মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৯

এই গ্রামে মন্দির-মাজারে একসঙ্গে প্রার্থনা না করলে পূরণ হয় না মনের ইচ্ছা

খোদ যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যে গাদ্দিআজিপুর গ্রাম। এখানে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে সম্প্রীতি উঠে এসেছে সংবাদ শিরোনামে। কীভাবে?
এনসিআরবি বা ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর সদ্য প্রকাশিত সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে– হিংসাত্মক অপরাধের দিক থেকে গোটা দেশের মধ্যে শীর্ষে উত্তরপ্রদেশ। অথচ  গাদ্দিআজিপুর গ্রাম,  রাজধানী শহর লখনউ থেকে যার দূরত্ব প্রায় ১১০ কিমি– সেই জায়গা তুলে ধরছে অন্য একটি দিক। সেটি হল– এখানে কোনও হিন্দু যদি মন্দিরে যান– তাহলে তিনি অবশ্যই মাজারেও যান প্রার্থনার জন্য। ঠিক একই কাজ করেন মুসলিমরাও। মাজারে গেলে ঢুঁ মারেন মন্দিরেও। কারণ ভক্তদের বিশ্বাস– এমনটা না করলে তাদের প্রার্থনা পূরণ হবে না। 
বছর ৫৯-এর এক দোকানি কান্তা পুষ্পক বলেন, এটা এই জায়গার বিশেষত্ব। যারা এই স্থানে আসেন– তারা এটা পালন করেন। স্থানীয়রা বলছেন, ৮০ সাল আগে মন্দির আর মাজারের নির্মাণ হয়। বছর ৬১-এর এক কাপড় ব্যবসায়ী আহমদ মোবিন বলেন, আনুমানিক ১৯৩০ সাল নাগাদ মুসলিমরা জিন্দ পীরবাবাকে শ্রদ্ধাজ্ঞলি জানাতে মাজারের তৈরি করে। একসময় এই জিন্দ পীরবাবা বহু ভয়ানক রোগ থেকে মানুষকে মুক্তি দিয়েছিলেন। আধ্যাত্মিক শক্তি বলে তিনি শুধু মুসলিমদেরই নয়। হিন্দুদেরও বহু দুরারোগ্য ব্যাধি দূর করেছিলেন জিন্দ পীরবাবা। তাই হিন্দুদের কাছেও শ্রদ্ধার মানুষ ছিলেন তিনি।
সেই বিশ্বাস থেকেই ধীরে ধীরে হিন্দুরা তাঁর মূর্তি তৈরি করেন। আর তারপর শুরু পুজো। কিন্তু জিন্দ পীরবাবা বিষয়টি জানতে পেরে তাতে অবশ্য আপত্তি করেন। শুধু তাই নয়। হিন্দুভাই বোনেদের এমনটা না করার জন্য অনুরোধও করেন। পীরবাবার দেহত্যাগের পর মুসলিমরা মাজারের পাশে মন্দির তৈরির জন্য আমন্ত্রণ জানান।  মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার  প্রচুর ভক্ত এখানে আসেন। এক আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক বলেন, ‘এই ২দিনে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। ভক্তদের বিশ্বাস সপ্তাহের ২টি দিন ভক্তিভরে পালন করলে ওপরওয়ালা সর্বশক্তি দিয়ে তাঁকে আশির্বাদ করেন।’ 
গ্রামবাসীরা বলছেন, এই সৌভ্রাতৃত্ব তাদের গর্ব। তাদের এই ভালোবাসার বন্ধন ও সৌভ্রাতৃত্ব সেই সব লোকেদের জন্য একটি উচিত শিক্ষা– যারা নিজেদের স্বার্থে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে। 



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only