রবিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৯

সিপিএমের নানুর শাখা সম্পাদক নিখোঁজ, পরিবারের আশঙ্কা অপহরণ


সিপিএমের নানুর শাখা সম্পাদক নিখোঁজ।  পরিবারের আশঙ্কা অপহরণ করা হয়েছে তাঁকে।  নানুর এরিয়া কমিটি'র বাসাপাড়া'র শাখা সম্পাদক সুভাষচন্দ্র দে(৫০)।  গত ১৮ অক্টোবর থেকে নিখোঁজ তিনি। তাঁকে অনেক খোঁজাখুজি করে না পেয়ে থানায় একটি  মিসিং ডায়রি  করেছে তাঁর পরিবার। কিন্তু শনিবার সন্ধ্যা পাঁচটার সময় নানুরের বঙ্গছত্র-এর একটি ট্রেনিং কলেজের সামনে থেকে তাঁর বাইকটি উদ্ধার করছে পুলিশ।

 স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, সুভাষচন্দ্র দে'র বাড়ি বাসাপাড়া গ্রামেই। তাঁর পরিবার সুত্রে জানা গেছে, পেশায় এলআইসির  এজেন্ট তিনি। গত শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার সময় বোলপুরের এলআইসি অফিস যাব বলে বাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। তাঁর পরিবারের লোকজন জানান, তিনি বেলা সাড়ে  তিনটে পর্যন্ত ওই অফিসে ছিলেন। তাঁরপর সেখানে তাঁর একজন সহকর্মী নাসির সেখকে সঙ্গে নিয়ে ইলামবাজার যান একজন গ্রাহকের বাড়ি। পরে নাসির সেখকে তিনি সন্ধ্যা পাঁচটার সময় জয়দেব মোড়ে নামিয়ে দেন। তাঁর বাড়ি ইলামবাজার। এরপর থেকে তাঁর মোবাইলের সুইচ বন্ধ ছিল। ফলে পরিবারের তরফে তাঁর সাথে কোনো যোগাযোগ সম্ভবপর হয়নি। এদিকে রাত বেড়ে যাওয়ায় বাড়ির লোকজন অস্থির হয়ে পড়েন।

 সেই রাতেই তাঁর কোনো খোঁজ না পেয়ে নিখোঁজ সুভাষ বাবুর জামাই, দু-একজনকে সঙ্গে নিয়ে রাতেই ইলামবাজর যান নাসির সেখের বাড়ি। এবং তাঁর কাছে সমস্ত ঘটনার বিবরণ শুনে একটি মিসিং ডায়েরি করা হয় ইলামবাজার থানায়। পুলিশ তাঁর মোবাইলের লোকেশান ট্যাগ করে দেখেছে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত তাঁর মোবাইলটি ছিল জয়দেব মোড়ের কাছে শিবপুর বলে একটি গ্রামে। কিন্তু তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

 রবিবার নানুরের পার্টি নেতা সুদেব থান্ডার ও এরিয়া কমিটির সম্পাদক আসগার আলি তাঁর এই নিখোঁজ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যা মনে হচ্ছে  শাখা সম্পাদক সুভাষচন্দ্র দেকে অপহরণ করা হয়েছে।শনিবার তাঁর বাইকটি বাসাপাড়ার নিকট বঙ্গছত্র  কলেজের নিকট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।।পরে তাঁর পরিবারের তরফ থেকে নানুর থানাতেও একটি মিসিং ডায়রি করা হয়েছে। তার কারন ইলামবাজার থেকে আসার পর তাঁর বাইক পাওয়া গেলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। সেখানে তিনি অভিযোগ করে বলেন, সুভাষ বাবু পেশায় এল আই সি এজেন্ট হলেও তাঁর একটা রাজনৈতিক ভূমিকা ছিল। তিনি এই সন্ত্রাস কবলিত থুপসড়া পঞ্চায়েত এলাকার নেতৃত্ব দেন। এছাড়াও তিনি সুচপুর মামলায় ৫বছর জেল খেটেছেন। এখন এটা বলা মুশকিল তাঁকে কারা এবং কেন অপহরণ করল? এই নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদিও পুলিশ বিষয়টি নিয়ে গুরুত্ব সহকারে তদন্ত শুরু করেছে। তবে এখন পর্যন্ত তাঁর কোনো খোঁজ মেলেনি। অবিলম্বে তাঁকে উদ্ধার করার জন্য পুলিশের কাছে দাবি জানানো হয়েছে পরিবার ও দলীয় তরফে।


                                                

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only