রবিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১৯

কালীপুজোয় দূষণ রুখতে লালবাজারে পর্ষদ কর্তারা



চিন্ময় ভট্টাচার্য

কালীপুজোকে ঘিরে অন্যবারের মতো এবার যাতে দূষণ না-ছড়ায়, সেজন্য বিশেষ উদ্যোগ নিল রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। শব্দবাজির মাত্রা যাতে বিধি লঙ্ঘন না-করে, সেজন্য শনিবার অর্থাৎ চতুর্দশীর রাত থেকেই তৎপর ছিলেন দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের আধিকারিকরা। যার ফলে, বিধি বহির্ভূত শব্দবাজির ব্যবহার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। পর্ষদ সূত্রে খবর, এই ব্যাপারে কলকাতা পুলিশ এবং দমকলের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করাতেই সাফল্য এসেছে।

অন্যান্যবার কালীপুজোর আগের রাত এবং কালীপুজোর রাতে বিধি ভেঙে ব্যাপকহারে শব্দবাজি ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে সমাজের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। স্থানীয় থানার পাশাপাশি, সেই সব অভিযোগ পৌঁছয় লালবাজারেও। সেকথা মাথায় রেখে, এবার খোদ লালবাজারেই মোতায়েন করা হয়েছে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের আধিকারিকদের। এই ব্যাপারে পর্ষদ সূত্রে খবর, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা হুবহু মেনেই এবার শব্দবাজি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট আগেই শব্দবাজি পোড়ানোর সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। সেই সময়সীমা হল রাত ৮টা থেকে ১০টা। সেই নির্দেশিকা অনুযায়ী, শব্দের উচ্চসীমা যেন ৯০ ডেসিবলের ওপর না-পৌঁছয়, এবার তার জন্য কলকাতা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে, গোড়া থেকেই তৎপর ছিলেন পর্ষদ কর্তারা। পরিবেশ রক্ষা আইন যে ভঙ্গকারীদের ক্ষেত্রে কঠোরভাবে বলবৎ করা হবে, গত কয়েকদিন ধরেই পর্ষদ কর্তারা সেই বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন সমাজের সর্বস্তরে। পরিবেশ রক্ষা আইন ভাঙলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। জরিমানা হতে পারে একলক্ষ টাকা পর্যন্ত। একথা পইপই করে লিফলেটের মাধ্যমে সমাজের সর্বস্তরে জানিয়ে দিয়েছে কলকাতা পুলিশ। শহরের প্রতিটি থানা এলাকায় সেই লিফলেট বিলিও করা হয়েছে।

পাশাপাশি, বাজি যেন কলকাতার পাঁচটি এবং হাওড়ার তিনটি বাজি বাজার থেকেই সাধারণ মানুষ কেনেন, কলকাতা পুলিশ গত কয়েকদিন ধরে সমাজের সর্বস্তরে সেই প্রচারও চালিয়েছে। পাশাপাশি, কোন বাজিগুলো কেনা যাবে, তার তালিকাও নিজেদের ওয়েবসাইটে দিয়ে দিয়েছে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। পর্ষদকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিমা বিসর্জনের ক্ষেত্রেও দূষণ রুখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিমা বিসর্জনের জন্য মোট ৩৪টি ঘাটকে চিহ্নিত করেছে কলকাতা পুলিশ। পর্ষদের আধিকারিকদের পাশাপাশি, এই সবক'টি ঘাটে থাকবেন কলকাতা পুলিশের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা।

পাশাপাশি, প্রতিটি ঘাটে রিভার ট্র‍্যাফিক পুলিশ মোতায়েনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। বিসর্জনের সময় সিসিটিভির মাধ্যমে প্রতিটি ঘাটে নজর রাখার ব্যবস্থা করেছে কলকাতা পুলিশ। শুধু তাই নয়, দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নির্দেশে, গোটা বিসর্জন প্রক্রিয়াকে দূষণমুক্ত রাখতে নজর রাখার জন্য ওয়াচ টাওয়ারেরও বন্দোবস্ত করেছে কলকাতা পুলিশ। বিসর্জনের সময় যাতে দূষণ ছড়াতে না-পারে, সেজন্য প্রায় ২৫০টি জায়গায় বিসর্জনের যাত্রাপথে পুলিশ পিকেটের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের আধিকারিকরাও এই সব পিকেটগুলো পরিদর্শন করবেন বলেই পর্ষদ সূত্রে খবর।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only