বুধবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৯

পানি-বাতাস ছাড়া জীবিত অর্ধ শতক এর বেশি !



ইংল্যাণ্ডের সারে প্রদেশের মিঃ ডেভিড ল্যাটিমার (৮০) এক আশ্চর্যজনক ঘটণা ঘটিয়ে ফেলেছেন যা উদ্ভিদ বিজ্ঞানের জগতে এক অভূতপূর্ব সাড়া ফেলে দিয়েছে।

আজ থেকে ৫৩ বছর আগে, ১৯৬৬ সালের এক ইস্টার সানডে-তে নেহাৎ খেয়ালের বসে একটি বৃহদাকার কাচের জারের ভিতরে তিনি একটি গাছের চারা লাগান। স্বচ্ছ জারের ভিতর গাছটি বেশ তরতাজা হয়ে ওঠে। তারপর গত চল্লিশ বছর আগে তিনি কাচের জারটিকে ছিপি বন্ধ করে আর কোনোদিন সেটি খোলেন নি। জারের ছিপি বন্ধ থাকায় ১৯৭২ সাল থেকে গাছটি বাইরে থেকে একফোঁটা জলও পায়নি। কাচের ভিতর দিয়ে আলো পোঁছালেও বিগত চল্লিশ বছর ধরে বোতলের ছিপি না খোলায় গাছটি বেঁচে থাকার উপযোগী জল ও অক্সিজেন থেকে বঞ্চিত।

কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার, তবুও গাছটি দিব্যি বেঁচে আছে। শুধু তাই নয়, বদ্ধ জারের মধ্যে সেটি বহাল তবিয়তে শাখা-প্রশাখা মেলে একটি আস্ত বোতল-বাগান বানিয়ে ফেলেছে।


জারের ভিতর জল ও অক্সিজেনহীন অবস্থায় গাছটি কিভাবে এতদিন বেঁচে আছে ও বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই নিয়ে উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ও আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত বৃদ্ধ ল্যাটিমার তার বোতল বাগান নিয়ে অত্যন্ত উৎফুল্ল ও আশাবাদী।

ল্যাটিমারের এই বোতল বাগান বিষয়ে বিজ্ঞানীদের অভিমত, বহুপূর্বে  রোপিত বোতলের ভিতরের এই গাছ তার পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছে। বোতলের ভিতরে গাছটির একটি নিজস্ব  বাস্তুতন্ত্র গড়ে তুলেছে। সেখান থেকেই এই বোতল-বাগানের গাছ তার বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয় জল ও অক্সিজেন নিয়ে নেয়। এভাবেই বদ্ধ বায়ুহীন বোতল-বাগান এখনো ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েই যাচ্ছে। কিন্তু স্থানাভাবে বোতলের সেই গাছ বোতলের মধ্যে ঠাসাঠাসি করে পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে বাড়ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only