকটা রাস্তা হয়েছে। কিছু বাকি রয়েছে। দ্রুত সেই কাজ শেষ করা হবে। পোলিও বয়কটের খবর পেয়ে গ্রামে যান মুরারই ২ নম্বর ব্লকের বিডিও, পাইকর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বি এম ও এইচ কার্তিক পাত্র, পাইকর থানার ওসি পূর্ণেন্দু বিকাশ দাস। তারা গ্রামে গিয়ে রাস্তা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন। সেই সঙ্গে গার্ডওয়াল নির্মাণের জন্য জেলা পরিষদের কাছে প্রস্তাব পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেন। প্রশাসনের কাছে প্রতিশ্রুতি পেয়ে দুপুরের দিকে পোলিও খাওয়ানো শুরু হয়। রামপুরহাট মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক পরমার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ফোন করে পাওয়া যায়নি। তবে বীরভূমের মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক হিমাদ্রী আরি বলেন, বাচ্চাদের জীবনের সাথে জড়িয়ে পালস পোলিও ড্রপস। তাই সেটা কোন অজুহাতেই বন্ধ করা উচিত নয়। তাঁদের সমস্যা থাকতে পারে। সেটা বিভাগীয় দপ্তরে জানাতে হবে। তারজন্য  পালস পোলিওকে বেছে নেওয়া ঠিক নয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only