বুধবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৯

আজ শেষ হতে পারে অযোধ্যার শুনানি, আগ্রহের পারদ চড়ছে ঐতিহাসিক রায় শোনার জন্য

 অযোধ্যার বাবরি মসজিদের বিতর্কিত জমি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সংবিধান বেঞ্চে শুনানির শেষ দিন ১৬ অক্টোবর। সেরকমই ইঙ্গিত দিলেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। মঙ্গলবার ছিল লাগাতার শুনানির ৩৯তম দিন। এদিন প্রধান বিচারপতি বলেন, আগামীকাল ৪০তম দিনেই শেষ হতে চলেছে এই মামলার শুনানি। আর ১৭ নভেম্বরের মধ্যে ঘোষণা করা হবে চূড়ান্ত রায়। তবে আজকের ইঙ্গিত দেখে মনে করা হচ্ছে, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই রায় ঘোষণা হতে পারে।

মঙ্গলবার ছিল হিন্দু পক্ষের যুক্তিতর্ক পেশ করার দিন। হিন্দু পক্ষের আইনজীবী বলেন, মুঘল সম্রাট বাবরের ভুল সংশোধন করতে হবে। আজ বিচারপতিদের পক্ষ থেকে আইনজীবী পরাশরণকে প্রশ্ন করা হয়, একবার মসজিদ তৈরি হলে সেটা হামেশাই মসজিদ থাকবে। এই মত আপনি সমর্থন করেন কি না। জবাবে তিনি বলেন, আমি এটা সমর্থন করি না। পরাশরণ এক সময়ে বলেন, অযোধ্যায় অনেকগুলি মসজিদ রয়েছে, মুসলিমরা সেখানে নামায পড়তে পারেন। রামজন্মস্থল ছেড়ে দিক।
উল্লেখ্য, গতকাল মুসলিম পক্ষের আইনজীবী রাজীব ধাওয়ান শুনানির সময় বলেছিলেন, মন্দিরের দাবিদার এখন ১২ জন। আগে মাত্র এক পক্ষ উপাসনার অনুমতি চেয়েছিল। এখন অনেক গোষ্ঠী মালিকানা দাবি করছে। একজনের বিরোধিতা অপরজন করছে। তিনি আদালতে বলেছিলেন– বিশ্বাস আর আস্থার মাধ্যমে জমির মামলাকারীদের দলিল পরিবর্তন হয় কী করে? আগে একজন দাবি করেছিল, এখন এক ডজন পক্ষ জমির মালিকানা দাবি করছে। কেউ আগে করেছে, কেউ পরে দাবি জানিয়েছে।

ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ভেঙে দেওয়া হয় ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর। তারপর এলাহাবাদ হাইকোর্টে এই মামলার শুনানি হয়। এলাহাবাদ হাইকোর্ট বিতর্কিত ২.৭৭ একর জমি তিন ভাগে ভাগ করে নেওয়ার রায় দেয়। একভাগ সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের– একভাগ নির্মোহী আখড়ার– যারা সেবাইত বলে দাবি করে আসছে প্রথম থেকে। আর একভাগ ‘রামলালা বিরাজমান’ মূর্তির জন্য বরাদ্দ হয়। সেই রায়ের বিরুদ্ধে সব পক্ষই শীর্ষ আদালতে আপিল করে। সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতি নিয়ে গঠিত সংবিধান বেঞ্চে লাগাতার শুনানি চলে। প্রধান বিচারপতি ১৭ নভেম্বর অবসর নেবেন, সে কারণে তাঁর অবসরের আগেই রায় ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে। ৪০তম দিনের শুনানি শেষ হওয়ার পর বিচারপতিরা রায় লেখার জন্য কিছুদিন সময় নেবেন। তারপর ঘোষিত হবে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর মামলার রায়। যদিও সব পক্ষই জানিয়ে দিয়েছে, শীর্ষ আদালতের উপর তাদের সর্বাধিক আস্থা রয়েছে। তবুও কট্টরবাদী গোষ্ঠী উত্তেজনা যাতে না ছড়ায় তার জন্য ইতিমধ্যে ফৈজাবাদে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ দলীয় সমর্থক তথা রাজ্যবাসীকে জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়কে সম্মান জানানোর জন্য।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only