শনিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৯

মিয়াওকি পদ্ধতিতে রাজ্যের ৩৪২ টি ব্লকেই জঙ্গল তৈরি করা হবে :সুব্রত মুখোপাধ্যায়

পুবের ওয়েব ডেস্ক,উলুবেড়িয়া: 'রাজ্যের ৩৪২ টি ব্লকেই মিয়াওকি পদ্ধতিতে একটি করে জঙ্গল তৈরি করা হবে। আমরা জানি মানুষকে কাজ দিতে হবে। এই অভিনব পদ্ধতিতে জঙ্গল তৈরির করার জন্য কাজ পাবেন মানুষ।' শনিবার হাওড়ার শ্যামপুর ১ নং ব্লকের শিবগঞ্জে থুনবার্গ ফরেস্ট পরিদর্শনে এসে একথা বলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রাম উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়।

এদিন সকালে তিনি প্রথমে থুনবার্গ ফরেস্ট তৈরির কাজকর্ম সরজমিনে পরিদর্শন করেন। তারপর এই বিষয়ে একটি আলোচনা চক্রে অংশগ্রহণ করেন। আলোচনা চক্রে তিনি উপস্থিত প্রশিক্ষণের জন্য আগত সরকারী আধিকারিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, জঙ্গল তৈরির মাধ্যমে বনাঞ্চলকে রক্ষা করা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তিনি আরও বলেন, 'অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি একশ্রেণির মানুষ জঙ্গল কেটে নষ্ট করছে। আমার কথা হল জঙ্গলকে রক্ষা করলে সমাজ বাঁচবে, বাঁচবে মানুষও। এখানে স্হানীয় মানুষের সহযোগিতা ছাড়া এই ফরেস্ট গোড়া তোলা কখনই সম্ভব হত না।'

মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে উদ্দ্যোগী হতে এক বা দুদিন স্হানীয় বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে নিয়ে সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করার পরামর্শ দেন সুব্রতবাবু।
প্রসঙ্গত, একশো দিনের কাজের প্রকল্পকে কাজে লাগিয়ে মিয়াওকি পদ্ধতিতে জঙ্গল তৈরির দশ দিনের কর্মশালার শনিবার ছিল শেষ দিন।

১৭ অক্টোবর থেকে এই কর্মশালায় হাতে কলমে জঙ্গল তৈরির প্রশিক্ষণ নেন হাওড়া সহ ১৩ টি জেলার সরকারি আধিকারিকরা। শনিবার কর্মশালার অন্তিম দিনে উপস্থিত হয়েছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রাম উন্নয়ন দফতরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব এম ভি রাও, কমিশনার দিব্যেন্দু সরকার, হাওড়া জেলা শাসক মুক্তা আর্য,উলুবেড়িয়া মহকুমা শাসক তুষার সিংলা সহ প্রশাসনিক কর্তা ব্যক্তিরা । এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী নির্মল মাজিবিধায়ক কালীপদ মন্ডল, পুলক রায় সহ গ্রামীন হাওড়া বিভিন্ন ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক ।

এদিন মিয়াওকি পদ্ধতিতে কি ভাবে জঙ্গল তৈরি হচ্ছে তা প্রেজেক্টারের মন্ত্রীকে দেখান এফোরেস্টের প্রতিনিধিরা।পঞ্চায়েত ও গ্রাম উন্নয়ন দফতরের কমিশনার দিব্যেন্দু সরকার বলেন, আমাদের একটা স্বপ্ন ছিল, যা রূপায়ন হওয়ার পথে।আমরা সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে গাছ লাগিয়ে থাকি।অনেক ক্ষেত্রে সব গাছ যে বাঁচানো যায় তা নয়। বৃক্ষ পাট্টা দেওয়া হয়। তাতেও দেখা গেছে মানুষের মধ্যে গাছ বাঁচানোর তাগিদ বেড়েছে। এখান থেকেই আমাদের ভাবনা শুরু যে আমরা দেশীয় গাছের চারা ব্যবহার করে বহু জায়গায় জঙ্গল গড়ে তুলবে। যাতে সেই জঙ্গল মানুষের জীবন-জীবিকার আধার হয়ে ওঠে। 

শিবগঞ্জে ভাগীরথী জয়েন্ট ফারমিং কো অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের ১০০০ স্কোয়ার মিটার জায়গাকে দশ ভাগ করা হয়েছে। প্রত্যেকটি ভাগ থেকে তিন ফুট গভীর করে মাটি তুলে নেওয়া হয়েছে। তারপর সেই জায়গায় মিয়াওকির উদ্ভাবিত পদ্ধতি অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে মাটি।

মাটি তৈরি করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে কোকোপিট, তুস, জৈব সার। ৩৯ টি প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে এই থুনবার্গ ফরেস্টে। প্রখ্যাত জাপানি উদ্ভিদবিদ আকিরা মিয়াওকির উদ্ভাবিত পদ্ধতিকে অনুসরণ করে জঙ্গল তৈরির ভাবনা শুরু করেছিল রাজ্য সরকার।
হাওড়ার শ্যামপুরের এক নং ব্লকের শিবগঞ্জে এই পদ্ধতিতে গাছ লাগানোর কাজ শুরু হয়। কি ভাবে গাছ লাগানো হচ্ছে তা হাতে কলমে শেখার জন্য উপস্থিত হন তেরোটি জেলার সরকারি অধিকারিকরা। প্রজেক্টটের নাম দেওয়া হয়েছে সুইডিশ তরুনী গ্রেটা থুনবার্গের নাম অনুসারে।

দিব্যেন্দু সরকার বলেন, রাজ্যের সে সকল ব্লকে এই জঙ্গল তৈরি হবে তার নাম হবে থুনবার্গ ফরেস্ট।দিব্যেন্দু বাবুর কথায় একটি জঙ্গল তৈরির জন্য হাজার বছর লাগে।আমরা এখানে খুব অল্প সময়ে সেই জঙ্গল তৈরি করতে পারব।

তিনি আরও বলেন, এই জঙ্গলে গাছ লাগানোর জন্য কোনে কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না। তার কথায় আমরা এই জঙ্গল থেকে ফল,কাঠ কিছু চাই না ,আমরা চাই মুক্ত বাতাস।

তিনি বলেন, আগামী ১৮ মাসের মধ্যে এইখানে একটা আস্ত জঙ্গল তৈরি হয়ে যাবে। আমাদের লক্ষ্য বায়ো ডাইভারসিটি পার্ক হিসাবে আমরা এটাকে তুলে ধরব। উল্লেখ্য শিবগঞ্জের পর উলুবেড়িয়া ১ নং ব্লকের বোয়ালিয়াতে মিয়াওকি পদ্ধতি অবলম্বন করে জঙ্গল তৈরি করা হবে বলে জানান বিধায়ক পুলক রায়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only