বুধবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৯

ফেসবুক থেকে পথে নামতে চলেছে ‘নো এনআরসি মুভমেন্ট’


নাজির হোসেন লস্কর
এনআরসির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে ক্রমশ তৈরি হচ্ছেন বাঙালিরা। সোশ্যাল সাইটে প্রতিদিন সংঘবদ্ধ হচ্ছেন তাঁরা। বাইরে থেকে প্রতিবাদটা তেমন করে নজরে না এলেও একটা জোরালো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সোশ্যাল সাইটে মজবুত করছে নিজেদেরকে। ফেসবুকে ‘নো এনআরসি মুভমেন্ট’ নামের গ্রুপটি থেকে তা স্পষ্ট।
প্রতিদিন হাজার হাজার বাঙালি সংযুক্ত হচ্ছে সেখানে। আজ ৫১ হাজার তো কাল ৫৫ হাজার সদস্য সংখ্যা। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে শুরু করা এই গ্রুপ ৫০ হাজার সদস্য সংখ্যা পূর্ণ করেছে ১২ অক্টোবর। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজারে। শুধু এই গ্রুপে সংযুক্ত হওয়াই নয়, এঁরা কেউ আবেগে ভেসে যাচ্ছেন না। নির্দিষ্ট একটা কর্মসূচি রয়েছে তাঁদের। তাঁরা অপেক্ষা করছে বড় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য। এঁরা নিছকই বাঙালি। সেখানে জাত নেই, ধর্ম নেই, অন্য কোনওরকম মতবিরোধ, মতপার্থক্য নেই। আছে কেবল একটাই পরিচয়, এঁরা সকলেই বাঙালি। প্রত্যেকেই আতঙ্কে রয়েছেন যে, দেশজুড়ে বাঙালিদের উপর আক্রমণের চেষ্টা করা হচ্ছে। হিন্দু, মুসলিম সকলের মনে এই প্রশ্নটা তৈরি হয়েছে।
বুদ্ধিজীবী, বিদ্বজ্জন, শিক্ষক, আইনজীবী, তরুণ সমাজ---কে নেই এই গ্রুপে? গেরুয়া আশ্বাসকে বিশ্বাস করছেন না কেউই। সচেতনভাবে বাঙালিরদের মাঝখানে হিন্দু-মুসলমান বিভাজন টেনে ফায়দা তোলার চেষ্টা চলছে, তা তাঁদের কাছে স্পষ্ট। সে কারণেই এই গ্রুপের কোনও রং নেই। হিন্দু বাঙালিদের সঙ্গে সঙ্গেই হাজারে হাজারে মুসলিম বাঙালি যোগ দিচ্ছেন এই গ্রুপে।
উল্লেখ্য, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অসমে এনআরসি নিয়ে বরাবরই সরব হয়েছেন। তিনি বলেছেন, তাঁর জীবৎকালে পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি হতে দেবেন না। এ দিকে এনআরসি ইস্যু নিয়ে বঙ্গ বিজেপি বেশ চাপে। তার মধ্যেই সম্প্রতি বাংলায় এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এনআরসি নিয়ে ধুয়ো তুলে গিয়েছেন। অমিত শাহ বোঝাতে চেয়েছেন, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এনআরসি নিয়ে ভুল বোঝাচ্ছেন। মিথ্যে বোঝাচ্ছেন মমতা। শাহ নেতাজি ইন্ডোরের সভায় বলেন, ‘হিন্দু শরণার্থীদের দেশ ছাড়তে হবে না। শিখ, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, জৈন শরণার্থীদেরও দেশ ছাড়তে হবে না। শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। বিল এনে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, মুসলিমদের শরণার্থী হিসেবে মেনে নেওয়া হবে না। এমন বৈষষ্যের কথা মেনে নেয়নি বাঙালি। তাঁরা দেখছে অসমের বর্তমান পরিস্থিতি। এনআরসি তালিকা থেকে বাদ পড়ার ১৯ লক্ষ মানুষের সিংহভাগই ভাষাগত বাঙালি। 
‘নো এনআরসি মুভমেন্ট’ নামের গ্রুপটি তৈরি করেন কয়েকজন প্রতিবাদী মানুষ। আর তারপরেই যোগ দিতে থাকেন একের পর এক সদস্য। দিন কে দিন হাজারে হাজারে বেড়েই চলেছে সদস্য সংখ্যা। আতঙ্কেও রয়েছেন উদ্যোক্তাদের প্রথম সারির কর্তা আরু মজুমদার। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা ভয় করছি চক্রান্ত করে যাতে ফেসবুক গ্রুপটি বন্ধ করে দেওয়া না হয়। তাই আমরা শুধু ফেসবুকে থেমে থাকতে চাই না। সে কারণেই সোমবার এক বৈঠকে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে ‘নো এনআরসি মুভমেন্ট’। যেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে, মঙ্গলবার ১৫ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের শেষদিন পর্যন্ত পথে নেমে সংগ্রাম পরিচালনার জন্য একটি ওয়ার্কিং কমিটি গড়ে তোলা হয়েছে। এবং ‘এনআরসি-বিরোধী গণজাগরণ অভিযান’ নামে একটি কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য থাকবে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্লক, ব্লক থেকে গ্রামে গ্রামে শাখা বিস্তার করে জনসাধারণকে বোঝানো হবে যে, এনআরসি-র ফলাফল কী হতে পারে। এবং রুখে দাঁড়াতে হবে এর বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ডিসেম্বরে কলকাতার রাজপথে মহামিছিলে পা মেলানোরও কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানালেন ‘নো এনআরসি মুভমেন্ট’ গ্রুপের কর্মকর্তা অরূপ মজুমদার।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only