রবিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১৯

মঙ্গলকোট থেকে সারাদেশে শান্তির বার্তা


পারিজাত মোল্লা, মঙ্গলকোট­ 
পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোট গ্রাম। বাংলায় ইসলাম প্রচারের ক্ষেত্রে মঙ্গলকোটের জমিনে শায়িত আউলিয়া ও সুফিদের বড় ধরনের অবদান রয়েছে। এখানেই রয়েছে পীর আবদুল হামিদ দানেশখন্দ বাঙালির মাজার। তিনি ছিলেন মুঘল বাদশাহ শাহজাহানের শিক্ষা ও দীক্ষাগুরু। তিনি মঙ্গলকোটে এসে এখানেই ইসলাম প্রচার ও মানুষের সেবার জন্য নিজেকে নিয়োজিত করেন। আর এই মঙ্গলকোটেই তশরিফ এনেছিলেন ১৭৬৬-৬৭ সালে আস্তানা শরীফের কাদেরিয়া সিলসিলার প্রথম পুরুষ। এই পরিবারের অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য সুফিগণ মেদিনীপুর, পটনা, পাণ্ডুয়া প্রভৃতি শহরে অবস্থান নেন। তাই মঙ্গলকোটকে এখনও বলা হয় ‘আঠেরো আউলিয়া’র গ্রাম।
সেই সময় ছিল বাংলার দুর্দিন। নবাব সিরাজ-উদ-দৌলাকে পরাজিত ও হত্যা করে তখন ইংরেজরা বাংলায় বকলমে নিজেদের শাসন কায়েম করেছে। সেই সময় এই সুফিদের ভূমিকা বাংলার মানুষকে হতাশার মধ্যেও আশার আলো দেখিয়েছিল।

শনিবার ২৬ অক্টোবর ছিল হযরত সৈয়দ শাহ রাশাদ আলি আল কাদেরীর ১৪তম বাৎসরিক উরস শরীফ। এই উপলক্ষ্যে আস্তানা শরীফে রাজ্যের বিভিন্ন স্থান থেকে মুরিদ ও শ্রদ্ধালুরা উপস্থিত হন। যে সকল বিশিষ্ট ব্যক্তি যোহরের নামাযের পর মঞ্চে উপস্থিত হন– তাঁদের মধ্যে ছিলেন বোলপুরের সাংসদ অসিত মাল– রাজ্যসভার সাংসদ ও পুবের কলম পত্রিকার সম্পাদক আহমদ হাসান ইমরান– বাংলাদেশের সাংসদ নাহিদ ইজাহার খান– রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা– রাজ্য বার কাউন্সিলের সদস্য আইনজীবী আনসার মণ্ডল– সেহেরাবাজার আল-আমিন মিশনের সম্পাদক সফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
এই উরস শরীফ মঞ্চের সভাপতিত্ব করেন সৈয়দ শাহ ফাদিল এরশাদ আল কাদেরী। এরপর অধ্যাপক এরশাদ আলি আল কাদেরী কুরআন ও হাদিসের আলোকে সৌভ্রাতৃত্ব বাড়ানো বিষয়ে আলোচনা রাখেন। সৈয়দ শাহ ওয়ামিকুল এরশাদ আলি আল কাদেরী হুজুর কেবলার জীবন আদর্শের উপর আলোকপাত করেন।এই উরস শরীফ মঞ্চের সভাপতিত্ব করেন সৈয়দ শাহ ফাদিল এরশাদ আল কাদেরী। এরপর অধ্যাপক এরশাদ আলি আল কাদেরী কুরআন ও হাদিসের আলোকে সৌভ্রাতৃত্ব বাড়ানো বিষয়ে আলোচনা রাখেন। সৈয়দ শাহ ওয়ামিকুল এরশাদ আলি আল কাদেরী হুজুর কেবলার জীবনাদর্শের উপর আলোকপাত করেন।
রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা বলেন– এনআরসি নিয়ে বাংলাকে অশান্ত করার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। তিনি বলেন– এর বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়াতে হবে। তিনি আরও বলেন– মোরা একই বৃন্তে দু’টি কুসুম--- নজরুলের এই কবিতাকে আমাদের বাস্তবায়িত করতে হবে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বাংলায় যে উন্নয়নের জোয়ার এনেছে তাতে আমাদের সকলকে শরিক হতে হবে। বোলপুরের সাংসদ অসিত মাল বলেন– ধর্ম কাউকে ছোট করতে শেখায়নি। তিনি আরও বলেন– আমাদের প্রচেষ্টা চালাতে হবে বাংলাকে অশুভ শক্তির হাত রক্ষা করার। রাজ্যসভার সাংসদ আহমদ হাসান ইমরান বলেন– মঙ্গলকোটের গুরুত্ব এখানে যে– এই জমিন থেকে সুফিরা ইসলাম এবং মানবসেবার বার্তা সারাদেশে প্রচার করেছিলেন। তিনি আরও বলেন– কয়েকশো বছর ধরে দিল্লিতে বাদশাহ ও সুলতানরা শাসন করলেও উত্তর বা পশ্চিম ভারতে তুলনামূলকভাবে মুসলিমদের সংখ্যা অনেক কম। অথচ পশ্চিমবাংলা– বাংলাদেশ ও অসমে মুসলিমদের সংখ্যার হার অনেক অনেক বেশি। তাই বলব– পূর্ব ভারতে মুসলিমদের সংখ্যা বেড়েছে সুফিদের দ্বারা। তিনি কুরআন ও হাদিসের কথা উল্লেখ করে বলেন– ইনসাফ এবং অন্য ধর্মের মানুষদের প্রতি সৌহার্দ্য প্রচারই ইসলামের বিশেষত্ব। তিনি আরও বলেন– হযরত সৈয়দ শাহ রাশাদ আলি আল কাদেরী নিজে তাঁর কথা ও আচরণের মাধ্যমে এবং বিভিন্ন ভাষায় পুস্তক লিখে মানুষের কাছে ইসলামের শান্তির বার্তা প্রচার করেছেন এবং সাহেবজাদারাও তাঁর তরিকা ও সিলসিলা অনুসরণ করে চলেছেন।
এই উরস শরীফে বাংলাদেশ থেকেও প্রচুর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ শরিক হন। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only