রবিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৯

পাক হামলার প্রত্যাঘাতে জঙ্গি ঘাঁটি গুড়িয়ে দিল ভারত

শনিবার সন্ধ্যা থেকে ফের অস্ত্রবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ভারতীয় সেনাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় পাকিস্তান। যার জেরে মৃত্যু হয় দুই ভারতীয় জওয়ান এবং এক সাধারণ নাগরিকের। রবিবার তার জবাব দিল ভারত। টংধার সেক্টরের উল্টো দিকে নিলম ভ্যালিতে ভারতীয় সেনার গুলি বর্ষণে কমপক্ষে ৩ টি পাক জঙ্গি ঘাঁটি তছনছ হয়ে যায়।সেনা সুত্রে জানানো হয়েছে কমপক্ষে ৫ পাকিস্তানি সেনার মৃত্যু হয়েছে। যদি পাকিস্তান সে কথা অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি ভারতীয় সেনার গুলি বর্ষণে তাঁদের এক সেনা এবং ৬ সাধারণ গ্রামাবাসীর মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে তিনজন মহিলা রয়েছে। আহত হয়েছেন ৯ জন। ৪৩ টি দোকান, ৫৩ টি ঘর এবং ৬ টি গাড়ি ধ্বংস হয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তান দাবি করেছে, তাদের সেনার গুলিতে ৯ জন ভারতীয় সেনার মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার বিনা প্ররোচনাতে জম্মুর কুপওয়ারার টংধার সেক্টরে অস্ত্রবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে পাকিস্তান। জঙ্গিদের মদদ করতে এই উদ্যোগ নেয় পাক সেনা। ভারত কালবিলম্ব না করে মুহুর্তে তার জবাব দেয়। ভারতীয় সেনার গুলিতে কমপক্ষে ৪ থেকে ৫ টি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে যায় বলে সেনা সূত্রে দাবি করা হয়েছে। ভারতীয় সেনার এই প্রত্যাঘাত প্রসঙ্গে পাক মেজর গফুর জানান, ‘নিরীহ নাগরিকদের উপর হামলা চালিয়ে ভারত জঙ্গি শিবিরে হামলা চালিয়েছে বলে মিথ্যা দাবি করছে। একই সঙ্গে তারা প্রমাণ লোপাটেরও চেষ্টা করছে।’ তাঁর দাবি পাক সেনা ভারতীয় অস্ত্র বিরতি লঙ্ঘনের যোগ্য জবাব দেবে। একই সঙ্গে রক্ষা করবে সাধারণ নাগরিকদেরও। রবিবারের ঘাত-প্রতিঘাতে সীমান্ত লাগোয়া দুটি বাড়িও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। েগালাগুলিতে  দুটি গরুর মৃত্যু হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। 

ভারতীয় সেনার তরফে বলা হয়েছে, হামলা চালিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালিয়েছিল পাক সেনা। কিন্তু ভারতীয় সেনা তা ব্যর্থ করে দেয়। যেখানে গোলাগুলি চলেছে সেই তাংধার সেক্টরের উল্টোদিকে পাক জঙ্গি ঘাঁটি রয়েছে। সেই শিবির থেকে জঙ্গিরা এদিন ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে। যা বানচাল করে দেয় ভারতীয় সেনা। সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত জানান, ৬-১০ জন পাক সেনা নিহত হয়েছে। সমসংখ্যক জঙ্গিও নিহত হয়েছে। তবে সম্পূর্ণ তথ্য এখনও হাতে আসেনি। নিহত পাক জঙ্গি এবং সেনাদের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে জানান ভারতীয় সেনা প্রধান। সেনা প্রধান আরও জানান, সীমনাতে লাগোয়া জঙ্গি শিবিরগুলিতে হামলা চালানো হয়। এই ঘাঁটিগুলিতে মূলত লস্কর এবং হিজবুল জঙ্গিরা ডেরা করেছিল। মোট ৪ টি জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে দেয় ভারতীয় সেনা। যার মধ্যে তিনটি প্রায় নিশ্চিহ্ন।

পাক জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলার টাইমিং নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস নেতা তথা বিবাহরে প্রাক্তন সাংসদ অখিলেশ প্রসাদ সিং। তিনি বলেন, ‘কোনও বড় নির্বাচন সামনে এলেই এই ধরণের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ঘটানো হচ্ছে। এবার এই সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে নতুন করে রাজনীতি হবে। প্রকৃত ইস্যু থেকে ওরা দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেবে।’ তিনি আরও বলেন, বিজেপি বারবার জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে বুলি কপচাচ্ছে। লোকসভা নির্বাচনেও সে কাণ্ড করেছিল তারা। বালাকোট জঙ্গি দমন দিয়ে বিজেপি ভোটারদের মন জয় করেছিল। যেহেতু সোমবার মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানায় নির্বাচন, তাই সাবধানি কংগ্রেস নেতৃত্ব। কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিংভি রবিবার টু্ইটে বলেন–‘সীমান্তে ফের একবার জঙ্গি শিবিরে হামলা চালাল ভারতীয় সেনা। তাদের এই সাহস ও বীরত্বে আমরা গর্বিত।’ 

প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং নিজে গোটা বিষয়টির দিকে নজর রাখছেন। রবিবার সকালে সেনাপ্রধানের সঙ্গে কথাও বলেন তিনি। এদিন ইসলামাবাদে ভারতীয় উপ রাষ্ট্রদূত গৌরব আহলুয়ালিয়াকে ডেকে পাঠালো পাকিস্তান। প্রতি মুহুর্তে আপডেট দেওয়া হচ্ছে প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে। এই ঘটনা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের উত্তেজনার পারদকে আরও উর্দ্ধমুখী করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only