রবিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

চন্দ্রযানের শেষ সাফল্য দেখা হল না, তবু হতাশ নয় বর্ধমানের উসরা

হিজাব, টুপি পরে বর্ধমানের উসরা
গোলাম রাশিদ

স্বপ্ন ও বাস্তবের খুব কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত আর ছোঁয়া হল না কাঙ্খিত সাফল্যকে। তবু যেটুকু অভিজ্ঞতা– সেটুকুকেই পুঁজি করে আগামি দিনের জীবনে উত্তরণের পথ খুঁজতে চায় বর্ধমানের উসরা আলম। চন্দ্রায়ন-২ চাঁদের মাটিতে নামবে ৭ সেপ্টেম্বর রাতে---এমনটাই কথা ছিল। আর ঠিক ছিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইসরোতে বসে মুহূর্তটি সরাসরি দেখবে বর্ধমানের মেয়ে উসরা। চাঁদের দক্ষিণ মেরুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল ল্যান্ডার ‘বিক্রম’। কিন্তু তীরে এসে তরী ডুবল। উসরা জানাচ্ছে– ‘ঠিকমতোই এগোচ্ছিল সবকিছু। আমরা– খুদে শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রী– ইসরোর বিজ্ঞানীদের সঙ্গে বসে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু ১০০ কিমি দূরত্বে থাকতেই হঠাৎ গণ্ডগোল শুরু হয়ে যায়। তারপর তো একসময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল।’ হতাশার সুর উসরার গলায়।

ইসরোর অনলাইন স্পেস কুইজে অংশগ্রহণ করে সব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়ে পীর বাহারাম রোডের উসরা সুযোগ পেয়েছিল দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বসে বেঙ্গালুরুর ইসরো (ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা) ট্র্যাকিং সেন্টারে চন্দ্রযান২-এর এই মহা-অভিযান দেখার। এ বাংলা থেকে সুযোগ পেয়েছিল সৌমিল সেনও। শুক্রবার ১০টার পর ইসরোর স্যাটেলাইট সেন্টারে ঢোকার অনুমতি পায় বেলগ্রাম দিল্লি পাবলিক স্কুলের নবম শ্রেণির পড়ুয়া উসরা। রাত ন’টা নাগাদ সে ও তার সঙ্গী অর্থাৎ দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা পড়ুয়ারা স্পেস সেন্টারে ঢোকে। তার আগে একটি ওয়ার্কশপের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে উপবৃত্তাকার পথ ধরে কীভাবে চাঁদে ল্যান্ড করবে চন্দ্রায়ন-২। সেসবই খুব ভালো ভাবে উপভোগ করেছে সে। মহাকাশ নিয়ে তার আগ্রহ বরাবরের। বড় হয়ে সে বিষয়টি নিয়ে উচ্চশিক্ষারও ইেচ্ছ আছে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে হতাশ হতেই হল। সেই স্বপ্নভঙ্গের মুহূর্তটির কথা বলতে গিয়ে উসরা জানাল– ‘আমরা প্রচণ্ড হতাশ হয়ে যাই। খুব আশা করেছিলাম– সামনাসামনি দেখব চন্দ্রায়ন-২ চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে নামছে। কিন্তু ভাগ্যে নেই। ইসরো-কর্তা কে. শিবান স্যার তো একদম ভেঙে পড়েন।’ 
‘তবে অভিজ্ঞতা কিন্তু কম হল না।’ উসরার গলায় কিছুটা আনন্দের সুর। ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা হল। উনি কথা বললেন আমাদের সঙ্গে। আমি উনাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম– আমাদের শিক্ষাগ্রহণের পর ভবিষ্যতে আমরা কি বড় কোনও সুযোগ পাব? এত টাকা খরচ করে চন্দ্র অভিযান হচ্ছে– দেশ কি কোনও উপকার পাবে? মোদিজি অবশ্য বলেছেন– পরে জানাব। উনার অটোগ্রাফ চেয়েছিলাম। এটাও পরে একদিন দেবেন বলে দ্রুত চলে গেলেন। তবে ইসরোর ডিরেক্টর কে. শিবান স্যারের অটোগ্রাফ পেয়েছি। এটিই আমার সুখস্মৃতি হয়ে থেকে যাবে।’        

৬ সেপ্টেম্বর সকালবেলা বেঙ্গালুরু উড়ে যায় উসরা আলম ও তার বাবা-মা। যাতায়াত খরচ– থাকা-খাওয়ার খরচ বহন করেছে ইসরো। বাবা স্বনামধন্য ব্যবসায়ী ও সমাজসেবী হাসিব আলম বেঙ্গালুরু থেকে ফোনে জানালেন– ‘আমরাও অত্যন্ত আশাবাদী ছিলাম– আমাদের মেয়ে ঐতিহাসিক ঘটনাটির সাক্ষী থাকবে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আর হল না। আবার কোনও একদিন হয়তো হবে। সেই অপেক্ষায়।’ একই অপেক্ষা উসরার– একই অপেক্ষা দেশের ১৩০ কোটি মানুষেরও।
সৌমিলের সঙ্গে হাসিব অালম

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only