শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

২৯ সাল বাদ: মমতাকে আক্রমণকারী লালু বেকসুর খালাস

লালু
প্রায় ২৯ বছর আগে হাজরা মোড়ে লাঠির আঘাতে তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিলেন তৎকালীন বাম যুবনেতা লালু আলম। সেই ঘটনায় অভিযুক্ত লালু আলম সাক্ষীর অভাবে বেকসুর খালাস পেলেন বৃহস্পতিবার।

 ১৯৯০ সালের ১৬ আগস্ট হাজরা ক্রসিংয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেসময় লাঠির আঘাতে মমতার মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে লালু আলমের বিরুদ্ধে। তখন মমতার বয়স ছিল ৩৫। গুরুতর আঘাতের দরুন সেসময় কয়েক সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। ১৯৯৪ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আলিপুর কোর্টে যান সাক্ষী হিসেবে। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর ২০১১ সালের জুন মাসে এক টেলিভিশন চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে মমতা বলেছিলেন, ১৯৯০ সালের ১৬ আগস্ট হল একমাত্র দিন, যেদিন তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে কোথায় যাচ্ছেন, তা তাঁর মাকে বলে আসেননি। তবে, ৩৪ বছরের বাম জমানা শেষে ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার এ রাজ্যে আসার পর লালু আলম অবশ্য তার কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন। 
সেদিনের ঘটনার পর...

এ ব্যাপারে সরকারি আইনজীবী রাধাকান্ত মুখার্জি এ দিন বলেন, যাদের নামে চার্জশিট ছিল তাদের মধ্যে কয়েকজন মারা গেছেন। আর কয়েকজন নিখোঁজ। এই মামলায় সাক্ষীর অভাব। মেলেনি তথ্য প্রমাণ। সরকার তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, অর্থ ও সময়ের অপচয় না করে মামলাটি শেষ করতে। এ প্রসঙ্গে তিনি বিগত বাম সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ২১ বছর ধরে বাম সরকার মামলাটি বন্ধ করে রেখেছিল।

সেই মামলাটি ফের চালু হয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকার রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর।কিন্তু লালু আলমের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার নরম মনোভাব দেখায়। এমনকী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এ নিয়ে কোনও সাক্ষ্য দিতে যাননি। অনেকের মতে, অভিযুক্ত লালু আলম ক্ষমা চাওয়ার পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইঙ্গিতেই তাকে ক্ষমার চোখে দেখে রাজ্য সরকার এই মামলায় নরম মনোভাব দেখায়। তাই তিনি লালু আলমের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে হাজির হননি। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা একদা তাঁর আক্রমণকারীর প্রতি চরম উদারতা দেখিয়েছেন– যা সত্যিই অভাবনীয়।
তবে, লালু আলম ছাড়া পাওয়ার পর বলেছেন, ‘আমি এখন স্বস্তি অনুভব করছি। আমার আনন্দ প্রকাশ করার ভাষা নেই।আমি সত্যিই খুব ভয় পেয়েছিলাম যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হলেন। ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসার পরে কোনও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, এই ভয়টা ছিলই। 

আইনজীবীরা বলছেন, লালু আলমের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তার বিরুদ্ধে সাক্ষীরা হাজির না থাকায় আলিপুর আদালত তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছে। মমতাকে আক্রমণকারী লালু আলম (৬২) বাম শাসনামলে সিপিএমের যুব শাখার প্রাক্তন নেতা। তিনি মধ্য কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকার বাসিন্দা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only