মঙ্গলবার, ১ অক্টোবর, ২০১৯

দু’সপ্তাহের মধ্যে বিলকিসকে ৫০ লক্ষ ক্ষতিপূরণ দিন, গুজরাত সরকারকে ভর্ৎসনা শীর্ষকোর্টের

দু’সপ্তাহের মধ্যে ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বিলকিস বানুকে। সোমবার এমনই নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে এদিন গুজরাত সরকারকে তীব্র ভাষায় তিরষ্কারও করে শীর্ষ আদালত। গত ২৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল– ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বিলকিস বানুকে। গুজরাত দাঙ্গার সময় গণধর্ষণ করা হয় ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বিলকিস বানুকে। তাঁর চোখের সামনেই খুন করা হয়েছিল পরিবারের ১৪ সদস্যকে। তিন বছরের ফুটফুটে মেয়ে সালেহাকেও চোখের সামনে খুন করেছিল দাঙ্গাবাজরা। পরিবারের মহিলাদের নির্বিচারে ধর্ষণ করেছিল ওই নরপশুরা।
 গত এপ্রিলে শীর্ষ আদালত বিলকিসকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। ৫ মাস পার হয়ে গেলেও আদালতের সে-কথা মানেনি গুজরাত সরকার। ফলে ফের আদালতের দরজায় কড়া নাড়েন বিলকিস। এদিন ফের শীর্ষ কোর্টের ক্ষতিপূরণের নির্দেশ পুনর্বিবেচনার আর্জি জানায় গুজরাত সরকার। যা শোনা মাত্রই খারিজ করে দেয় আদালত। বহাল রাখে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পুরনো নির্দেশ। যাতে বলা হয়েছিল– গুজরাত সরকার ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেবে বিলকিস বানুকে। সঙ্গে তাঁকে সরকারি চাকরিও দিতে হবে। দিতে হবে তাঁর পছন্দ মতো জায়গায় মাথাগোঁজার ঠাঁইও। 
এদিন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ– বিচারপতি দীপক গুপ্তা এবং সঞ্জীব খান্নার ডিভিশন বেঞ্চ পুনরায় বিলকিসকে ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেয়। আদালত বলে– ২০০২-এর পর থেকে ১৭ বছর ধরে তিনি যাযাবরের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এবার তাঁর মাথাগোঁজার ঠাঁই দরকার। তারû বন্দোবস্ত করুক গুজরাত সরকার। 
সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ পুনর্বিবেচনার আর্জি জানান। এর জবাবে আদালত কড়াভাবে গুজরাত সরকারের আইনজীবীকে বলে– ‘পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখে তবেই ক্ষতিপূরণ বাবদ নগদ টাকা– চাকরি এবং মাথাগোঁজার ঠাঁইয়ের বন্দোবস্ত করে দিতে বলা হয়েছিল। তাই নতুন করে তা পর্যালোচনা করার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। আগামী দু’সপ্তাহ সময় দিলাম আপনাদের। তার মধ্যে ক্ষতিপূরণ মিটিয়ে দিতে হবে। যদি এতটা সময়ও আসলে আপনাদের প্রয়োজন ছিল না।’ নির্দেশ দেওয়ার পরও কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হল না– তা জানতে চান প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। এর জবাবে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা জানান– রাজ্য চায় ক্ষতিপূরণের বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখা হোক। তাতে বেজায় ক্ষুব্ধ হয় শীর্ষ কোর্ট। ভর্ৎসনা করা হয় গুজরাত সরকারকে। পরে অবশ্য তুষার মেহতা আদালতে সরকারের তরফ থেকে অঙ্গীকারে করেন যে এই টাকা দু’সপ্তাহের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়া হবে। 
সেদিনের নারকীয় দাঙ্গার সময় বিলকিসের বয়স ছিল ২১ বছর। আজও সে-কথা মনে পড়লে তাঁর হাড় হিম হয়ে আসে। তবে মনের জোর হারাননি তিনি। মনের জোর ছাড়া তাঁর আর ছিলই বা কী! ২০০২-এর ৩ মার্চ আহমদাবাদ থেকে কিছু দূরে রানধিকপুরে হামলা চালায় দাঙ্গাবাজরা। তারপর চোয়াল শক্ত করে  টানা  ইনসাফের দাবিতে  লড়াই করে গিয়েছেন বিলকিস। গত মার্চেই সুপ্রিম কোর্ট গুজরাত সরকারকে বলেছিল সেদিনের তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে। বম্বে হাইকোর্ট বলেছিল– তদন্তকারীরা বহু তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করে দিয়েছেন। ফলে তাদের সাজা হওয়া উচিত। বম্বে হাইকোর্ট গুজরাত সরকারকে বলেছিল– দুই তদন্তকারী আধিকারিকের পেনশন বন্ধ করে দিতে। একই সঙ্গে আইপিএস অফিসার ভাগোরার ডিমোশনের নির্দেশ দিয়েছিল বম্বে হাইকোর্ট। বিশেষ আদালত ২০০৮-এর ২১ জানুয়ারি দাঙ্গা এবং ধর্ষণের ঘটনায় ১১ জনের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। তবে ৭ অভিযুক্ত কয়েকজন পুলিশকর্মী এবং অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বেকসুর খালাস করে দেওয়া হয়েছিল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only