মঙ্গলবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৯

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল-এর বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে



পুবের কলম ডিজিটাল ওয়েব ডেস্ক : কেন্দ্রীয় সরকার নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (ক্যাব) পাসের যে চেষ্টা করছে তার বিরুদ্ধে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের  বিভিন্ন রাজ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

গত (বৃহস্পতিবার) মণিপুরের রাজধানী ইম্ফলে বিভিন্ন নাগরিক প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ছাত্ররা নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে। মনিপুর পিপল এগেইনিস্ট সিটিজেনশিপ এমেন্ডমেন্ট বিল (ম্যানপ্যাক)-এর অভিযোগ, ওই বিল অসম চুক্তিকে অকার্যকর করে দেবে।

একইদিনে নাগাল্যান্ডের রাজধানী কোহিমাতে বিভিন্ন নাগা উপজাতির কয়েক হাজার প্রতিনিধি প্রতিবাদে শামিল হন। 'আদিবাসী জনগণের সুরক্ষা বিষয়ক যৌথ কমিটি (জেসিপিআই), নাগাল্যান্ড এবং আদিবাসী জনগণের উত্তর-পূর্ব ফোরামের (এনইএফআইপি) আহ্বানে প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে মুখ্যমন্ত্রী নেইফিয় রিও’র উদ্দেশ্যে তারা স্মারকলিপি জমা দেন। নাগরিকত্ব বিলকে তাঁরা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জনজাতির জন্য ঝুঁকি বলে মন্তব্য করেছে।

শিলংয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে এনইএফআইপি সংগঠনের অভিযোগ, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল আসলে ওই অঞ্চল থেকে মূল উপজাতিদের নির্মূল করার চেষ্টা। এনইএফআইপি’র দাবি কেন্দ্রীয় সরকার যদি নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল কার্যকর করে তবে তারা এ নিয়ে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ দাবি করবে।

এদিকে, সারা অসম ছাত্র সংস্থা (আসু) সভাপতি দীপাঙ্ক কুমার নাথ বলেছেন, ‘আমরা বার বার পরিষ্কার বলে আসছি যে, অসম ও উত্তর-পূর্বের অন্যান্য রাজ্য বাংলাদেশিদের ডাম্পিংগ্রাউন্ড নয়। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিক থেকে বিজেপি সন্তোষজনক অবস্থানে থাকায় তারা অসম ও গোটা উত্তর পূর্বাঞ্চলের মানুষের আশা আকাঙ্খাকে অবজ্ঞা করে চলেছে।’

কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার অসম ও উত্তর পূর্বাঞ্চলের অন্য রাজ্যে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (ক্যাব) চাপিয়ে দেয়ার জন্য এগোবার চেষ্টা করলে এই অঞ্চলের স্থানীয় মানুষ সড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচি শুরু করবেন বলেও ‘ আসু’ নেতৃত্ব হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

‘আসু’র সাধারণ সম্পাদক লুরিণজ্যোতি গগৈ বলেছেন, অসম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষের আবেগ নিয়ে খেললে ভয়াবহ পরিণতি হবে। এরফলে ওই অঞ্চলের ভাষা, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক অধিকার বিনষ্ট হবে বলেও লুরিণজ্যোতি মন্তব্য করেছেন।

অসমে ক্যাবের বিরুদ্ধে ‘কৃষক মুক্তি সংগ্রাম কমিটি’, ‘আসু’ প্রভৃতি সংগঠন সোচ্চার হয়েছে। এরইমধ্যে ‘ক্যাব’-এর বিরুদ্ধে অসম রাজ্যের বাসিন্দাদের পথে নামার ডাক দিয়েছে কৃষক নেতা অখিল গগৈ। ক্যাব গৃহীত হলে বিদেশি লোক অসমের মুখ্যমন্ত্রীর আসন দখল করবে বলে তার আশঙ্কা। একইসঙ্গে তিনি এরফলে অসম ও ত্রিপুরায় নতুন করে এক কোটি ত্রিশ লাখ হিন্দু বাংলাদেশির অনুপ্রবেশ ঘটবে বলে দাবি করেছেন।

সম্প্রতি কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে দলীয় সভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের (‘ক্যাব’) উপরে জোর দিয়ে বলেন, ‘ওই বিল কার্যকর করে তবেই জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি করা হবে। শরণার্থীদের এক জনকেও দেশ ছেড়ে যেতে হবে না। কিন্তু অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানো হবেই’ বলে তিনি জোরের সঙ্গে বলেছেন।

বিজেপি নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান থেকে আসা হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, খ্রিস্টানদের এদেশে শরণার্থীর মর্যাদা ও তাদের নাগরিকত্ব দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষ দেশে এভাবে ধর্মীয়ভিত্তিতে নাগরিকত্ব দেয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহল থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরির প্রচেষ্টা বন্ধ করুন। সাংবিধানিকভাবে এদেশে সকলের সমান অধিকার।’

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only