শনিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৯

শোভন কি ফিরছেন? জল্পনা উসকে পার্থর বাড়িতে হাজির বৈশাখী



চিন্ময় ভট্টাচার্য

দীপাবলির ঠিক আগের দিনই রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে গেলেন অধ্যাপিকা বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈশাখীদেবীর সুসম্পর্কের কথা সংবাদমাধ্যমের দৌলতে এখন সর্বজনবিদিত। সেই বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় এবার শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে যাওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। কারণ, পার্থ চট্টোপাধ্যায় শুধু রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীই নন। তিনি রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব পদেও রয়েছেন।

তার চেয়েও বড় কথা, বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে শোভন চট্টোপাধ্যায় সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু, রাজ্য বিজেপি নেতাদের সঙ্গে শোভন চট্টোপাধ্যায় ও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের তেমন একটা বনিবনা হচ্ছে না-বলেই অভিযোগ। এদিন সংবাদমাধ্যমের কাছে কার্যত সেকথা স্বীকারও করে নেন বৈশাখীদেবী। তিনি বলেন, 'আমি চাই শোভনবাবু সক্রিয়ভাবে রাজনীতি করুন। তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাসে রাজনীতি। শোভন চট্টোপাধ্যায় নতুন একটি দলে গিয়েছেন। সেই দল চাইলে তাঁকে দায়িত্ব দিতেই পারে। কিন্তু, এখনও পর্যন্ততেমন কিছুই দেখা যাচ্ছে না।' বিজেপির সঙ্গে তাঁর নিজের সম্পর্কটাও যে মোটেও মধুর নয়, এদিন তা-ও কার্যত স্পষ্ট করে দিয়েছেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজেকে একজন 'রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব' বলে দাবি করে তিনি বলেন, 'আমার মনে হয় না, বিজেপিকে নিয়ে কথা বলার কোনও যোগ্যতা আমার রয়েছে।'

তাহলে কি পুরনো দলের সঙ্গে শোভনবাবু ও তাঁর দূরত্ব ঘোচাতেই এদিন তিনি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে এসেছিলেন? এই প্রশ্নে বৈশাখীদেবী বলেন, 'পার্থদার সঙ্গে আমার সম্পর্ক দলগত নয়। আজ আমি যে জায়গায়, তা পার্থদার জন্যই। বিজয়ার শুভেচ্ছা জানাতে আসা হয়নি। তাছাড়া, কলেজের সমস্যাও মেটেনি। সেই কারণে এসেছি।' বৈশাখীদেবী এই কথা বললেও, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে তাঁর আসা নিয়ে জল্পনা কমেনি। কারণ, দুর্গাপুজোর পর থেকেই বিজয়া শুরু হয়। দুর্গাপুজোর পর্ব প্রায় দিন পনেরো আগে মিটে গিয়েছে। কালীপুজোর আগে বিজয়ার রেশও শেষ হয়ে যায়। সেকথা জানা থাকলেও, বৈশাখীদেবী কেন দুর্গাপুজোর এতদিন পর পার্থবাবুর বাড়িতে বিজয়া করতে এলেন, তা নিয়েই জল্পনায় বিভিন্ন মহল।

সম্প্রতি, তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেছিল বলেই বিভিন্ন মহল থেকে খবর রটেছিল। পাশাপাশি, অতীতে দেখা যেত- প্রতিবছর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির কালীপুজোয় আসা অতিথিদের বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়ির ছেলের মতোই দেখভাল করতেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে শোভন চট্টোপাধ্যায় ভাইফোঁটাও নিতেন। রাত পোহালেই সেই কালীপুজোর দিন। সেই কারণেই রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, ফের কি তৃণমূলে ফিরতে চেয়েই বৈশাখীদেবীকে দৌত্য করার জন্য পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে পাঠিয়েছিলেন শোভনবাবু? বর্তমানে প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন জেলায় গেরুয়া শিবির থেকে তৃণমূলে প্রত্যাবর্তনের ঘটনা ঘটছে। সেই কারণেই বিজেপির সঙ্গে সম্পর্কের অবনতিতে শোভনবাবুর তৃণমূলে প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না রাজনৈতিক মহল। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে বৈশাখীদেবীর যাওয়া সেই জল্পনাই বাড়িয়ে দিয়েছে বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only