মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৯

নিকেশ হল বাগদাদি, শুরু হল একগুচ্ছ প্রশ্ন

হোয়াইট হাউসে বসে ‘বাগদাদির ঘাঁটি’তে ‘অপারেশন লাইভ’ দেখছেন ট্রাম্প।
আহমদ হাসান ইমরান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী এই বার বাগদাদি নাকি সত্যিই নিহত হয়েছে। এতে অবশ্য আশ্চর্যের কিছু নেই। ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে--- ‘বিপ্লবের সন্তানদের নাকি বিপ্লব-ই শেষপর্যন্ত ভক্ষণ করে’। কাজেই আবু বকর আল বাগদাদিকে আইএস প্রধান এবং ‘মুসলিম বিশ্বের খালিফ’ হিসাবে যারা সৃষ্টি করে তক্তে বসিয়েছিল, তারাই এবার তাঁকে নিকেশ করল! অবশ্য যদি বিশেষ প্রয়োজনে খালিদ বাগদাদি আবার বেঁচে না ওঠে!
খুবই নাটকীয়ভাবে বাগদাদিকে হত্যার খবর সারা বিশ্বে প্রচারিত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড। অবশ্য মার্কিন সিনিয়র অফিসাররা এই আনন্দদায়ক খবরেও যেন একটু নারাজ। তারা বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই খবরটি স্বয়ং ঘোষণা করবেন বলে এতই ব্যগ্র হয়ে পড়েছিলেন যে তিনি উপদেষ্টাদের কোনও পরামর্শই মানেননি। সব প্রমাণপত্র সংগ্রহ না করেই তিনি এই সুখবরটি সারা বিশ্বে প্রচার করে দেন। এবার প্রমাণ হিসাবে হাজির করা হয়েছে খালিফ বাগদাদির ডিএনএ-কে। নিহত  বাগদাদির ডিএনএ সংগ্রহ করে মার্কিন বিজ্ঞানীরা তৎক্ষণাৎ মিলিয়ে দেন সেখানে পড়ে থাকা ছিন্নভিন্ন বাগদাদির দেহের সঙ্গে। তাহলে নিহত বাগদাদি-ই যে বাগদাদি, তা নিয়ে সন্দেহের আর কোনও কুয়াশা রইল না।  উপরন্তু স্যাটেলাইটে স্বয়ং তাঁর সেনাবাহিনীর এই অপারেশন হোয়াইট হাউসে বসে তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করছিলেন ট্রাম্প। এ সম্পর্কে স্বয়ং ট্রাম্পই বলেছেন, আমি এই অপারেশনের সরাসরি সম্প্রচার দেখছিলাম, যেন আমি একটি মুভি দেখছি। 
খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট যখন চর্মচক্ষে আবু বকর আল বাগদাদিকে অবলোকন করেছেন, তাহলে বাগদাদিকে মৃত বলতে আর বাধা কোথায়? 
মার্কিন সেনাবাহিনী বাগদাদিকে হত্যা করলেও প্রেসিডেন্ট স্বয়ং স্বীকার করেছেন, এই মহাকাণ্ডের কৃতিত্ব অবশ্যই মার্কিন সেনার। কিন্তু পুরোপুরি নয়। কারণ এই হত্যাকাণ্ডে মহাশক্তিধর মার্কিন সেনাকে বিশেষভাবে সাহায্য নিতে হয় তুরস্ক, রাশিয়া ও কুর্দিদের একটি গোষ্ঠীর। বলা যায় প্রায় একটি বিশ্ব জোটের।  
ট্রাম্প নিজেই ঘোষণা করেছেন আর শুধু তাই নয়, শুকরিয়াও আদায় করেছেন যে, তুরস্ক ও রাশিয়া প্রভৃতি রাষ্ট্র বিশেষ করে তুরস্ক খোঁজখবর ও সাপোর্ট দিয়ে বাগদাদিকে হত্যা করার সবরকম মাল-মশলা একরকম সাজিয়ে দিয়েছিল মার্কিন সেনাবাহিনীর প্লেটে। আর তারপরই শেষ কর্মটির সমাধা করে মার্কিন সেনারা। অবশ্য এ নিয়ে দুনিয়াজুড়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। যেমন অনেকে বলছেন, আইএস-এর খালিফ বলে উপাধিপ্রাপ্ত বাগদাদিকে নাকি বহুদিন আগেই মার্কিন সেনারা পাকড়াও করে বন্দি করে রেখেছিল। আরও প্রশ্ন কীভাবে খালিফ আল বাগদাদি বিধ্বস্ত ও পর্যদস্তু ইরাক ও সিরিয়ার ভূমিতে টপকে পড়ল।  কে বা কারা তাকে খালিফ উপাধি প্রদান করল? অনেকে এও বলছেন, আসলে এই বাগদাদি হচ্ছে মূলত ইসরাইলের মোসাদ– আমেরিকার সিআইএ-র পূর্বপরিকল্পিত সৃষ্টি যাতে মুসলিমদের বদনাম করা যায়। কারণ, ‘খালিফ হওয়ার আগে’ এই বাগদাদিকে কেউ চিনত বা জানত না। কথা নেই বার্তা নেই, হঠাৎ তিনি মুসলিম বিশ্বের 
‘খালিফ’ হিসাবে আবির্ভূত হলেন। বাগদাদি খালিফ হওয়ার আগে বংশানুক্রমিক হলেও যিনি খালিফ হতেন তাঁকে ধর্মভীরুতা, প্রজ্ঞা ও শাসনক্ষমতা প্রভৃতি বিষয়ে গুণ থাকতে হতো। তবেই তিনি মুসলিম জনসাধারণের আনুগত্য পেত। বাগদাদিকে খালিফ কারা ঘোষণা করল? বাগদাদি কেন কখনও ইসরাইলকে তার সেনাবাহিনী দ্বারা বা মৌখিকভাবে হামলা করেননি? বাগদাদি কীভাবে অর্থ ও সেনাবাহিনী সংঘটিত করল? 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only