বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯

পড়ুয়াদের দিয়ে আল্লামা ইকবালের গান কেন? বহিষ্কার প্রধান শিক্ষককে

‘সা-রে জাঁহাসে আচ্ছা...’-র স্রষ্টা আল্লামা ইকবালের একটি কবিতাকে গানের মতো করে গাওয়ানো হয়েছিল পড়ুয়াদের দিয়ে। সেই অভিযোগে একটি সরকারি উচ্চ প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফুরকান আলিকে বহিষ্কার করা হল। ঘটনাটি ঘটেছে যোগী আদিত্যনাথের রাজ্য উত্তরপ্রদেশে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতাদের অভিযোগের জেরে এই পদক্ষেপ করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রশ্ন উঠছে– যাঁর কলম থেকে জন্ম নিয়েছে সা-রে জাঁহাসে’র মতো কবিতা– যা অধিকাংশ জাতীয়তাবাদী ভিত্তিক অনুষ্ঠানে আজও সমান জনপ্রিয়– সেই আল্লামা ইকবালের একটি কবিতাকে যেভাবে একটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী দল কাঠগড়ায় তুলেছে তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। 
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের বিশালপুরের একটি প্রাথমিক স্কুলে। অভিযোগে, স্কুলের পড়ুয়াদের দিয়ে ইকবালের লেখা ‘লব পে আতি হ্যায় দুয়া’ কবিতাটি গানের মতো করে গাওয়ানো হয়েছিল। প্রধান শিক্ষক ফুরকান আলির নির্দেশেই নাকি এমনটা করা হয়েছিল। যা নিয়ে তুমুল আপত্তি তোলে ভিএইচপি। তাদের দাবি– এটি একটি ধর্মীয় গান। মাদ্রাসায় এই ধরনের গান গাওয়া যেতে পারে– তাই বলে সরকারের স্কুলে এসব কেন? স্বাভাবিকভাবেই তাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ফুরকানকে বহিষ্কার করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। জানা গিয়েছে– বিশালপুরের ব্লক শিক্ষা আধিকারিক প্রধান শিক্ষককে বহিষ্কার করেছেন। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে– ‘যে ভিডিয়োটি ভাইরাল হয়েছে তাতে স্পষ্ট প্রাথমিক স্কুলটিতে সর্বগ্রহণযোগ্য প্রার্থনা ব্যতীত অন্য একটি গান প্রার্থনায় গাওয়ানো হয়েছিল। এজন্য স্কুলের প্রধান শিক্ষকই দায়ী। তাই তাঁকে বহিষ্কার করা হল। পিলভিটের জেলাশাসক বৈভব শ্রীবাস্তব বলেন– ‘জাতীয় সংগীতের বদলে স্কুলে ধর্মীয় গান গাওয়ানো হচ্ছিল। যা নিয়মবিরুদ্ধ। প্রধান শিক্ষকের অন্যকিছু করানোর ইচ্ছা হলে প্রশাসনের থেকে অনুমতি নিতে হত। বিশালপুরের বুনিয়াদি শিক্ষা অধিকর্তা দেবেন্দ্র স্বর*প আরও একধাপ এগিয়ে বলেন– জাতীয় সঙ্গিত গাওয়া হয়েছে কি হয়নি তারথেকেও বড় কথা কেন মাদ্রাসায় যে ধরনের গান গাওয়া হয় প্রার্থনার সময় তা একটি সরকারি প্রাথমিক স্কুলে গাওয়া হবে। এটা নিয়ম বিরুদ্ধে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে– নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় সঙ্গিত না গাইকে কেন পড়ুয়াদের ওই গান গাইতে বলা হবে? শুধু তাই নয়– জেলাশাসকের অফিসের বাইরে এই নিয়ে বিক্ষোভও দেখায় বিশ্বহিন্দু পরিষদ ও হিন্দু যুব বাহিনীর সদস্যরা। যদিও বহিষ্কূত প্রধান শিক্ষকের দাবি– ‘ইকবালের কবিতা প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত স্কুলের পাঠ্যক্রমে রয়েছে। সিলেবাসের মধ্যে থাকা একটি কবিতা সেদিন প্রার্থনার সময় গাওয়া হয়। শুধু ওই একদিনই প্রার্থনায় এই গানটি গাওয়া হয়েছিল। না হলে প্রতিদিনই নিয়ম করে জাতীয় সঙ্গিত গাওয়া হয়।  


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only