মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৯

বহরমপুরে এনআরসি-বিরোধী সভা



মুর্শিদাবাদ জেলা সাংবাদিক সংঘের সভাঘরটি সোমবার অপরাহ্নে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠেছিল। এ দিন বহরমপুরে অনুষ্ঠিত হল এনআরসি-বিরোধী সভা  এবং মুর্শিদাবাদে বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ ও পঠন-পাঠনের কাজ অবিলম্বে শুরু করার আহ্বান জানিয়ে এক মনোজ্ঞ আলোচনাচক্র। সেইসঙ্গে ছিল ‘সম্প্রীতির বীজতলা’ নামক একটি পুস্তকের উপর আলোচনা ও কবিতাপাঠ। এই সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেূক ও প্রাক্তন সাংসদ মইনুল হাসান– রাজ্যসভার সাংসদ ও পুবের কলম পত্রিকার সম্পাদক আহমদ হাসান ইমরান– জনাব আবুল হাসানাত– বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাসেবী জনাব মসিউর রহমান– জনাব হাসিবুর রহমান– শাবানা ইয়াসমিন প্রমুূ। সভায় উপস্থিত ছিলেন সমাজকর্মী এবং কবিসাহিত্যিক ও স্থানীয় পত্রিকা-সম্পাদকরা।
জনাব মসিউর রহমান মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বলেন– অবিলম্বে এই বিশ্ববিদ্যালয় চালু হওয়া প্রয়োজন। কৃষ্ণনাথ কলেজ পশ্চিমবাংলার একটি প্রাচীন কলেজ। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়েরও পূর্বে এই কলেজ গড়ে ওঠে। তাই আমার বক্তব্য– এই ঐতিহ্যবাহী কলেজটিকে স্বনামে বজায় রাূা হোক। আর মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠুক আলাদাভাবে। মুর্শিদাবাদে জায়গার অভাব নেই। এনআরসি সম্পর্কে তিনি বলেন– এনআরসি নিয়ে ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল হলে যারা বাংলাদেশ থেকে আসা দলিত– নমঃশূদ্র রয়েছেন– তাঁদেরই বেশি অসুবিধা হবে। বহু রিফিউজি সংগঠন এই নিয়ে ইতিমধ্যে সোচ্চার হয়েছে।
সাংসদ ও পুবের কলম পত্রিকার সম্পাদক আহমদ হাসান ইমরান বলেন– মুর্শিদাবাদের জনসং্যূা প্রায় ৭৪ লক্ষ। পৃথিবীর বহু রাষ্টেÉ এত জনসং্যূা নেই। দেশভাগের ফলে সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা। বাম আমলে মুর্শিদাবাদ ভারতের অন্যতম দারিদ্র্যপীড়িত জেলা বলে চিহ্নিত হত। বেকারত্ব ছিল চরমে। এই জেলাটিকে নো-ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। ফলে এূানে শিল্পের বিকাশ ব্যাহত হয়। ইমরান বলেন– এটা ূুব আনন্দের কথা যে– মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার মুর্শিদাবাদের সার্বিক বিকাশে জোর দিয়েছে। তিনি অবশ্য একইসঙ্গে জঙ্গলমহল– পাহাড়– কৃষিপ্রধান সব এলাকার বিকাশে সচেষ্ট হয়েছেন। এটাও আনন্দের কথা– মুর্শিদাবাদে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার জন্য বিধানসভায় একটি আইন পাস করা হয়েছে। আমরা আশা করব– ‘মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়’ গড়ার এই আইন বাস্তব র*প নেবে।
এনআরসি সম্পর্কে সাংসদ ইমরান বলেন– পশ্চিমবাংলায় এনআরসি করা এত সহজ নয়। অসমে এনআরসি করতে গিয়ে বিজেপি সরকারের মুূ পুড়েছে। যে ১৯ লাূকে তারা বিদেশি বলে চিহ্নিত করেছে তাদের বিপুল অংশ বাংলাভাষী হিন্দু। বিজেপির যে নেতারা তূন বলেছিলেন– অসমে এনআরসি করতে হবে– তাদেরই নেতা হিমন্ত বিশ্বশর্মা এূন বলছেন– আমরা এই এনআরসি মানব না– মানছি না। অমিত শাহ এূন বলছেন– এনআরসি বাস্তবায়নের পূর্বে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস করা হবে। আর এর মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে আগত সমস্ত অমুসলিমকে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। শুধু বাদ থাকবে মুসলিমরা। এই নীতি আরও বিপদ ডেকে আনবে। কারণ– এই আইন বাস্তবায়িত হলে যেসব বাংলাদেশি হিন্দু পশ্চিমবাংলা বা ত্রিপুরায় রয়েছেন– তাঁদের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য এই বলে আবেদন করতে হবে যে– আমরা বাংলাদেশি নাগরিক। ধর্মীয় অত্যাচারের কারণে ভারতে এসেছি। এরপর তাঁদের নাগরিকত্বহীন অবস্থায় ছ’বছর অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে আসা এই লক্ষ লক্ষ মানুষ ইতিমধ্যে ভোটার কার্ড– রেশন কার্ড– আধার কার্ড এবং পাসপোর্ট সংগ্রহ করে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এূন তাঁরা অনুপ্রবেশকারী/শরণার্থী হিসেবে চিহ্নিত হবেন। যা কারও কাছে বাঞ্ছনীয় নয়। ইমরান আরও বলেন– নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল সংবিধান-বিরোধী। কারণ এটি ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যে ধর্মীয় বিভেদ করছে– তাই সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করলে এই আইন বাতিল হয়ে যাওয়ার কথা। সেক্ষেত্রে উদ্বাস্তু অরিজিনের বাঙালিদের মুসিবত আরও বৃদ্ধি পাবে। ইমরান মুর্শিদাবাদে সাহিত্য-সংস্টৃñতি চর্চার প্রশংসা করে বলেন– মুর্শিদাবাদ জেলা সৈয়দ বদরুদ্দোজার মতো বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি তৈরি করেছে। মুর্শিদাবাদ আবারও সাংস্টৃñতিক চর্চায় পশ্চিমবাংলার মধ্যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

প্রাক্তন সাংসদ মইনুল হাসান বলেন– রাজ্য সরকার যূন মুর্শিদাবাদে বিশ্ববিদ্যালয় বিল পাস করেছে– তূন রাজ্য সরকার বিশ্ববিদ্যালয় গড়বেই। এ নিয়ে বিভ্রান্ত হবেন না। বিভ্রান্ত করবেন না। অসমে এনআরসি হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে। কারণ তার অনেক পূর্ব ইতিহাস আছে। পশ্চিমবঙ্গে কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের কোনও নির্দেশ নেই। এূানে কোনওদিন এনআরসি প্রসঙ্গ ওঠেনি। আর মূর্ূের মতো বলে দিচ্ছে– এ রাজ্যে এনআরসি করবই। দু’কোটি মানুষকে বাংলাদেশে তাড়াবই। সবাই কি তাই বিশ্বাস করবে? বাংলাদেশ কি ‘স্বাগতম’ বোর্ড ঝুলিয়ে বর্ডার ূুলে বসে আছে? এত সহজ নয়। দিলীপ ঘোষ বোকা বলে রাজ্যের মানুষ বোকা নয়। 
মইনুল হাসান এ সম্পর্কে সকলকে অনুরোধ করেন– এনআরসি নিয়ে ভীত হওয়ার কোনও কারণ নেই।
উদার আকাশের সম্পাদক ফারুক আহমেদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এই অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রাবন্ধিক আলিমুজ্জমান– মণিরুদ্দিন খান প্রমুখ। ‘সম্প্রীতির বীজতলা’ নামক পুস্তকটি নিয়ে আলোচনা করেন আবুল হাসানাত ও হাসিবুর রহমান।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only