মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৯

“দিদিকে বলো” ফোন নম্বরে ফোন করতেই দাবি মিটল কালভার্ট সমস্যার




দেবশ্রী মজুমদার, রামপুরহাট, ১৫ অক্টোবর ঃ মুরারই থানার চাতরা - সুলতানপুর রাস্তার উপর একটি কালভার্ট দীর্ঘদিন থেকে ভেঙে পড়েছে। কিন্তু সমস্যা না মেটায় এলাকায় ক্ষোভ ধূমায়িত হচ্ছিল। শাসকদলের নেতা কর্মীরাই এলাকাবাসীর হাতে ধরিয়েছিল “দিদিকে বলো” কার্ড। ব্যস! আর যাই কোথা! সটান ফোন করে সমস্যার কথা জানান এলাকাবাসীরা।  আর দিদিকে বলো নম্বরে ফোন করতেই তৎপরতা বারে প্রশাসনের। ভাঙা কালভার্ট নির্মাণে উদ্যোগ শুরু করে প্রশাসন। ফলে খুশি এলাকার মানুষ।

গ্রাম সূত্রে জানা গিয়েছে, মুরারই থানার চাতরা - সুলতানপুর রাস্তার উপর একটি কালভার্ট দীর্ঘদিন থেকে ভেঙে পড়েছে। এলাকার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করেন এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দফতরে আবেদন করে কোন সুরাহা হয়নি। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসীরা দিদিকে বলো নম্বরে ফোন করে। এরপরেই মঙ্গলবার সকাল থেকেই প্রশাসনের তৎপরতা বেড়ে যায়। জেলার বিভাগীয় বাস্তুকার ও ব্লকের আধিকারিকরা গ্রামে গিয়ে ভাঙা কালভার্ট ও রাস্তা পরিদর্শন করেন। এলাকাবাসীরা জানান, প্রায় ১৬ বছর আগে কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়। তারপর থেকে কোন সংস্কার না হওয়ায় দিন দিন রুগ্ন হয়ে পড়েছিল কালভার্টটি। এরপর ভগ্নপ্রায় কালভার্টটি মধ্যে তিনফুটের গর্ত লক্ষ্য করে এলাকাবাসীরা। সাময়িক ভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একদিকে ভাঙা কালভার্ট অন্যদিকে চাতরা থেকে সুলতানপুর পর্যন্ত বেহাল রাস্তা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে আমাদের এই রাস্তাটি। দু - এক বার অবরোধ করেছিল গ্রামবাসীরা। প্রশাসন আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত রাস্তাটি বেহাল অবস্থায় রয়েছে। ওই রাস্তার দিয়েই প্রতিনিয়ত যাতায়াত করে পাথর বোঝাই ট্রাক। পাশেই ঝাড়খণ্ড রাজ্যের সুন্দরপাহাড়ি পাথর শিল্পাঞ্চল থাকায় সারা দিনে পাঁচশতাধিক গাড়ি এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। রাস্তায় পিচ উঠে গিয়ে দুই হাত অন্তর রাস্তায় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কখন কখন গর্ত বন্ধ করতে পাথরের ডাস্ট ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তাতে আর বিপত্তি বারে। ধুলোয় রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রী থেকে গর্ভবতী মায়েরা এই রাস্তা দিয়ে কষ্ট করে বাধ্য হয়ে যাতায়াত করছে। চাতরা পশ্চিম বাজারে রাস্তার পাশে দোকান মালিক থেকে বসবাসকারীরা ধূলোর ফলে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। ধূলোর ফলে বাড়ছে শ্বাসকষ্ট জনিত রুগীর সংখ্যা। এই রাস্তা দিয়ে কুড়িটি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করে।

মুরারই ১ ব্লকের তৃণমূলের যুব সভাপতি ও চাতরা গ্রামের বাসিন্দা সুজয় কুমার দাস বলেন,"কালভার্টটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় ছিল। মুরারই ১ পঞ্চায়েত সমিতি থেকে দুই তিনবার মেরামতি করা হয়। জেলাপরিষদে বিষয়টি লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। জেলার আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে এসেছিলেন।"

গ্রামের বাসিন্দা সুভাষ কোনই বলেন," দীর্ঘদিন ধরে আমাদের এই রাস্তাটি বেহাল অবস্থায় রয়েছে। কালভার্ট গুলির অবস্থাও বিপদজনক ভাবে রয়েছে। যে কোন মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে”। মুরারই ১ নম্বর ব্লকের বিডিও নিশীথ ভাস্কর পাল বলেন," কালভার্টের বিপদ জনক জায়গাটি লাল ফিতে দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। জেলাপরিষদ থেকে দ্রুত কালভার্ট ও রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হবে।"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only