রবিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

গুজরাত দাঙ্গা: অশোক পারমারের দোকান উদ্বোধনে আনসারি

এখন
তখন
২০০২ সালে গুজরাত দাঙ্গার সেই বীভৎস দুই ছবি। একদিকে অশ্রুসজল চোখে প্রাণভিক্ষার কাতর আর্জি কুতুবউদ্দিন আনসারির। অন্যদিকে, কপালে গেরুয়া ফেট্টি বেঁধে তলোয়ার হাতে আস্ফালন অশোক পারমারের। যা কাঁপিয়ে দিয়েছিল গোটা দেশের বিবেককে। পরের ছবিটি ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর শুক্রবারের। আহমদাবাদে নিজের জুতোর দোকানের উদ্বোধনের জন্য এক সময়ের গুজরাত দাঙ্গার আইকন অশোক পারমার বেছে নিলেন প্রিয় বন্ধু আনসারিকেই। যে গুজরাত দেখেছিল দাঙ্গার বীভৎসতা, সেই গুজরাত জুম্মাবারে চাক্ষুষ করল সম্প্রীতির সবথেকে সুখকর ছবিটি। মাঝখান দিয়ে পার হয়ে গিয়েছে ১৭টি বছর। সেদিনের দুই ‘চিরশত্রু’ আজ অভিন্ন হ*দয় বন্ধু। এতদিনে আমূল বদলে গিয়েছেন পারমার। জানালেন, অল্প বয়সে অন্যের প্ররোচনায় বড় অন্যায় করে ফেলেছিলেন। তারজন্য আজও অনুতপ্ত। সম্প্রীতি– সৌর্হাদ্যই এখন তাঁর জীবনের মূল মন্ত্র। ধর্মীয় ভোদাভেদ, দাঙ্গা জীবনকে ধ্বংস করে দেয়। আর তাই নিজের দোকানের নাম রেখেছেন ‘একতা’। এ দিন দোকান উদ্বোধনের পর যখন আনসারিকে জড়িয়ে ধরলেন পারমার। তখন দু’জনেরই চোখে জল। সেখানে উপস্থিত সবাই একবাক্যে স্বীকার করে নিলেন– দাঙ্গা নয় ভালোবাসাই জীবন। 

শুক্রবার আহমদাবাদের দিল্লি দরওয়াজা এলাকায় পারমারের জুতোর দোকান ‘একতা চপ্পল ঘর’-এর উদ্বোধন করেন কুতুবউদ্দিন আনসারি। দোকান উদ্বোধনের পর আনসারি বলেন– ‘আমি খুশি যে অশোকভাইয়ের জীবনে এক নতুন অধ্যায় শুরু হল।’ পরে আনসারিকে পাশে নিয়ে সাংবাদিকদের এক পশ্নের জবাবে পারমার বলেন, ২০০২ সালের মতো বীভৎসতা যত তাড়াতাড়ি ভুলে যাওয়া যায় ততই ভালো। বাঁচার জন্য– জীবনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য একতাই একমাত্র পথ। একসময়ের উগ্র হিন্দুত্বের মুখ হয়ে ওঠা পারমারের জীবনে এই পরিবর্তন কীভাবে? পারমার জানান, ২০১৪ সালে কালিম সিদ্দিকী নামে কেরলের এক বামপন্থী নেতার সান্নিধ্যে আসার পরই তাঁর জীবনের দর্শন বদলে যায়। লোকসভা ভোটের প্রচারের জন্য তাঁকে নিজের রাজ্যে নিয়ে যান কালিম। সেখান থেকেই শুরু তাঁর সম্প্রীতির পাঠ নেওয়া। তারপর সময় যত গড়িয়েছে তিনি উপলব্ধি করতে পেরেছেন দাঙ্গা– বিদ্বেষ– হিংসা বুকে নিয়ে কখনও বাঁচা যায় না। সম্প্রীতিই জীবন। একমাত্র ভালোবাসাই আত্মাকে স্পর্শ করতে পারে। ওই বছরই এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে হওয়া এক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনুষ্ঠান মঞ্চে কুতুবউদ্দিনের সঙ্গে তাঁর আলাপ। সেই থেকেই বন্ধুত্বের শুরু। পারমার জানান– তাঁর বাবা জুতো সারাইয়ের কাজ করতেন। আহমদাবাদে রাস্তার ফুটপাথে তাঁদের দোকান ছিল। দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় তাঁরা বাবা মারা যান। সংসার সামলাতে বাবার পেশাতেই চলে আসেন তিনি।        

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only