সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

অস্ত্রোপচারে মাথা পৃথক হওয়ার দু'বছর পর ছাড়া পেল যমজ শিশু

এক যমজ শিশুর মাথা জোড়া ছিল। জন্মসূত্রে মাথা জোড়া যমজকে নিয়ে অস্বস্তিতে ছিলেন তার বাবা ও মা। অবশেষে দিল্লি এইমসের চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টায় যমজ শিশুর মাথা সফল ভাবে পৃথক করা হয়েছে। সফল অস্ত্রোপচারের পর দু'বছর ধরে চিকিৎসা চলেছে। সম্প্রতি তাদেরকে পরবর্তী চিকিৎসা পরিচর্যা ও পর্যবেক্ষণের জন্য  ওড়িশার কটকে সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে চলবে পরবর্তী চিকিৎসা-শুশ্রুষা।
জানা গেছে, জন্মানোর পর থেকেই জগ্গা ও বালিয়ার মাথা জোড়া ছিল। চিকিৎসকরা বলছেন প্রতি এক লাখ সন্তানের মধ্যে জন্মের সময় এমন একটি যমজের দেখা পাওয়া যায়। যমজ সন্তানকে নিয়ে সমস্যা হওয়ায় জগ্গা ও বালিয়ার বাবা মা প্রথমে তাদেরকে ভর্তি করান কটকের এসসিবি হাসপাতালে। সেখান থেকে রেফার করা হয় দিল্লির এইমসে। এই যমজ সন্তানকে নিয়ে দিল্লি এইমসে পৌঁছন তার বাবা-মা। ২০১৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি জগ্গা মাত্র দু বছর বয়সে ভর্তি হয়। এইমসের কার্ডিও-নিউরোসায়েন্সেস বিভাগে ভর্তির পর একর পর এক মেডিক্যাল টেস্ট করা হয়। এমআরআই ট্র্যাক্টগ্রাফি থেকে শুরু করে সিটি স্ক্যান, অ্যাঞ্জিওগ্রাম, আল্ট্রা সাউন্ড প্রভৃতি যাবতীয় পরীক্ষা নিরীক্ষার পর অবশেষে ২০১৭ সালের ১৪ জুলাই অপারেশন করা হয়। 
৪৫ ঘণ্টা অপারেশন করে জগ্গা ও বালিয়া নামের দুই শিশুকে আলাদা করেন এইসমের চিকিৎসকরা। তবে পুরোপুরি পৃথকের কাজ করতে প্রায় তিন মাস সময় লাগে। যে ধরনের মাথা জোড়া ছিল জগ্গা ও বালিয়ার তা প্রায় বিরল। এই ধরনের যমজের মাথা পৃথক করার ঘটনা দেশের মধ্যে প্রথম। পৃথিবীতে এ ধরনের ৫৯ টি সফল অস্ত্রোপচারের নজির রয়েছে। যদিও মাথা জোড়া যমজের অস্ত্রোপচারে সাফল্যের হার মাত্র ১০ শতাংশ। এর আগে এত জটিল না হলেও মাথা জোড়া যমজের অপারেশনের স্বল্প নজির রয়েছে দেশে। হায়দরাবাদরে বনি ও বীনা (১৭) এবং পটনার সাবা ও ফারাহ (২৩)-এর এ ধরনের অস্ত্রোপচার হয়েছে। তবে তাদেরকে খুবই বিপদের সম্মুখীন হতে হয়।
তবে এইমস থেকে ছাড়া পাওয়ার পর চিকিৎসা থেকে বিরাম থাকছে না জগ্গুদের। তাদেরকে কটকের এসসিবি মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে আরও ছ মাস পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে। গত ৬ সেপ্টেম্বর জগ্গুদের ছেড়ে দেওয়ার সময় তার বাবা-মার কাছে প্রায় ১৫টি ব্যাগ দিয়েছেন এইমসের চিকিৎসরা। তাতে জগ্গু ও বালিয়ার জন্য যেমন মেডিক্যাল সরঞ্জাম ছিল, তেমনি এইমসের ডাক্তার ও স্টাফদের দেওয়া নানা উপহার সামগ্রীও ছিল।
উল্লেখ্য, ওড়িশার কটক শহর থেকে প্রায় ২৬০ কিমি দূরে কান্ধামালের মিলুপাদা গ্রামের বাসিন্দা ভুঁয়া কুমার ও পুষ্পাঞ্জলি কুমার।রিকশা চালিয়েই দিন গুজরান করতে হয়। এই আদিবাসী দম্পতির যমজ সন্তান জগ্গা ও বালিয়ার জন্ম হয় ২০১৫ সালের ৯ এপ্রিল। জগ্গ্গার আদর করে ডাকা হত মধু আর বালিয়াকে সিং বলে।এরা কখনোই গান শুনতে পেত না। এইমসে ভর্তি হওয়ার পর থেকে চিকিৎসকরা তাদের নাম দেন জগন্নাথ ও বলরাম। দুটিই দেবতার নাম। দুবছর ভর্তি থাকার পর এইমস থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফিরলে আবার পুরনো জগ্গা ও বালিয়া নামেই ডাকা হচ্ছে। যদিও  ভুঁয়া কুমার ও পুষ্পাঞ্জলি কুমারের জ্যেষ্ঠ পুত্র অজিত (১০) ও দুত্য (৮) ২০১৭ সাল থেকেই ঠাকুরদার সঙ্গেই থাকছে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only