বুধবার, ২ অক্টোবর, ২০১৯

সুপ্রিম কোর্টে ফুটে উঠল ‘অবরুদ্ধ’ কাশ্মীরের ছবি

১ অক্টোবর: ছাপান্ন দিন অবরুদ্ধ কাশ্মীর। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবশ্য বলেছেন, কাশ্মীরের কোথাও কোনও বিধি-নিষেধ নেই। উপত্যকার অবস্থা নিয়ে মঙ্গলবার একাধিক মামলার শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টে। সিনিয়র আইনজীবী সঞ্জয় হেগড়ে বলেন, সব ধরণের েযাগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। সে নির্দেশ পালিত হচ্ছে না কেন? এর জবাবে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা শীর্ষ কোর্টে দাবি করেন, ‘কাশ্মীরে কোনও বিধি-নিষেধ নেই। একশো শতাংশ ল্যান্ডফোন কাজ করছে।’ 

বিচারপতি বিআর গাভাই সলিসিটর জেনারেলের কাছে জানতে চান ‘জম্মু-কাশ্মীরে মোবাইল ফোনের লাইন কি কাজ করছে? উত্তরে মেহতা জানান, ‘গোটা দেশে মোবাইল শুরু হয়েছে ১৯৯৫ এ। কিন্তু কাশ্মীরে তা শুরু হয়েছে ২০০৫ এ। মোবাইল চালু হলে– হোয়াটসঅ্যাপও চালু হবে। ফলে সীমান্তের ওপার থেকেও মেসেজ আসবে।’

আইনজীবী সঞ্জয় হেগড়ে বলেন, সুপ্রিমকোর্ট কিন্তু সমস্ত যোগাযোগ মাধ্যমের কথা বলেছিল। েকবল ল্যান্ডফোনের কথা বলেনি। হোয়াটসঅ্যাপও তার মধ্যে পড়ে। বিচারপতি গাভাই নিজেই তখন দুই মন্তব্যের মধ্যে সমতা আনেন। তিনি সরকারকে জাতীয় নিরাপত্তার দিকেও নজর রাখতে হবে, সেই সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থাও সম্পূর্ণ ঠিক রাখতে হবে। বিচারপতি গাভাই বলেন, ‘আমাদের স্বাধীনতা এবং জাতীয় নিরাপত্তার মধ্যে সমতা দরকার।’

সিনিয়র আইনজীবী বীরেন্দ্র গ্রোভার দাঁড়িয়েছিলেন সাংবাদিক অনুরাধা ভাসিনের হয়ে।  অবরুদ্ধ কাশ্মীর নিয়ে বিচারপতি এনভি রামানার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। জানতে চান আর কতদিন চলবে এমন পরিস্থিতি। সিনিয়র আইনজীবী দূষ্মন্ত দাভে শীর্ষকোর্টের বেঞ্চকে মনে করিয়ে দিয়ে বলেন,‘এটা মানবাধিকার ইস্যু।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটা এমন বিষয় নয় যাতে কেবল টেকনিক্যাল সমস্যা রয়েছে।’

উপত্যকার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত উদ্বেগের কথা সুপ্রিম কোর্টকে জানান– আইনজীবী মীনাক্ষী অরোরা। তিনি বলেন, ‘জম্মু-কাশ্মীরের প্রত্যন্ত এলাকাগুলি থেকে মানুষ চিকিৎসার জন্য শ্রীনগরে আসছেন। কিন্তু পাচ্ছেন না চিকিৎসা পরিষেবা। সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার সুযোগ সুবিধা, এমনকি প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার পরিষেবা ইন্টারনেট ছাড়া মিলছে না।’ 
এর জবাবে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, ‘সম্পূর্ণ ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে।’ আসলে ওদের অন্য কথা বলা হয়েছে। সে কথা আমি এখানে এখন বলছি না। দাবি মেহতার।
৩০ সেপ্টেম্বর প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ কাশ্মীর সংক্রান্ত সমুদয় মামলা ‘কাশ্মীর বেঞ্চ’ এ স্থানান্তরিত করেন। সময় বাঁচাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমনিতেই বাবরি মামলার দীর্ঘ শুনানি চলছে। তারই মাঝে কাশ্মীর মামলা শুনতে েগলে আরও সময় লাগবে। তাই কাশ্মীর সংক্রান্ত মামলা শুনানি কাশ্মীর বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন প্রধান বিচারপতি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only