শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯

অসমে এনআরসি কো-অর্ডিনেটর হাজেলাকে বদলির নির্দেশ, এপিসিআরের প্রতিক্রিয়া



পুবের কলম ডিজিটাল ওয়েব ডেস্ক :  অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি’র সমন্বয়ক প্রতীক হাজেলাকে সুপ্রিম কোর্ট মধ্য প্রদেশে বদলির নির্দেশ দিয়েছে। আজ শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারপতির সমন্বিত বেঞ্চ ওই নিদেশ দেয়।

আজ সুপ্রিম কোর্টে অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপাল বিচারপতিদের কাছে বদলির কারণ জানতে চাইলে প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ বলেন, ‘কোনও নির্দেশই বিনা কারণে দেয়া হয় না।’  এদিকে, কোনও কারণ না দেখিয়ে ওই বদলির নির্দেশে অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন।

অসমে এনআরসি প্রক্রিয়ায় ১৯ লাখ লোকের নাম বাদ পড়ায় বিভিন্ন মহল থেকে বিশেষকরে উগ্রহিন্দুত্ববাদীদের রোষের মুখে পড়েছিলেন প্রতীক হাজেলা। কারণ বাদপড়া লোকেদের মধ্যে বেশিরভাগই হলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন। গত সেপ্টেম্বরে আরএসএস, বিশ্বহিন্দু পরিষদ, বজরং দল, ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ-সহ নর্থ-ইস্ট লিঙ্গুইস্টিক অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন কমিটি এনআরসি থেকে হিন্দুদের নাম বাদ পড়াকে চক্রান্ত বলে অভিহিত করে হাইলাকান্দিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিল। অসমের বরপেটায় হিন্দু সুরক্ষা সেনার সদস্যরা প্রতিবাদ মিছিলসহ প্রতীক হাজেলার কুশপুতল পুড়িয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিলেন। আন্ত রাষ্ট্রীয় হিন্দু পরিষদের পক্ষ থেকে করিমগঞ্জ জেলায় বনধের ডাক দেয়া হয়। বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে অনেক জায়গায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করাও হয়েছে।

প্রতীক হাজেলাকে বদলির বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট কোন কারণ না দর্শালেও গণমাধ্যমের বিভিন্ন সূত্র বলছে জীবনের ঝুঁকি থাকায় তাঁকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। প্রতীক হাজেলা সুপ্ৰিমকোর্টে এ সম্পর্কিত একটি গোপন রিপোর্ট দাখিল করার ভিত্তিতে তাঁকে অসম থেকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে আজ শুক্রবার অসমের ‘এসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অফ সিভিল রাইটস (এপিসিআর)-এর রাজ্য কমিটির সদস্য ও রাজ্য লিগ্যাল সেলের কনভেনর আহমদ আলী বড়ভুঁইয়া ‘পুবের কলম’ প্রতিবেদককে বলেন,   ‘আসলে বিভিন্ন পক্ষ থেকে প্রতীক হাজেলার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেছে বিশেষ করে ‘আসু’, বিজেপিসহ আরও কিছু সংগঠন। কয়েকটি মুসলিম সংগঠনের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে বৈধ নথিপত্র থাকা ভারতীয় নাগরিকদের নাম এনআরসিতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এজন্য প্রতীক হাজেলাকে দোষারোপ করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের দৃষ্টিতে প্রতীক হাজেলা একা  এনআরসির কাজ করেননি। তাঁর নেতৃত্বে কয়েক হাজার কর্মচারী ছিলেন। এবং সমস্ত রেকর্ড প্রতীক হাজেলা নিজের চোখে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।  ওনাকে অধীনস্থ কর্মকর্তাদের রিপোর্টের উপরে নির্ভর করতে হয়েছে। সুতরাং আমার মনে হয় সম্পূর্ণ দায়ী এখানে প্রতীক হাজেলা নয়।’

তিনি বলেন, দ্বিতীয়ত, প্রতীক হাজেলাকে যে বদলি করা হয়েছে, প্রতীক হাজেলা নিজেই সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে প্রাণের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। যেভাবে চারদিক দিকে তাঁর বিরুদ্ধে উগ্রবক্তব্য দেয়া হচ্ছে সেজন্য এখানে তাঁর নিরাপত্তার হুমকি উনি নিজেই অনুভব করছেন। প্রাণের হুমকির বিষয়ে হলফনামার ভিত্তিতেই তাঁকে অসমের বাইরে বদলি করা হয়েছে। যদি কোনো সংগঠনের অভিযোগের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করত তাহলে আগে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হতো এবং তারপরে কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতো। কিন্তু জীবন ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে তাঁকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে।’

আহমদ আলী বড়ভুঁইয়া বলেন, ‘আমাদের ধারণা এনআরসিতে কিছু কিছু অসঙ্গতি যা থেকে গেছে তা থাকতেই পারে। কারণ বিরাট কর্মযজ্ঞে অসঙ্গতি থাকতে পারে। এটি সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত তা আমরা বলবো না। কিন্তু তারপরেও বলবো প্রতীক হাজেলা নিরলসভাবে প্রয়াস করেছেন, চেষ্টা করেছেন যাতে একটা শুদ্ধ এনআরসি হয়।’

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only