শনিবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৯

ইথিওপিয়ায় পরিবর্তন এনে শান্তি নোবেল পেলেন আবি আহমেদ


কৃষকের ছেলে থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথটা খুব একটা মসৃন ছিল না তাঁর পক্ষে। এর পর প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশ শান্তি প্রতিষ্ঠা করা ছিল আরও বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু মাত্র দেড় বছরে শান্তিপূর্ণ উপায়ে  সেটিও করে দেখিয়েছেন। তা সবাইকে ছাপিয়ে ২০১৯- সালের শান্তি নোবেল পেলেন ইথিওপিয়ার সংস্কারপন্থী প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ।   মূলত দুই দশক ধরে প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার সঙ্গে চলা যুদ্ধের অবসান ও দেশটির মধ্যে জাতিগত সংঘাত নিরসনের ইথিওপিয়ার আমূল সংস্করের কারিগর হিসেবে তাকে এবার শান্তিতে নোবেল দেওয়া হয়েছে।
নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এবারের পুরস্কারের জন্য আবি আহমেদের নাম ঘোষণা করে বলেছে, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা, বিশেষ করে প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলা সীমান্ত সংঘাত নিরসনে তাঁর ভূমিকাকে মূলত পুরস্কৃত করা হল।
তবে আবি আহমেদের ক্ষমতায় আসার বেশিদিন হয়নি। গত বছরের এপ্রিলে তিনি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ক্ষমতা গ্রহণের ছয় মাসের মাথায় গত বছরের জুলাইয়ে ইরিত্রিয়ার সঙ্গে চুক্তি করেন। যার জন্য তিনি আন্তর্জাতিক প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার সঙ্গে ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সালের সীমান্ত যুদ্ধের পর গত ২০ বছর ধরে দেশটিতে অচলাবস্থা চলছিল। আবি আহমেদ ক্ষমতায় আসার পরপরই সেই অচলাবস্থার নিরসন করেন। প্রতিবেশী দুই রাষ্ট্রের ওই যুদ্ধ-সংঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন ৭০ হাজারের বেশি মানুষ।
আবি আহমেদ ইথিওপিয়ার কাফা প্রদেশের বেশাহাসা নামক ছোট্ট এক শহরে ১৯৭৬ সালের ১৫ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আহমেদ আলি ছিলেন কৃষক ও মুসলিম ধর্মাবলম্বী অরোমো জাতিগোষ্ঠীর।  আর মা টেজেতা ওলডে। যিনি একজন খিস্টান।
মোট ১৩ ভাইবোনের মধ্যে আবি আহমেদ হলেন সবার ছোট। তাইতো পরিবারে অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে বড় হতে হয়েছে তাকে। ঘরে থাকার জায়গা না পেয়ে ঘরের বারান্দায় ঘুমিয়েছেন।
আবি আহমেদে রাজনীতিতে সক্রিয় হন ২০১০ সালে। তার আগে তিনি আফ্রিকার আরেক দেশ রুয়ান্ডায় রাষ্ট্রসংঘের  শান্তিরক্ষী মিশনের দূত হিসেবে কাজ করেন। রাজনীতিতে এসেই মানুষের কথা বলে তিনি জনপ্রিয় হয়ে যান। ২০১৬ সালে পান ইথিওপিয়ার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের দায়িত্ব।
গরিব কৃষকের সন্তান থেকে গোয়েন্দা কর্মকর্তা হওয়া আবি আহমেদ আফ্রিকার দ্রুত বর্ধমান অর্থনীতির সংস্কারের নেপথ্য নায়কে পরিণত হয়েছেন। ৪৩ বছর বয়সী এই আফ্রিকান নেতা নিজ সমাজ ব্যবস্থাকে একটা বড় পরিবর্তনের দিকে নিয়ে গেছেন। তাইতো তার নোবেল প্রাপ্তির খবরে দেশে উৎসব শুরু হয়েছে।
নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটিও আবি আহমেদের এ অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেছে, ‘যখন আবি প্রধানমন্ত্রী হলেন তখন তিনি স্পষ্ট ঘোষণা দিলেন যে প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার সঙ্গে শিগগিরই শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করবেন। ইরিত্রিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কাজ করে তিনি খুব দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছান।’
ক্ষমতায় এসেই তিনি বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের কেবল কারাগার থেকে মুক্ত করে দিয়েই ক্ষান্ত হননি, তাদের ওপর চালানো রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও নৃশংসতার জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন। এছাড়া তার পূর্বসূরি যাদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে দেশ ছাড়া করেছিল, সেই সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের তিনি দেশে স্বাগত জানিয়েছেন।








একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only