শনিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৯

জমে উঠেছে বাজি বাজার


টানা অকাল বর্ষণের জেরে ক্রেতাশূন্য বাজিবাজার। মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের। শুক্রবারও বৃষ্টি হওয়ার পূর্বাভাস আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের। শনিবারও তেমন ইঙ্গিত।তবে রবিবার থেকে আকাশ রোদ ঝলমলে থাকার সম্ভাবনা। বড় ক্ষতির আশঙ্কায় বাজি বিক্রেতারা।
কলকাতায় ময়দান বা টালা পার্কের মতো বাজিবাজারগুলি শুরু হয়েছে গত বুধবার থেকে। সেদিনই শুরু হয়েছে বৃষ্টিও। কয়েক ঘণ্টা বা এক পশলা নয়। অন্ধ্র প্রদেশ ও ওডিশা উপকূলে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের জন্য টানা চলছে ঝিরঝিরে বৃষ্টি। বুধবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টির জেরে টালা বা ময়দানে কাদায় পা ফেলা দায়। ফলে বাজি বাজার মুখো হচ্ছেন না কোনও ক্রেতাই। বাজি বাজারে দ্বিতীয় দিনেও সার দিয়ে দোকান খোলা থাকলেও প্রত্যেকেরই মাছি মারার অবস্থা। বিপুল টাকার বাজি সাজানো দোকানে জল আটকাতে সামনে টাঙানো বড় বড় প্লাস্টিক। প্রতিবারই বাজার শুরুর দিন থেকেই ঢল নামে ক্রেতাদের। টালা থেকে ময়দান দীপাবলি উৎসবের আগে থাকে জমজমাট। তবে এবার সেই চিত্রটা একেবারে উলটো। খাঁ খাঁ করছে বাজার। চুপ করে বসে আছেন মালিক ও দোকানকর্মচারীরা। বাজি বাজারগুলিতে দোকান লাগাতে গেলে দিন সাতেকের জন্য ভাড়া বাবদ দিতে হয় প্রায় লক্ষাধিক টাকা। এরপর মাথা পিছু ৬০০ থেকে ৭০০টাকা রোজ হিসাবে রাখতে হয় দোকানকর্মীদের। কোনও দোকানে কর্মী সংখ্যা ৬, কোনও দোকানে ১০। তারপর চার বেলা সকলের খাওয়া দাওয়া। সব শেষে বিপুল টাকার মাল। ফলে ১দিন কোনও কারণে বিক্রি না হলে ক্ষতিটা দাঁড়ায় মোটা টাকার। তেমন ক্ষতির ইঙ্গিতই আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতি ও শুক্রবার রাজ্যজুড়ে বৃষ্টি হবে। বৃহস্পতিবার দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া পুরুলিয়া জেলায় ভারী বৃষ্টি হবে। শুক্রবার মালদহ, দুই দিনাজপুর অতি ভারী বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। বিক্ষিপ্ত ভারী বৃষ্টি হবে উত্তরবঙ্গের অন্য জেলাগুলিতে ও বীরভূম, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ জেলায়। কলকাতায় বৃহস্পতিবার রাত থেকে বৃষ্টিপাত বাড়বে। শুক্রবারও দিনভর বৃষ্টি হবে। শনিবার থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। রবিবার রোদ ঝলমলে আবহাওয়া থাকবে। অন্ধ্র প্রদেশ ও ওডিশা উপকূলে সুস্পষ্ট নিম্নচাপ অবস্থান করার ফলে বঙ্গে এই অকাল বর্ষণ। নিম্নচাপের অবস্থান একটু উপর দিকে ওডিশা উপকূল হওয়ার জেরে এরাজ্যে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে।
ময়দান বাজিবাজারের যুগ্ম সম্পাদক শান্তনু দত্তের কথায়, দীপাবলির পর দিন থেকে বাজি কেনা দূরের কথা কেউ খোঁজ পর্যন্ত নেবে না। ফলে দীপাবলির আগে এই বাজার আমাদের ব্যবসার ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ। তার মধ্যেই শুরুর দিন থেকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এমন ধাক্কা। দু’তিন দিন এক টাকার বিক্রি না হলেও মোটা টাকার স্টল ভাড়া, দোকানে রাখার কর্মীদের রোজের মজুরি, খাওয়ার খরচ সহ আনুষঙ্গিক খরচ করতেই হয়। তার অঙ্কটাও ছোট নয়। শনিবার ও রবিবার ভরসা। আবহাওয়া ভালো হলে আশা করছি বিক্রি ভালো হবে। এদিকে টালা বাজি বাজারের সম্পাদক শুভঙ্কর মান্না বলেন, বিগত ১০ বছরে এমন ঘটনা দ্বিতীয়বার। প্রতিবার বাজার শুরু প্রথম দু’-তিন দিনে নতুন নতুন ক্রেতারা আসেন। আবার প্রতিবার মাল নেন এমন ক্রেতারা আসেন কী নতুন বাজি এসেছে, কেমন দাম এসব দেখতে। এবার তা কিছুই করা গেল না। মাঠ ভর্তি কাদা তিন লরি বালি ফেলেও কাজ হয়নি। মাঠের দিকে ফিরেও তাকাচ্ছেন না ক্রেতারা। শুধু তাই নয় এমন আবহাওয়াতে জলীয় বাষ্প জমে যায় বাজির প্যাকেটে ফলে রঙিন বাজির মান খারাপ হয়। নষ্ট হয়েও যায়। আবার বৃষ্টির জল পড়েও নষ্ট হয়। নানাভাবেই ক্ষতির মুখে পড়ছি আমরা। তবে শান্তনু দত্তের মতোই শুভঙ্কর মান্নার আশা শনিবার থেকে রোদ ঝলমলে হলে বাজার উঠবে লাভের মুখ দেখবেন বিক্রেতারা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only