বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

অসমে এনআরসির প্রতিবাদে বনধের ডাক, প্রতিবাদ বিক্ষোভ, হাজেলার বিরুদ্ধে এফআইআর

পুবের কলম ডিজিট্যাল ওয়েব ডেস্ক :  অসমে এনআরসি’র চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর থেকে উগ্রহিন্দুত্ববাদীরা প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন। তাদের দাবি, চূড়ান্ত তালিকায় হিন্দুদের নাম বেশি বাদ দেয়া হয়েছে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে আন্ত রাষ্ট্রীয় হিন্দু পরিষদের পক্ষ থেকে আগামীকাল (শুক্রবার) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত করিমগঞ্জ জেলায় বনধের ডাক দেয়া হয়েছে।  

এপ্রসঙ্গে আজ (বৃহস্পতিবার) অসমের ‘এসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অফ সিভিল রাইটস (এপিসিআর)-এর রাজ্য কমিটির সদস্য ও রাজ্য লিগ্যাল সেলের কনভেনর আহমদ আলী বড়ভুঁইয়া ‘পুবের কলম’ প্রতিবেদককে বলেন, ‘সাধারণ মানুষ ওই বনধে সাড়া দেবে না। যেহেতু এখানে বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে, সুতরাং তাদের অঙ্গ সংগঠন হিসেবে সঙ্ঘ পরিবারের যেসব সংগঠন বনধের ডাক দিয়েছে দলীয় কারণে এদের ক্যাডাররা ওদেরকে সাপোর্ট করবে। কিন্তু সাধারণ মানুষ ওই বনধের সঙ্গে নেই। সাধারণ মানুষ এটা বুঝে গেছে যে দীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে আন্দোলন করে, মিথ্যে ভুল বুঝিয়ে  যে আন্দোলন হল সেই আন্দোলনে প্রচুর লোকক্ষয় হয়েছে, দাঙ্গা-হাঙ্গামায় প্রচুর লোক মারা গেছে। এতে আন্দোলনকারীরা যেমন মরেছেন তেমনই যাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন তারাও মারা গেছেন। এরকম অনেক ঘটনাই ঘটেছে। এজন্য আজকে অসম অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে গেছে। এনআরসিতে ১৬০০ কোটি টাকা যেটা খরচ হল, মিথ্যে অভিযোগে যে আন্দোলন হল  সেটা না হলে এত টাকা খরচ হতো না। এই টাকা যদি অসমের উন্নয়নে খরচ হতো তাহলে সোনার অসম হয়ে যেতো। এসব বুঝ এখন মানুষের মধ্যে আসছে। কিন্তু যারা এটা নিয়ে রাজনীতি করতে চায় এবং হিংসার রাজনীতি করতে চায়, বিভেদকামী শক্তি যারা, এরা এটাকে মেনে নিতে পারছে না। এবং এরা এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। কিন্তু সারা অসমের মানুষ ওই আন্দোলনের সঙ্গে নেই।’        

এদিকে, অনেক প্রকৃত নাগরিকের নাম না থাকা ও ‘ইচ্ছাকৃত’ ভুলের অভিযোগে এনআরসি কো-অর্ডিনেটর প্রতীক হাজেলার বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। গতকাল (বুধবার) গুয়াহাটি ও ডিব্রুগড়ে দু’টি এফআইআর দায়ের করে অসম গড়িয়া-মারিয়া যুব ছাত্র পরিষদ এবং অল ইন্ডিয়া লিগাল এইড ফাউন্ডেশন। এফআইআরে অভিযোগ করা হয়, বিপুল টাকা ব্যয়ে ‘হাস্যকর’ নাগরিকপঞ্জি তৈরি হয়েছে। অসম গড়িয়া-মারিয়া যুব ছাত্র পরিষদের এক মুখপাত্র বলেন, সময় ও অর্থ ব্যয় করে এনআরসির নামে প্রহসন হয়েছে।

অন্যদিকে, এনআরসিকে কেন্দ্র করে অসমের হাইলাকান্দি জেলায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এনআরসির চূড়ান্ত তালিকায় নাম না থাকার আতঙ্কে আত্মহত্যা করা নারী সাবিত্রী রায়কে কেন্দ্র করে আজ (বৃহস্পতিবার) উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় হাইলাকান্দি জেলায়। গতকাল (বুধবার) আত্মহত্যা করা হাইলাকান্দির স্টেশন রোডের গৃহবধূ সাবিত্রী রায়ের লাশ আজ শহরে পৌঁছলে এদিন জেলা প্রশাসকের দফতরের সামনে ওই গৃহবধূর লাশ রেখে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। এর পাশাপাশি তাঁরা এনআরসির সমন্বয়ক প্রতীক হাজেলার প্রতিকৃতিও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।

পুলিশ ওই ঘটনায় বিজেপি শহর মণ্ডল সভাপতি মানব চক্রবর্তীকে আটক করে নিয়ে যায়। মানব চক্রবর্তীর দাবি,  গত ৩১ আগস্ট  প্রকাশিত জাতীয় নাগরিকপঞ্জির তালিকায় হাইলাকান্দি জেলার বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের নাম বাদ পড়েছে। ১৯৭১ সালের আগের প্রমাণপত্র জমা দেওয়া সত্ত্বেও তাদের নাম এনআরসি তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, কেন হিন্দু নাগরিকদের নিয়ে চক্রান্ত চলছে?  তার দাবি, নাগরিক পঞ্জির তালিকায় হাইলাকন্দিতে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের নাম উঠে যায় কিন্তু যারা প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক, যারা এই দেশে জন্মেছে তাদের নামই আলিকা থেকে বাদ গেছে। অন্যদিকে, রাজ্য সরকার স্বচ্ছ এনআরসির জন্য ফের শীর্ষ আদালতে আবেদন করবে বলে অসমের অর্থমন্ত্রী ও বিজেপির প্রভাবশালী নেতা হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানিয়েছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only