শনিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৯

নোবেলজয়ী অভিজিৎকে আক্রমণ পীযূষ গোয়েলের

অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নোবেল নিয়ে যেদিন গোটা দেশ তোলপাড়, সেদিন প্রায় ৪ ঘণ্টা পর টু্ইটে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তখনই সোশ্যাল সাইটে তাঁর বিলম্বিত প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন নেটিজেনরা। দেশজুড়ে যখন প্রশংসার ঢেউ– তখন গেরুয়া শিবির রামগরুরের ছানার মতো মুখ করে ছিল। বোঝা গিয়েছিল– বঙ্গসন্তানের এই নোবেল প্রাপ্তিতে তাঁরা একেবারেই খুশি নন। তারপরও একটা সৌজন্য থাকে। কিন্তু তার তোয়াক্কা করে না বিজেপি। অভিজিৎ গর্বিত করেছেন গোটা দেশকে। কিন্তু কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল শুক্রবার সেসব আমল না দিয়ে অভিজিৎকে আক্রমণ করে বসলেন। যেন অভিজিৎ বিরোধী রাজনৈতিক দলের কোনও প্রতিনিধি। শুক্রবার কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী বলেন--- আমার মনে হয় না যে– ওঁর মতামত গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।
পুণের এক অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী বলেন– ‘অভিজিৎ ন্যায় প্রকল্পের প্রশংসা করেছিলেন। কিন্তু ভারতের মানুষ তাঁর ভাবনা খারিজ করে দিয়েছে। এর থেকে বোঝা যাচ্ছে– তাঁর বোধবুদ্ধি কোন স্তরের।’ পীযূষ গোয়েল নোবেলজয়ী অভিজিৎকে বামপন্থী বলেও উল্লেখ করেন। এ দিন তিনি বলেন– ‘নোবেল পুরস্কার পাওয়ার জন্য আমি তাঁকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। কিন্তু আপনারা সকলে তাঁর চিন্তাভাবনা সম্পর্কে জানেন। চিন্তাধারায় তিনি সম্পূর্ণ বামপন্থী।’ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যে তাঁকে মাথায় তুলে নাচবে না– সেকথা স্বাভাবিক। বিজেপির কাছে তার একাধিক কারণ রয়েছে। তিনি নোটবন্দির কড়া সমালোচনা করে বলেছিলেন– এর ফল ভালো হবে না। নোবেল পাওয়ার পর দেশের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে তাঁর মত জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন– ‘ভারত সরকার নড়বড়ে অবস্থানে রয়েছে। সরকার তা জানে। সরকারের কাছে তার তথ্যও রয়েছে। কিন্তু সরকার সেকথা মেনে নিতে পারছে না। দেশের আর্থিক অবস্থা বিপজ্জনক পথে এগোচ্ছে।’ দেশের আর্থিক অবস্থা বদলাতে হলে প্রধানমন্ত্রীর অফিসের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি।
মনমোহন সিংয়ের আর্থিক সমালোচনা প্রসঙ্গে পীযূষ বলেন– মনমোহন সিংয়ের মতো অর্থনীতিবিদ ২০১৪ সালে দেশের অর্থনীতির বেহাল অবস্থা করে গিয়েছিলেন। কীভাবে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলি তার গতিমুখ পরিবর্তন করেছে– এখন তিনি তা বুঝতে পারছেন না।
লোকসভায় কংগ্রেস যে ন্যায় প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছিল– তার খসড়া তৈরিতে অভিজিতের ভূমিকা ছিল বলে জানা গিয়েছে। এ দিন অভিজিৎকে কটাক্ষ করতে গিয়ে এক ঢিলে দুই পাখি মারার চেষ্টা করলেন পীযূষ। নোবেল জয়ী বঙ্গসন্তানের বিরুদ্ধে কটাক্ষ করা নেতাদের তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। অভিজিতের প্রশংসা করতে না পেরে কিছু অদ্ভুত প্রশ্ন ছুড়ে দেন মেঘালয়ের রাজ্যপাল তথাগত রায়। তিনি বলেন--- অভিজিৎ ব্যানার্জির জন্মস্থান কোথাও বলছে কলকাতায়– কোথাও বলছে মহারাষ্ট্রের ধুলে। কোনটা? ওঁর মা মারাঠি– বাবা বাঙালি। প্রয়াত দীপক ব্যানার্জি। মহারাষ্ট্রে নামের মাঝখানে পিতৃনাম বসাবার নিয়ম রয়েছে। তাহলে ওঁর নামের মাঝখানে ‘বিনায়ক’ কেন? ‘দীপক’ হওয়া উচিত ছিল।
অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নোবেল জয় নিয়ে আপত্তিকর কটাক্ষ করেছেন বিজেপি নেতা রাহুল সিনহাও। তিনি বলেছেন– বিদেশি স্ত্রী থাকলে নোবেল পুরস্কার মিলছে। বিজেপি নেতাদের এমন আলটপকা মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য। তিনি বলেন--- যিনি অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করছেন– তিনি কিছুদিন আগে বলেছিলেন– মাধ্যাকর্ষণ শক্তি আইনস্টাইনের আবিষ্কার। বাম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন– পীযূষ গোয়েল অর্থনীতির নোবেল নিয়ে কী বলবেন? ওঁর উচিত আর কী কী বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া হবে– তা নিয়ে কথা বলা। কীভাবে বিএসএনএল-এ সর্বনাশ করে জিও-র উপকার করতে হয়– তা নিয়ে কথা বলুন পীযূষ গোয়েল। তৃণমূল নেতা ওমপ্রকাশ মিশ্র পীযূষ গোয়েলের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বলেন– ‘এটি অনভিপ্রেত। আপত্তিজনক এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন। এই ধরনের বক্তব্যের মধ্য দিয়েই নিজেদের রাজনৈতিক দারিদ্র্য এবং সরকারের চূড়ান্ত ব্যর্থতারই প্রকাশ ঘটছে। এ ধরনের উক্তি ও কু-যুক্তি বিশ্বদরবারে ভারতের মাথা হেঁট করে দেয়। তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছি।’


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only