শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

ফের চন্দন গাছ চুরি বিশ্বভারতীর রবীন্দ্রভবন ও মালঞ্চ থেকে


দেবশ্রী মজুমদার, শান্তিনিকেতন, ২০ সেপ্টেম্বরঃ  ফের চন্দন গাছ চুরি নিরাপত্তার ঘেরাটোপে থাকা বিশ্বভারতীর রবীন্দ্রভবন ও মালঞ্চ থেকে। তার জালি কেটে চুরি গেছে দুটি চন্দন গাছের কিছু অংশ।  শুক্রবার সকালে বিষয়টি সবার নজরে আসে। জানা গেছে, জানা গেছে, বিশ্বভারতীর আধিকারিকরা সন্নিকটস্থ লাল বাঁধপুকুর থেকে গাছের কাটা অংশটি উদ্ধার করেছে। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ এব্যাপারে শান্তিনিকেতন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। বিশ্বভারতীর নিরাপত্তা আধিকারিক অশোক গুণ জানান,  এব্যাপারে থানায় জানানোর পাশাপাশি বিশ্বভারতীর নিজস্ব নিরাপত্তা বিভাগ তদন্ত শুরু করেছে। প্রসঙ্গতঃ ২০০৪ সালের ২৫ মার্চ জানলার শিক ভেঙে শান্তিনিকেতনের বিচিত্রাগৃহ থেকে নোবেল ছাড়াও গুরুদেবের ব্যবহৃত পকেট ঘড়ি, সোনার বোতাম, রুপোর মগ ও কাঁটা চামচ চুরি যায়। চুরি যায় কবি পত্নী মৃণালিনীদেবীর হাতের সোনার বালা। এব্যাপারে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত শুরু হলেও উদ্ধার হয়নি নোবেল পদক ও অনান্য মূল্যবান জিনিস পত্র।     

প্রসঙ্গতঃ এর আগে ২০০৪ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সর্বশেষ ধরে  মোট ছয় বার চন্দন গাছ চুরি গেছে। ২০১৫ সালেই মোট তিন বার চুরি গেছে। বিশ্বভারতীর নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর বরাবর আস্থাশীল। কিন্তু কোনবারই কিনারা হয়নি চুরির। পরবর্তীতে তল্লাশী চালানোর পর চন্দন গাছের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার হয়েছে ঠিকই। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হয় নিরাপত্তা খাতে। উচ্চ নিরাপত্তা বলয় এলাকা হিসেবে উত্তরায়ণে সি সি টিভি লাগানো আছে। আছে নিরাপত্তা রক্ষী, সাধারণ রক্ষী, গান ম্যান। তবুও এসব এড়িয়ে কি করে বার বার চন্দন গাছ চুরি যায়? এই প্রশ্ন লাখ টাকার। বিশ্বভারতীতে চন্দন গাছ কেন বার বার টারগেট? তবে কি নোবেল চুরির মত চন্দন চুরি বিশ্বভারতীতে রহস্যময় ঘটনা হিসেবে থেকে যাবে প্রশ্ন প্রাক্তনী থেকে সবার। পুলিশের একটি সূত্র বলছে, চন্দন পাচার চক্রটির হাতিয়ার ব্যাটারি চালিত চিনে করাত। ২০১৫ সালে সাত মাসে চোদ্দটি এবং তার আগের তিন বছরে সতেরোটি চন্দন গাছ একের পর এক চুরি গিয়েছে শান্তিনিকেতন থেকে। এগুলির মধ্যে শ্বেত ও রক্তচন্দন দুই-ই রয়েছে যার মূল্য কোটি ছাড়িয়েছে। একটি চুরিরও কিনারা হয়নি আজ পর্যন্ত। গ্রেফতার হয়নি একজনও। এব্যাপারে বিশ্বভারতীর প্রবীন আশ্রমিক কালীপদ সিংহ রায় বলেন, “বিশ্বভারতীতে লুঠপাঠ চলছে। সব ফাঁকা করে দেবে। আগেও কিছু ধরা পড়েনি। এবারও আশা কিছু করছি না। বর্তমান উপাচার্য তো নিরব দর্শক। উনি তো বিজেপি আর এস এসের লোক”।  

বিশ্বভারতীতে চন্দন গাছ চুরির সালতামামিঃ

১) ২০০৪ সালে উত্তরায়ণ থেকে চুরি যায় বেস কয়েকটি চন্দন গাছ। সে বছরই চুরি যায় ১০০টি সোনাঝুড়ি গাছ।
২) ২০১৩ সালে ১৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বভারতীর রবীন্দ্রভবন সংলগ্ন এলাকা থেকে চুরি যায় ৩টি মহামূল্যবান চন্দন গাছ। ঘটনার জেরে দুজন অফিসার ও দুজন নিরাপত্তা কর্মী বরখাস্ত হন। সেই সময় নিরাপত্তা আধিকারিক ছিলেন ইউ পি সিং।
৩) ২০১৫ সালের ৫ অগাস্ট ভোর রাতে অজিত মৈত্র নামে এক ব্যক্তির শান্তিনিকেতন এলাকার বাড়ি থেকে চন্দন গাছ চুরি যায়।
৪) ২০১৫ সালের ২৬ মে উত্তরায়ণের ১০০ মিটারের মধ্যে চন্দন গাছ চুরি যায়। সেই গাছের কিছু অংশ পুলিশ লাল বাঁধ এলাকা থেকে উদ্ধার করে আনে।
৫) ২৮ মে উত্তরায়ণ সংলগ্ন এলাকা থেকে বেশ কিছু চন্দন গাছ চুরি যায়। সে সময়  বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা আধিকারিক সুপ্রীয় গঙ্গোপাধ্যায় এই গাছ চুরির ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলেছিলেন। সেবারও লাল বাঁধ এলাকা থেকে চন্দন গাছের কিছু অংশ উদ্ধার হয় লাল বাঁধ এলাকা থেকে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only