বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

প্লাস্টিক খেকো ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার!



পৃথিবীকে প্লাস্টিক মুক্ত করতে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। ইতিমধ্যে একদল জাপানি বিজ্ঞানী প্লাস্টিক খেকো ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার করেছেন। তারা এই ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কারের জন্য পেটেন্ট জমা করেছেন। সম্প্রতি সায়েন্স জার্নালে এই গবেষণা বিস্তারিত ভাবে প্রকাশিত হয়। সেখানে দাবি করা হয়েছে, এই পদ্ধতির মাধ্যমে প্রতিবছর উৎপাদিত প্রায় ৫ কোটি টন প্লাস্টিক এই ভাবে বিনষ্ট করা যাবে।
প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে গোটা দুনিয়া এখন চিন্তিত। দূষণ রুখতে ইন্দোনেশিয়া,কানাডা মত বহু দেশে প্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সমুদ্রে প্লাস্টিক দূষণের জন্য প্রাণীকূলের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। ফলে দূষিত হচ্ছে পৃথিবীর মাটি, জল ও বাতাস। সম্প্রতি এক গবেষণা অনুযায়ী, প্লাস্টিক বর্জ্যর মাত্রা সমুদ্রে অতিরিক্ত পরিমাণে মিশতে থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে মাছের থেকে বেশি প্লাস্টিক থাকবে।

প্লাস্টিকের পানির বোতলগুলি পলিথিলিন টেরিফথেলেটি বা পিইটি হিসাবে পরিচিত। সারারণত পলিয়েস্টার পোশাক, হিমায়িত খাবারের পাত্র এবং গুটি মোড়কেও এই একটি প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়। এই ধরণের প্লাস্টিকের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এরা রং বিহীন হালকা ওজনের এবং অধিক শক্তিশালী। এছাড়া এগুলিকে কোন জীবণু বিভক্ত করতে পারে না। কিন্তু এর আগে গবেষণায় দেখা গিয়েছিল অল্প কিছু প্রজাতির ছত্রাক পিইটির মধ্যে জন্মায়।তবে কোনও প্লাস্টিক বস্তুকে ক্ষয় করার মতে জীবণু তখনও আবিষ্কৃত হয়নি।

তাই প্লাস্টিককে ক্ষয় ধরাতে পারে অর্থাৎ প্লাস্টিক খেকো জীবাণু খুঁজে পেতে জাপানী বিজ্ঞানীরা প্লাস্টিক বোতল প্রক্রিয়াকরণ এলাকা থেকে ২৫০টি পিইটি সম্বলিত নমুণা সংগ্রহ করেন। যেগুলিতে মাটি, পলি এবং বর্জ্য মিশ্রিত ছিল। এরপর তারা দেখেন নমুণাগুলিতে বসবাসরত জীবাণুগুলি পিইটি ধরণের প্লাস্টিক খায় কি না। বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অবশেষে প্লাস্টিক খেকো ব্যাকিটেরিয়ার একটি প্রজাতির তারা হদিশ পান।এই পিইটির অবস্থার পতন ঘটাতে সক্ষম। তারা এই ব্যাকটেরিয়ার নাম দিয়েছেন আইডিয়েনেলো সাকেনেসিস। ব্যাকটেরিয়া দিয়ে প্লাসিক বিনষ্ট করা এই প্রক্রিয়াকে বিজ্ঞানীরা ' বায়োডিগ্রেডেশন' বলে থাকেন।




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only