রবিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৯

ফিরহাদের বিশ্বজয়

আহমদ হাসান ইমরান
কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম বিশ্ব মেয়র সম্মেলনে যোগ দিয়ে তাঁর বক্তব্যে অন্যান্য মেয়রদের ও শহর-বিশেষজ্ঞদের মন জয় করে নিয়েছেন। দুনিয়ার বড় বড় শহরগুলির সার্বিক ব্যবস্থাপনার উন্নতি সাধন এবং পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ দেওয়ার জন্য এই ‘সি-৪০ সিটিজ গ্লোবাল সামিট’ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। কলকাতার মেয়র এবং পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত এই ৩দিন ব্যাপী সম্মেলনে কলকাতা মহানগরীর মেয়র হিসাবে যোগ দেন।
শুধু যোগ দেওয়া নয়। নগর উন্নয়ন– পরিকাঠামো নির্মাণ ও পরিবেশ দূষণ রোধে কলকাতার মেয়র হিসাবে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার স্বীকৃতি স্বর*প তিনি আমাদের দেশ ও মহানগর কলকাতার জন্য বিশ্ব দরবার থেকে পুরস্কারও ছিনিয়ে এনেছেন।
প্যারিসের মেয়রের হাত থেকে ফিরহাদ হাকিম এই সম্মান গ্রহণ করেন। ফলে কলকাতা মহানগরের পালকে যুক্ত হল একটি বিশ্ব সম্মান যা শুধু বাংলা নয়– সারা ভারতের মুখকে উজ্জ্বল করেছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের পরিচালনাতেই কলকাতা শহরের পুর-ব্যবস্থাপনা আধুনিক হয়ে উঠতে শুরু করে। সুব্রত মুখোপাধ্যায় মেয়র হয়ে বিভিন্ন বিভাগের কম্পিউটারাইজেশন চালু করেন। ফলে নাগরিক পরিষেবা অনেকটাই সহজ হয়ে ওঠে। এর আগে বাম আমলে কোনও একটি সার্টিফিকেট কিংবা লাইসেন্স বের করতে প্রার্থীদের কালঘাম ছুটে যেত।
এদিকে ফিরহাদ হাকিমকে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহানাগরিকের দায়িত্ব দেওয়ার পর তিনি বিভিন্ন সময় ও অনেক ক্ষেত্রে নিজে উদ্যোগ নিয়ে নাগরিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও বিকাশ ঘটানোর জন্য আন্তরিক প্রয়াস নিয়েছেন। তাঁর অদম্য কর্মশক্তি এবং কর্মী ও অফিসারদের সঙ্গে দৃঢ় অথচ সুব্যবহার কলকাতা পুরসভার সমস্ত স্টাফকে নতুন ভাবে উদ্ধুদ্ধ করেছে। যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় দূষণ কমাতে তিনি বড় আকারে ইলেকট্রিক বাস পরিষেবা চালু করেছেন যা ক্রমশ আরও প্রসারিত হবে। শহরের রাস্তায় গ্যাস ও কয়লার উনুনের পরিবর্তে ইলেকট্রিক ওভেন চালুর কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া কলকাতার বিভিন্ন মোড়ে পানির ফোয়ারা– দূষণ রোধে ভার্টিক্যাল গার্ডেন– শহরে গাছের হাজার হাজার চারা রোপণ এবং গাছের পাতা ধোয়ারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া কেএমডিএ-এর চেয়ারম্যান হিসাবে ফিরহাদ হাকিম দীর্ঘদিন ধরে যেভাবে নতুন নতুন ভাবনা নিয়ে পরিবহণে দূষণ নিয়ন্ত্রণ– ইকোপার্ক নির্মাণ– সড়ক উন্নয়ন এবং অন্যান্য ব্যবস্থা নিয়েছেন– তা সকলকে মু? করেছে। অদম্য কর্মশক্তি নিয়ে তিনি যেভাবে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছেন তা শুধু মুখ্যমন্ত্রী নয়– সকলকেই মোহিত করেছে।  লোকে তাই এখন বলছে ফিরহাদ হাকিম হচ্ছেন ‘২৪অ৭ মহানাগরিক’। রাতদিন সর্বক্ষণ তিনি নাগরিকদের সেবায় উপস্থিত। তা সে অগ্নিকাণ্ড– অতিবৃষ্টি– ভূমিধস কিংবা দুর্বল সেতুর প্রতি নজর যাই হোক না কেন।
তাই বলতেই হবে–  কলকাতা শহরের জন্য এই বিশ্ব শিরোপা অর্জনে ফিরহাদ হাকিমের ব্যক্তিগত ভূমিকাও অনস্বীকার্য। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only