মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৯

কাশ্মীরে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধিদলের সফরকে কেন্দ্র করে সরকারের সমালোচনায় সোচ্চার বিরোধীরা



পুবের কলম ডিজিটাল ওয়েব ডেস্ক : জম্মু-কাশ্মীরে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধিদলের সফরকে কেন্দ্র করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনায় সোচ্চার হয়েছেন বিরোধী নেতারা। আজ (মঙ্গলবার) কাশ্মীর সফরে গেছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ২৭ সদস্যের প্রতিনিধিদল।

ভারতের মূলধারার রাজনৈতিক দলের নেতাদের সেখানে অবাধে প্রবেশাধিকার না দিয়ে বিদেশি প্রতিনিধিদের যাওয়ার অনুমতি দিয়ে বিরোধীদের ক্ষোভের মুখে পড়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

প্রতিনিধিদলের অনেকেই অতি-দক্ষিণপন্থী, শরণার্থী-বিরোধী বলে পরিচিত দলের সদস্য। বিরোধীদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্নের মুখে পড়ে বিজেপি সরকারই বাছাই করা এমপি’দের আমন্ত্রণ জানিয়ে কাশ্মীরে পাঠাচ্ছে। যাতে তাঁদের ইতিবাচক রিপোর্টে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফাই দিতে সুবিধা হয়।

সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলেছেন, ‘কেন ভারতীয় রাজনৈতিক দলের নেতা, সংসদ সদদের উপত্যকায় প্রবেশে বারবার বাধা দেওয়া হয়েছে? আমি ওখানে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছি সুপ্রিম কোর্টে হেবিয়াস কর্পাস পিটিশন দাখিলের পর। এমনকী এখনও ভারতীয় সংসদ সদস্যদের ওখানে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়নের  সংসদ সদস্যদের স্বাগত জানাচ্ছেন মোদি।’

সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির অসুস্থ কাশ্মীরি নেতা ইউসুফ তারিগামির সঙ্গে দেখা করার জন্য ইয়েচুরিকে সুপ্রিম কোর্ট থেকে অনুমোদন আদায় করতে হয়েছিল।

ইউরোপীয় দলটিতে ব্রেক্সিট পার্টি, ল পেন’স পার্টি, বেলজিয়ামের ভিবি-র মতো অতি দক্ষিণপন্থী দলের এমপি-রা থাকায় সিপিএম নেতা সীতারাম ইয়েচুরি বলেন, ‘এই বেসরকারি দলটি মূলত অতি দক্ষিণপন্থী ফ্যাসিবাদীদের, যাঁদের সঙ্গে বিজেপি’র সম্পর্ক রয়েছে। এ থেকেই বোঝা যায়, কেন আমাদের সংসদ সদস্যরা কাশ্মীরে ঢোকার অনুমতি পান না। অথচ মোদি এঁদের স্বাগত জানান।’

জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর টুইটার বার্তায় প্রশ্ন তোলা হয়েছে  ‘ওঁরা  কী তিন জন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পারেন না?’ তাঁর প্রশ্ন,  ‘যদি ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার জম্মু-কাশ্মীরকে ভারতের সঙ্গে অখণ্ড হিসেবে তুলে ধরে, তাহলে কেন শ্রী রাহুল গান্ধীকে সেখানে যেতে বাধা দেওয়া হল? তা সত্ত্বেও, অতি দক্ষিণপন্থী এবং ‘ফ্যাসিবাদি’ ইউরোপীয় সংসদ সদস্যদের সেখানে যেতে দিচ্ছে ভারত সরকার।’ আপনি কাশ্মীরে যেতে  পারবেন, একমাত্র যদি আপনি মুসলিমদের প্রতি ঘৃণাযুক্ত ফ্যাসিবাদি হন’বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। মেহবুবা মুফতি বর্তমানে আটক থাকার ফলে তাঁর মেয়ে ইলতিজা মুফতি তাঁর টুইটার ব্যবহার করে থাকেন।

কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা জয়রাম রমেশ বলেছেন, ‘ভারতীয় রাজনীতিকদের জম্মু-কাশ্মীরের মানুষের সঙ্গে কথা বলতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। অথচ ৫৬ ইঞ্চির (বুকের ছাতি) জাতীয়তাবাদী নেতা কীভাবে ইউরোপীয়  প্রতিনিধিদের উপত্যকায় যাওয়ার পাকাপোক্ত ব্যবস্থা করে দিলেন? ভারতীয়দের ওখানে যেতে গেলে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি নিতে হচ্ছে। আর এই প্রতিনিধিদের স্বাগত জানাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী! সবাইকে সমান সুযোগই দেওয়া উচিত।’

কংগ্রেস নেতা মনীশ তিওয়ারি কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘ভারতীয় সংসদ সদস্যদের জম্মু-কাশ্মীরে যাওয়ার জন্য এবার থেকে সম্ভবত ইউরোপীয়ান সংসদ থেকে নির্বাচিত হতে হবে!’

কংগ্রেসের মুখপাত্র আনন্দ শর্মা সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে তাঁরা বিষয়টি তুলবেন বলে জানিয়েছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only