বুধবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৯

মোদি জমানায় বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মন্দা ভারতেই, বললেন আইএমএফ প্রধান


চিন্ময় ভট্টাচার্য

মোদি জমানায় দেশের আর্থিক হাল নিয়ে আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন অর্থনীতিবিদরা। এবার আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের (আইএমএফ) নতুন ম্যানেজিং ডিরেক্টর ক্রিস্টালিনা জর্জিভারও স্বীকার করে নিলেন, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ সত্যি। তিনি জানিয়েছেন, অর্থনীতিতে মন্দার প্রভাব গোটা বিশ্বের মধ্যে ভারতেই সবচেয়ে বেশি। শুধু তাই নয়, বর্তমানে ভারতীয় অর্থনীতির যা হাল, তাতে এই মন্দা বেশ কিছুদিন ধরে চলবে বলেই  ধারণা জর্জিভার।

বিভিন্ন মহলের অভিযোগ, এই পরিস্থিতিতে মোদি সরকার দেশবাসীর নজর অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। সাম্প্রদায়িকতা এবং যুদ্ধের জিগির সামনে এনে আর্থিক দূরবস্থা ঢাকার চেষ্টা করছে কেন্দ্র। এই অবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকারের তালে তাল দিয়ে স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার (এসবিআই) চেয়ারম্যান রজনীশ কুমার সম্প্রতি দাবি করেন,'মন্দার ধাক্কা কাটিয়ে ভারত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। উৎসবের মরশুম পড়তেই অর্থনীতি চাঙ্গা হতে শুরু করেছে।'

কিন্তু, এসবিআই চেয়ারম্যানের সেই বক্তব্যের সত্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিলেন আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের নতুন ম্যানেজিং ডিরেক্টর। তিনি বলেছেন, 'দু'বছর আগেও বিশ্ব অর্থনীতিতে একটা সুসংহত বৃদ্ধি ছিল। বিশ্বের ৭৫ শতাংশ দেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ঊর্ধ্বমুখী। কিন্তু, এখন অর্থনীতি সমান তালে নিম্নমুখী। ২০১৯ সালের মধ্যে, বিশ্বের ৯০ শতাংশ দেশেই জিডিপি বৃদ্ধির হার কমবে।'

ইতিমধ্যেই ভারতে জিডিপি বৃদ্ধির হার গত ছ'বছরের তুলনায় সবচেয়ে কমে নেমে এসেছে পাঁচ শতাংশে। এই পরিস্থিতিতে বেকায়দায় পড়ে, রিজার্ভ ব্যাংকও সম্প্রতি সম্ভাব্য বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬.৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬.১ শতাংশ করেছে। আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের ডিরেক্টরের আশঙ্কা, ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে এই জিডিপি বৃদ্ধির হার আরও ০.৩ শতাংশ কমে যেতে পারে। কারণ আইএমএফ মনে করছে, ভারতের অর্থনীতি 'ধারণার চেয়েও দুর্বল।'

এই পরিস্থিতিতে কর্মসংস্থানের ওপর চাপ পড়তে চলেছে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আইএমএফের ডিরেক্টর। তিনি বলেন, 'আমেরিকা, জার্মানিতে বেকারত্ব ঐতিহাসিক ভাবে বেড়েছে। মজবুত অর্থনীতির দেশেও আর্থিক কর্মকাণ্ডের গতি মন্থর হয়ে পড়েছে। যার জেরে ভারতের মতো উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশে মন্দা আরও বাড়বে।'

অর্থনীতিবিদদের একাংশের দাবি, ভারতে এই আর্থিক মন্দা অনেকখানি ঠেকানো সম্ভব হত। যদি, ভারত আগের মতোই মিশ্র অর্থনীতির পথে হাঁটত। কিন্তু, নরসিমহা রাও সরকারের জমানা থেকে ভারত মুক্ত অর্থনীতির পথে হাঁটছে। মোদি সরকার, একের পর এক সরকারি সংস্থার বেসরকারিকরণ করার লক্ষ্য নিয়ে উদার অর্থনীতির দিকে ভারতকে আরও বেশি করে ঝুঁকিয়ে দিয়েছে। যার ফলে বিশ্ব অর্থনীতির কুফল রোধের ক্ষমতা হারিয়েছে ভারত। তার প্রভাবেই বিশ্ব অর্থনীতিতে তৈরি হওয়া মন্দা, চূড়ান্ত প্রভাব ফেলতে চলেছে এদেশের অর্থনীতিতেও।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only