সোমবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

এনআরসিতে বাদ পড়াদের সিংহভাগ বাঙালি হিন্দু

এনআরসি জাতির দলিল নয়, রাজ্যের প্রভাবশালী মন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মার এই বিতর্কিত মন্তব্যকে কটাক্ষ করে পাল্টা তোপ দাগলেন প্রাক্তন মন্ত্রী সিদ্দেক আহমদ। বিজেপি সরকার রাজ্যের বাঙালি হিন্দুদের কত ঠকাবে বলে প্রশ্ন তুলেন তিনি। নাগরিকত্বের ভরসা দিয়ে ভোট বৈতরণী পার হয়ে বিজেপি সরকার বাদ পড়া সিংহভাগ বাঙালি হিন্দুদের ট্রাইব্যুনালের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে বলে বিস্ফোরক মন্তব্য করে বাদ পড়াদের আইনি লড়াইয়ে সরকারি সহায়তার আশ্বাসও দেন সিদ্দেক।

শনিবার সন্ধ্যায় সংবাদ মাধ্যমের কাছে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে অবশ্য অফিসিয়াল প্রক্রিয়ায় কোনও মন্তব্য করেননি তিনি। তবে আক্রমণ করতে ছাড়েননি শাসক দল বিজেপিকে। বিশেষ করে তালিকা প্রকাশের মাত্র একদিন আগে মন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মার করা মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে প্রাক্তন মন্ত্রী সিদ্দেক বলেন,বাদপড়াদের প্রায় সিংহভাগই হিন্দু বাঙালি।অথচ এদের নাগরিকত্বের ভরসা দিয়েই বিগত দিনে ভোট আদায় করে রাজপাটের ক্ষমতায় এসেছে গেরুয়া দল।কিন্তু রহস্যজনকভাবে উদ্ধাস্ত বা আশ্রিত হিন্দু বাঙালিদের নিয়ে রীতিমতো পুতুল খেলায় মেতে উঠেছে বিজেপি সরকার।

তিনি এও বলেন, এনআরসি একটি আইনি প্রক্রিয়া। দেশের সর্বোচ্চ আইনি আদালতের নির্দেশই সরাসরি আদালতের হস্তক্ষেপে এটি নবায়ন করা হচ্ছে। তাহলে বিজেপি নেতারা কেন অযথা বিল এনে এনআরসিতে নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার ভুয়ো প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাঙালি হিন্দুদের ঠকিয়ে ভোট আদায় করেছিল? তাঁর মতে,নাগরিকত্ব বিলে রয়েছে ঘোর অনিশ্চয়তা। তাছাড়া নাগরিকত্ব বিলও একটি আইনি প্রক্রিয়া।

ভোটের সময় প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে রাজ্য ও জেলা ভিত্তিক নেতারা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঠোকিয়েছেন হিন্দু বাঙালি উদ্ধাস্তদের। তাঁর মতে, প্রকৃত ভারতীয় অনেক গরিব মানুষ সময়মতো এনএসকের শুনানিতে উপস্থিত হতে না পারায় তাঁদের নাম আসেনি। এঁদের মধ্যে বেশিরভাগই সংখ্যালঘু পিছপড়া মানুষ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এনআরসি প্রক্রিয়া থেকে কয়েক গুন বেশি হবে ট্রাইব্যুনাল প্রক্রিয়া। তবে বিজেপি ভাওতাবাজি করে বাদপড়াদের ট্রাইব্যুনালের মুখোমুখি দাঁড় করালেও তাঁর দল এবং ব্যক্তিগতভাবে প্রকৃত ভারতীয়দের বাদ পড়াদের পাশেই থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। এদিকে, সিদ্দেক আহমদ আরও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বলেন, একুশের বিধানসভা ভোটে চোখ রেখেছে বিজেপি। এনআরসির নামে রাজ্যে অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টি করে বিজেপি রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে মরিয়া প্রয়াস চালাচ্ছে। কিন্ত কোনও কিছুই কাজে আসবে না। রাজ্যের বাঙালি হিন্দু-মুসলিমরা আজ বিজেপির প্রতারণার ফাঁদে পা দেবেন না। তাঁর কথায়, একুশে শাসকদের পতন নিশ্চিত।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only