বুধবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৯

কেন্দ্রীয় সরকারের অস্বস্তি বাড়ালেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এমপি’রা

পুবের কলম ডিজিটাল ওয়েব ডেস্ক :  কেন্দ্রীয় সরকারের অস্বস্তি বাড়ালেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এমপি’রা। আজ এক সংবাদ সম্মেলনে ইইউ এমপি নিকোলাস ফেস্ট ভারতের বিরোধী দলের নেতা ও এমপিদের কাশ্মীরে ঢুকতে দেওয়ার পক্ষে সাফাই দিয়ে বলেছেন, ‘যদি আপনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের এমপিদের ঢুকতে দেন, তাহলে ভারতের বিরোধী দলগুলোকেও সেই ছাড়পত্র দেওয়া উচিত। সুতরাং, কিছুটা হলেও অসামঞ্জস্য রয়েছে। বিষয়টি দেখা উচিত সরকারের।’ নিকোলাস ফেস্টের ওই মন্তব্যে কেন্দ্রীয় সরকারের অস্বস্তি বেড়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

গত ৫ আগস্ট কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু-কাশ্মীরের বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ সুবিধাসম্বলিত ৩৭০ ধারা বাতিল করার পর থেকে সেখানে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। বিভিন্ন সময়ে কংগ্রেস ও সিপিএমের নেতা, এমপি ও অন্যরা রাজ্যটিতে প্রবেশ করতে চাইলে প্রশাসন তাঁদেরকে সেখানে ঢুকতে না দিয়ে বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছিল। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা গুলামনবী আজাদ, সিপিএম নেতা সীতারাম ইয়েচুরি ও অন্যরা সেখানে শর্তসাপেক্ষে প্রবেশ করতে সমর্থ হন।

এদিকে, কাশ্মীর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের যে ২৭ এমপি ভারতে এসেছিলেন তাঁদের মধ্যে ৪ জন কাশ্মীর সফর না করেই দেশে ফিরে যান। ফিরে যাওয়া চার এমপির মধ্যে ক্রিস ডেভিস রীতিমতো মোদি সরকারের সমালোচনা করে দেশে ফিরে গেছেন। অভিযোগ ছিল, সরকারি ঘেরাটোপে নয়, নিজের মতো করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন বলেই তাঁকে কাশ্মীরে যেতে দেওয়া হয়নি।

গতকাল ক্রিস ডেভিস বলেন, ‘মোদি সরকারের জনসংযোগ স্টান্টের অংশ হতে আমি আসিনি এবং এমন ভান করতে পারব না যে, সব ঠিকঠাক চলছে। এটা স্পষ্ট যে, গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ভঙ্গ হয়েছে কাশ্মীরে। সারা বিশ্বের বিষয়টিতে নজর দেওয়া প্রয়োজন।’

ন্যাশনাল কনফারেন্স দুই এমপির অভিযোগ, তাঁরা ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এমপিদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাঁদেরকে আটকে দেওয়া হয়। সেখানকার সুশীল সমাজ, বণিক মহল এবং কাশ্মীরের একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি দল ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এমপিদের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁদের সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

অন্যদিকে, অল ইন্ডিয়া মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (মিম) প্রধান  ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এমপি বিদেশি ওই প্রতিনিধিদলকে ‘নাৎসিপ্রিয়’ বলে তীব্র আক্রমণ করায় তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ইইউ এমপিদের এক মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা ‘নাৎসিবাদী’ নই। সেটা হলে আমরা নির্বাচিত হতাম না। আমাদের ‘নাৎসিপ্রিয়’ বলায় আমরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ।’

ইইউ প্রতিনিধিদের সংবাদ সম্মেলন করা প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেছেন, ‘ভারতের সংবিধানে শপথ করে এমপিদের পর্যন্ত সংবাদ সম্মেলন করার অনুমতি নেই। কিন্তু ইউরোপের এমপিদের সংবাদ সম্মেলন করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। সরকার কাদের চোখে ধুলো দিচ্ছে?’ ওরা হিটলারের প্রশংসাকারী। সরকার ওদেরকে এনেছে বলেও ওয়াইসি মন্তব্য করেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only