শনিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৯

কৃষিক্ষেত্রে সমবায় মডেল, চাষিদের 'কোম্পানি' বানাচ্ছে রাজ্য সরকার



চিন্ময় ভট্টাচার্য 

রাজ্যের কৃষিক্ষেত্রের বিকাশের জন্য কোম্পানি তৈরি করতে চলেছে রাজ্য সরকার। কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদন বাড়ানো এবং দরিদ্র চাষিদের বাড়তি অর্থ রোজগারের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের আশা, এর ফলে ফসলের অভাবী বিক্রি বন্ধ হবে। যার প্রভাবে দৃঢ় হবে গ্রামীণ অর্থনীতি। এজন্য রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে 'ফার্মার্স প্রডিউসার কোম্পানি' গঠন করা হচ্ছে। একটি নির্দিষ্ট প্রকল্পের ভিত্তিতে তৈরি করা হচ্ছে এই 'ফার্মার্স প্রডিউসার কোম্পানি'। প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে, 'কৃষক উৎপাদক সঙ্ঘ গঠন প্রকল্প'। কেন্দ্রীয় সরকারের কোম্পানি আইনে গঠিত এই সংস্থার মাধ্যমেই কৃষির চিরাচরিত সমস্যার নিরসন করতে চাইছে রাজ্য। 

কৃষি দপ্তর সূত্রে খবর, দেশের সাধারণ কৃষকরা অসংগঠিত। তাই তাঁরা কৃষিতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করতে পারেন না। কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারেও তাঁরা পিছিয়ে। কৃষকদের অনেকে সঠিক মানের বীজ, সার, কীটনাশক প্রয়োগ করতে পারেন না। অভাবী বিক্রির জন্য ফসলের ন্যায্য দামও পান না। তা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যই কৃষি উৎপাদক সংগঠন বা কৃষি উৎপাদক কোম্পানি তৈরি করা হয়েছে। ব্যাংক ঋণ ছাড়াও সরকার থেকে এই প্রকল্পে কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে। এর ফলে কৃষকরা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আরও সুসংহতভাবে উৎপাদন করতে পারবেন।

কৃষি দপ্তর সূত্রে খবর, যে কৃষকরা এই সব কোম্পানিতে নাম নথিভুক্ত করতে চান, তাঁদের অংশীদারিত্বের মূল্য ন্যূনতম একহাজার টাকা। রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ ওই কৃষকদের ৫০ টাকা দিতে হবে। এরকম ১০ থেকে ১২ জন কৃষককে নিয়ে কৃষক দল তথা এফআইজি তৈরি করা হচ্ছে। একটি কৃষক দলে একটি পরিবার থেকে কেবল একজন কৃষকই অংশ নিতে পারবেন। একটি গ্রামে একাধিক কৃষক দল থাকতে পারে। প্রতিটি দলের ক্ষেত্রেই সদস্যরা মিলে সিদ্ধান্ত নেবেন, দলের নাম কী হবে। দলের সদস্যরাই আলোচনা করে ঠিক করবেন- সভাপতি, সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ কে হবেন। 

তহবিল তৈরির জন্য প্রতিটি দলকে স্থানীয় ব্যাংকে একটি সেভিংস অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। দলের সভায় কৃষকদের ঠিক করে নিতে হবে, প্রত্যেক সদস্য প্রতিমাসে কত টাকা করে সেভিংস অ্যাকাউন্টে জমা দেবেন। এর পর প্রতিটি কৃষক দল থেকে দু'জন করে সদস্য নিয়ে ব্লকভিত্তিতে ক্লাস্টার কমিটি গঠন করতে হবে। প্রতিটি ক্লাস্টার কমিটি থেকে ১১ থেকে ১২ জন কৃষককে নিয়ে কেন্দ্রীয় কোম্পানি আইন অনুসারে একটি কৃষি উৎপাদন কোম্পানি গঠন করা হবে। সেই কোম্পানিকে রেজিস্ট্রেশন করানো হবে। 

ইতিমধ্যে রাজ্যে এই ধরনের প্রায় ১৬০টি কোম্পানি গঠন করা হয়েছে। যেমন বর্ধমানে সুগন্ধী দেরাদুন চাল উৎপাদন করছে কৃষকদের এমনই একটি কোম্পানি। উত্তরবঙ্গে আবার এই ভাবেই কৃষকরা কোম্পানি তৈরি করে আনারস চাষ চলছে বলেই কৃষি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only