শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর, ২০১৯

কাশ্মীরে মানবাধিকার কমিশন বিলুপ্তির আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন



পুবের কলম ডিজিটাল ওয়েব ডেস্ক :  কাশ্মীরে মানবাধিকার কমিশন বিলুপ্তির আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে নয়া আবেদন করা হয়েছে।  মুজাফফর ইকবাল খানের দায়ের করা আবেদনে জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাজ্যের মানবাধিকার কমিশন, নারী ও শিশু উন্নয়ন কমিশনসহ অন্যান্য কমিশন বাতিল করার আদেশকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে।   
আবেদনে বলা হয়েছে, এসংক্রান্ত মূল মামলা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে, এরকম অবস্থায় কীভাবে সেখানে বিভিন্ন কমিশনকে বাতিল করা হল?

আবেদনে দাবি করা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টকে সরকারের ওই সিদ্ধান্ত বন্ধ করতে হবে। আগামী ১৪ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চে কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বাতিলের সাংবিধানিক বৈধতা সংক্রান্ত মূল মামলার শুনানি হবে। 

আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে জম্মু-কাশ্মীরে নয়া আইন কার্যকর হবে। সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল হওয়ার ফলে এপর্যন্ত  যেসব আইন রাজ্যে প্রযোজ্য ছিল না সেগুলো এবার কার্যকর করা হবে।

জম্মু-কাশ্মীর রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্প্রতি অনেক পরিবর্তন করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি বড় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। রাজ্য প্রশাসন গত বুধবার মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশনসহ, উপভোক্তা প্রতিবিধান কমিশন, বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কমিশনসহ মোট সাতটি কমিশন বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে।

আগামী ৩১ অক্টোবর জম্মু-কাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হয়ে উঠবে। এমন পরিস্থিতিতে সেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের মতে আইন কার্যকর থাকবে।
বন্দি মুক্তি কমিটি’র সাধারণ সম্পাদক ছোটন দাস

এই প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ‘বন্দি মুক্তি কমিটি’র সাধারণ সম্পাদক ছোটন দাস আজ শুক্রবার ‘পুবের কলম’কে বলেন, ‘আরএসএস-সঙ্ঘপরিবার পরিচালিত বিজেপি সরকার তাদের উদ্দেশ্যই হচ্ছে ভারতের সংবিধানকে বাতিল করা। এবং ধীরে ধীরে তারা ওই বিষয়ে এক এক করে এগোচ্ছে। মানবাধিকার কমিশন, শিশু কমিশন, নারী কমিশন এগুলো সংবিধানগত ভাবেই করা হয়েছে। ফলে যারা মূল সংবিধানকেই মানে না এবং সংবিধানকে ধাপে ধাপে পাল্টে দিচ্ছে তাদের ক্ষেত্রে এটা খুবই স্বাভাবিক।’

তিনি বলেন, ‘মোদি-অমিত শাহ চাচ্ছেন ভারতে ‘মনুসংহিতা’ চালু করতে। এগুলো হল সেই দিকে একেকটা পদক্ষেপ। মানুষ যাতে কোনও জায়গা থেকেই বিচার না পায়। আরটিআই অ্যাক্টকে অনেক বেশি লঘু করে দিয়েছে। গণতান্ত্রিক সংবিধানের মধ্যে যেটুকু গণতান্ত্রিক অধিকার মানুষের ছিল, নানাভাবে সেগুলো ক্রমাগত তারা সঙ্কুচিত করছে। তারই পদক্ষেপ হল এগুলো। আরএসএস তার ঘোষিত উদ্দেশ্য সফল করার দিকে এগোচ্ছে।’

ভানু সরকার বলেন, ‘আমরা যারা মনুবাদকে বিরোধিতা করি, গণতান্ত্রিক ভারত চাই, তাদের কাজ হচ্ছে আইনি পথে এসবের বিরোধিতা করা, সুপ্রিম কোর্ট, আদালতের পথে। আর বাকিটুকু রাস্তায় নেমেই করতে হবে। এছাড়া কোনও উপায় নেই।’

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only