মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৯

ক্ষ্যাপা গরু সামলাতে নাস্তানুবাদ জার্মান পুলিশ


বার্লিন: জার্মানিতেআধা-ক্ষ্যাপাএকটি গরু নাস্তানুবাদ করে ছেড়েছে পুরো পুলিশ বাহিনীকে গরুটি হঠাৎই চারিদিক ঘেরা খামারবাড়ির এক গেট দিয়ে বেরিয়ে পড়ে অবশ্যই একা না সঙ্গে ছিল তার এক সাথি কিন্তু পালানোর ক্ষেত্রে বোধহয় সঙ্গী গরুটির তেমন একটা মুনশিয়ানা ছিল না একসঙ্গে পালালেও খামারের মালিক নিজেই ওই গরুটিকে ধরতে সক্ষম হয়
কিন্তু অপর গরুটি ছিল রবিনহুডের মতোই দুর্ধর্ষ সে জার্মানি শহর বাভেরিয়াতে প্রচণ্ড গতিতে ছুটতে থাকে পুলিশে খবর যায় কিন্তু গরুটিকে তারা কোনও মতেই কায়দা করতে পারেনি ওই প্রাণীটিকে বাগে আনতে পুলিশের কমান্ডোরা ব্যর্থ হলে ফায়ার ব্রিগেড কর্মীদেরও ডাক পড়ে তবে কে শোনে কার কথা! গরুটি ক্ষতি করেছে এক প্রিনহাউজ এবং পুলিশের কমান্ডো বাহিনীর একটি গাড়িরও আর গ্ততিয়ে জখম করেছে খামারের মালিককে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বরাত জোরে মালিক যাত্রায় জোর বেঁচে গেছেন
ছিল শুধু ট্রেলার মাত্র! শেষপর্যন্ত ছুটন্ত গরুটি ঠিক কোথায় রয়েছে, তা চিহিতত করতে ডাকতে হয় হেলিকস্টারও ! যে-সে কপ্টার নয়, তাতে ছিল 'থার্মাল ইমেজিং, প্রযুক্তিসম্পন্ন সরঞ্জামও জার্মানির বাভেরিয়ার সান্ড আম মাইনে এই গরুকাণ্ড শেষপর্যন্ত আন্তর্জীতিক খবর হয়েছে কয়েকঘণ্টা ধরে গরুটির পিছনে কয়েকটি গাড়ি নিয়ে সমানে ছুটেছে পুলিশের কমান্ডো বাহিনী সন্ধ্যায় খামার থেকে গরুটি পালিয়ে যাওয়ার কথা স্থানীয় পুলিশকে জানায় তার মালিক
প্রায় ঘণ্টার বেশি সময় পর ৬০০ কেজি ওজনের ওই বিশালাকার গরুটিকে ধরতে পুলিশ সক্ষম হয় পরে সংবাদমাধ্যমকে পুলিশের কমান্ডার আন্দ্রেয়া ভিষ্কলার বলেন, এখন বিষয়টি হাস্যকর মনে হলেও এটা ছিল এক বিপজ্জনক কাজ পরে পুলিশ-প্রশাসন হেলিকপ্টার নিকটবর্তী একটি সুপার মার্কেটের কাছে গরুটিকে চিহ্নিত করে এই সময় ক্রুদ্ধ ওই গরুটি একটি গ্রিন হাউজ প্রশিক্ষণ শিবির ক্ষতিগ্রস্ত করে এক পর্যায়ে পুলিশ মাইকে ওই এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বলে
গরুটি এক সময় মেজাজ হারিয়ে এক স্কুটার আরোহী পুলিশের গাড়ির ওপর চড়াও হয় এরপর হেলিকপ্টারের পাইলট কমান্ডোরা পলায়মান গরুটিকে এক সরু পথের শেষ প্রান্তে শনাক্ত করতে সক্ষম হন বেশ কয়েকটি গাড়িনিয়ে পুলিশের স্থানীয় অগ্নিনির্বাপণ কর্মীরা তাকে ঘিরে ফেলে তাদের সঙ্গে ছিল এক পশু চিকিৎসক তিনি চেতনানাশক তির ছুড়ে গরুটিতে বাগে আনতে নির্দেশে দেন লঙ্কাকাণ্ডের পরের দিন মালিক সেটিকে খামারে ফিরিয়ে নিয়েছেন শহরের মানুষজন গরুটির প্রাণঘাতী হামলার শিকার হলেও পুলিশ কিন্তু গুলি চালিয়ে গরুটিকে কাত করে ফেলেনি বরং বেশ সংযম দেখিয়েছে
মাত্র কিছুদিন আগে জার্মানিতে একফুড ফেস্টবা খাদ্য মেলা'য় কেরলিয়ান একটি স্টল গো-মাংস ভাজা মেন্যুতে
রাখায় সেখানকার বেশ কিছু কষ্টর হিন্দুত্ববাদী প্রবল বিক্ষোভ দেখায় হয়তো ভারতের উপ্র গো-রক্ষকদের কথা মনে
রেখেই পুলিশ গুলি চালানোর ঝুঁকি নেয়নি বরং নিজেরা আহত হয়েও ৬০০ কেজির নধর গরুটিকে জীবিত অবস্থায়
খামারে ফেরত দিয়েছে অনেকে বলছেন, আহা! ভারতের গো-রক্ষকরা যদি একটু আইন মানবাধিকারের পরোয়া
করত, তাহলে কতই না ভালো হত!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only