সোমবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইসরোতে বসে চন্দ্রাভিযান দেখবে বর্ধমানের মেয়ে উসরা

চন্দ্রযান-২ চাঁদের মাটিতে পা রাখবে ৭ সেপ্টেম্বর

গোলাম রাশিদ, পুবের কলম

শুক্রবার, ৩০ আগস্ট, রাত ঠিক ৮টা বেজে ৫৯ মিনিট। একটি ই-মেল এল বর্ধমানের বিশিষ্ট সমাজসেবী হাসিব আলমের কাছে। চাঁদের উদ্দেশে গত ২২ জুলাই অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটায় অবস্থিত সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে পাড়ি দিয়েছে চন্দ্রযান-২। সেটি চাঁদের মাটিতে পা রাখবে সেপ্টেম্বরের ৭ তারিখ সকালে (ভারতীয় সময়)। আর সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে ডাকা হয়েছে তাঁর মেয়ে উসরাকে। বিস্ময়ে হতবাক হাসিব আলম। তিনি ঘুণাক্ষরেও জানতেন না তাঁর মেয়ে এমন কোনও কাণ্ড ঘটিয়েছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বসে বেঙ্গালুরুর ইসরো (ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা) ট্র্যাকিং সেন্টারে চন্দ্রযান ২-এর এই মহাঅভিযান দেখবে মেয়ে উসরা। বিস্ময় ও আনন্দের মিশ্রণে যা ঘটে, ঠিক সেটাই ঘটেছিল হাসিব আলমের মনে। এমন মেয়ের বাবা হিসেবে গর্বে ভরে উঠেছে বুক। তবে শুধু বাবা-মা নয়– সারা বাংলার জন্যই এই খবরটি আনন্দের যে, এই রাজ্য থেকে যে দু’জন ইসরোতে মোদির পাশে বসে মুহূর্তটির সাক্ষী থাকবে– তার মধ্যে একজন উসরা আলম। আরেকজন হল সৌমিল সেন। সারা দেশ থেকে মাত্র ৭৪জন ছাত্রছাত্রী (প্রতি রাজ্য থেকে একজন ছেলে– একজন মেয়ে) এই সৌভাগ্য লাভ করবে।


এই গৌরবময় সুযোগ কীভাবে পেল ক্লাস নাইনে পড়া বছর চোদ্দর কিশোরী উসরা? স্মিত হেসে বেলগ্রাম, বর্ধমানের দিল্লি পাবলিক স্কুলের পড়ুয়া ইসরা আলম জানাল, ‘আমি এই বিষয়টি প্রথম জানতে পারি স্কুলের শিক্ষকদের কাছ থেকে। তাঁরাই আমাকে জানান যে এ ধরনের একটি প্রোগ্রামের আয়োজন করতে চলেছে ইসরো– যাতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসে সরাসরি চন্দ্রযানের মাটিতে ল্যান্ড করার ঘটনাটি দেখার সুযোগ মিলবে। আর সেখানে যেতে হলে উত্তর দিতে হবে স্পেস কু্ইজের। প্রশ্নগুলি হবে অষ্টম থেকে দশম শ্রেণি লেভেলের। আমি এই অনলাইন কু্ইজে অংশ নিই এবং সবগুলি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিই। ফলে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আমাকে নির্বাচিত করা হয়।’

আগামী ৬ সেপ্টেম্বর সকালবেলা বেঙ্গালুরু উড়ে যাচ্ছেন উসরা আলম ও তার বাবা-মা। যাতায়াত খরচ, থাকা-খাওয়ার খরচ বহন করবে ইসরো। স্বভাবতই খুশি উসরা জানায়, ‘আমার খুব খুব ভালো লাগছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসে এমন একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকব---এটা ভেবে আমি বেশ উত্তেজিত। আমি কখনই এমনটা আশা করিনি।’ প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ কোনও প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করবেন, জানতে চাইলে ঝটপট উত্তর উসরার---এত অর্থ খরচ করে চন্দ্রযান ২ কেন পাঠানো হল? এর ফলে কি দেশের সার্বিক কোনও উন্নয়ন ঘটবে– এগুলিই আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চাইব। 

অন্যদিকে, উসরার বাবা-মা মেয়ের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী। বাবা হাসিব আলম জানাচ্ছেন, মেয়ে ক্লাসে ফার্স্ট-সেকেন্ড হয়। আমাদের কখনই বলেনি– ও প্রশ্নের উত্তর পাঠিয়েছে। তবু আমরা আনন্দিত। উসরার মা ফাতিমা আলম গৃহবধূ। তার মা-ই তাকে পড়াশোনার ব্যাপারে বেশি সাহায্য করেন, জানালেন উসরা। তারা তিন বোন, এক ভাই। বাবা স্বনামধন্য ব্যবসায়ী হাসিব আলম শিক্ষা-স্বাস্থ্যক্ষেত্রে প্রভূত অবদান রেখে চলেছেন। আল-আমীন মিশনের সঙ্গেও তিনি যুক্ত রয়েছেন। হাসপাতাল গড়ারও কাজ চলছে বলে জানালেন হাসিব সাহেব। তাঁর মেয়ের এ হেন সাফল্যে তাই বর্ধমানবাসীও বেশ গর্বিত, যেমন গর্বিত রাজ্যের মানুষ। কে জানত যে বর্ধমানের পীর বাহারাম রোডের নিকটে অবস্থিত বাড়িটির ছোট্ট মেয়ে উসরা ইসরোতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসে চন্দ্র অভিযান দেখবে! 
হাসিব আলম

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only