বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯

ইভিপির সঙ্গে এনআরসি-র কোনও সম্পর্ক নেই­, জানালেন উপনির্বাচন কমিশনার

ভোটার তথ্য যাচাই (ইভিপি) কর্মসূচির সঙ্গে জাতীয় নাগরিকপঞ্জির (এনআরসি) কোনও সম্পর্ক নেই। বুধবার কলকাতায় সাংবাদিকদের সাফ জানিয়ে দিলেন উপনির্বাচন কমিশনার সুদীপ জৈন। সেইসঙ্গে তিনি এও স্পষ্ট করে দিয়েছেন– ইভিপিতে অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। ভোটার তথ্য যাচাই কর্মসূচির পাশাপাশি রাজ্যের তিন বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে এ দিন কয়েক ঘণ্টার ঝটিকা সফরে কলকাতায় আসেন উপনির্বাচন কমিশনার। সিইও দফতরে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আরিজ আফতাব সহ দফতরের অন্যান্য পদস্থ আধিকারিক এবং উত্তর– দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং হাওড়ার জেলাশাসকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালেই ঝাড়খণ্ডে উড়ে যাচ্ছেন সুদীপ জৈন।

সিইও দফতরে ঢোকার মুখে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উপনির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘ভোটার তথ্য যাচাই কর্মসূচির (ইভিপি) সঙ্গে এনআরসি-র কোনও সম্পর্ক নেই। ইভিপি সম্পূর্ণভাবেই নির্বাচন কমিশনের বিষয়। শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গে নয়– দেশজুড়ে এই কর্মসূচি চলছে। ভোটার তালিকায় ভোটারের তথ্য সম্পর্কে অনেক ভুলত্রুটি থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সেই ভুলত্রুটি সংশোধনের জন্য মানুষকে বারবার ছুটতে হয়। নাজেহাল হতে হয়। সাধারণ ভোটাররা যাতে নিজেরাই নিজেদের তথ্য সম্পর্ক থাকা ভুল সংশোধন করতে পারেন– তার জন্যই ইভিপি চালু করা হয়েছে। এটা কোনও মতেই বাধ্যতামূলক নয়। কেউ যদি নিজের তথ্য যাচাই করতে না চান– তাহলে তিনি করবেন না। এটা কোনওমতেই বাধ্যতামূলক নয়।’ 

উল্লেখ্য– গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে দেশজুড়ে নির্ভুল েভাটার তালিকা প্রণয়নের জন্যই ভোটার তথ্য যাচাই কর্মসূচি (ইভিপি) চালু করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রথমে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচির সময়সীমা ধার্য করা হয়েছিল। কিন্তু ১২ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যের ৩৭ শতাংশ ভোটার এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তথ্য যাচাই করেছেন। বাকি ৬৩ শতাংশ ভোটাররাও যাতে নিজেদের ভুল সংশোধন করতে পারেন– তার জন্য আগামী ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত কর্মসূচির সময়সীমা বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ দিন উপনির্বাচন কমিশনার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন– প্রয়োজন হলে ফের ইভিপির সময়সীমা বাড়ানো হবে। তবে তাঁর আশা– তার প্রয়োজন হবে না। সাধারণ ভোটাররা নিজেদের স্বার্থেই ইভিপিতে অংশ নেবেন। 
অন্যদিকে– আগামী সপ্তাহেই রাজ্যের ৩ বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে বলে এ দিন সিইও দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে ইঙ্গিত দিয়েছেন উপনির্বাচন কমিশনার। বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও তৃণমূল নেত্রী মহুয়া মৈত্র সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় খড়গপুর ও নদিয়ার করিমপুর বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন অবশ্যাম্ভাবী হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জে কংগ্রেস বিধায়ক প্রমথনাথ রায়ের অকালমৃত্যুর ফলে ওই আসনেও ভোট নিতে হবে। আগামী ২১ অক্টোবর হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্র বিধানসভার পাশাপাশি দেশের ৬৪ বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনের সঙ্গেই রাজ্যের ৩ আসনে উপনির্বাচন সেরে ফেলতে চেয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু দুর্গাপুজো ও উৎসবের মরশুম চলার কারণে কমিশনের প্রস্তাবে রাজি হয়নি রাজ্য সরকার। যেহেতু আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ওই তিন আসনে ভোট করানোর সময়সীমা রয়েছে– তাই উৎসবের মরশুম মিটে যাওয়ার পরেই উপনির্বাচন করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে প্রস্তাব দিয়েছিল রাজ্য। সেই প্রস্তাব মেনে ৩ আসনের উপনির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া হয়। 
সিইও দফতর সূত্রে খবর– তিন বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনের জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ভোট কর্মীদের পাশাপাশি রিটার্নিং অফিসার হিসেবে যাঁরা দায়িত্ব পালন করবেন– তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজও শেষ হয়েছে।  

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only