বুধবার, ২ অক্টোবর, ২০১৯

সিউড়ি জেলা সংশোধনাগারের দুই শতাব্দীপ্রাচীন পুজো

কৌশিক সালুই, বীরভূম 

নামেই বন্দি-দশা। কিন্তু খামতি নেই কোনো কিছুতেই। দুর্গো পুজোর আনন্দ থেকে নতুন জামা-কাপড়,  কব্জি ডুবিয়ে ভূরিভোজন সবই মিলবে ওই চারদিন। এত্ত সব  পাওয়া যায় সংশোধনাগারের ভিতরেই পুজোর সময়। বীরভূমের সিউড়ি জেলা সংশোধনাগার। প্রায় দুই শতাব্দীপ্রাচীন । আর দুর্গাপুজো শুরু হয়েছিল সেই ইংরেজ আমলে। কয়েকজন স্বদেশী আন্দোলনকারীর হাত ধরে। অনেক বাধা-বিঘ্ন সত্ত্বে এখনো সেই ধারা চলে আসছে। সংশোধনাগারের ভিতরে প্যান্ডেল করে দুর্গাপুজো, সুন্দর আলোকসজ্জা সবই হয়। বর্তমানে তার উপর বন্দীদের উপরিপাওনা বাউল সংগীত অনুষ্ঠান থেকে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ বছরের দুর্গা  পুজোর দু'দিন বাউল সংগীত অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে। এর সঙ্গে বন্দিরা নিজেরাই সঙ্গীত পরিবেশন করবেন এবং বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করবেন। তাছাড়াও বন্দিদের মধ্যেই ধুনুচি নাচ মোমবাতি জালানো প্রতিযোগিতা ছাড়াও মহিলাদের শঙ্খ বাজানো, উলুধ্বনি প্রতিযোগিতা এবছর হবে। সেই প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়।সারাবছর সংশোধানাগারে ভালো খাওয়া-দাওয়া থাকলেও এই ক'দিন একটু বাড়তি নজর দেওয়া হয় খাওয়ার মেনুতে। সপ্তমীর দিন সকালে টিফিনে দেওয়া হবে বোঁদে এবং মুড়ি। দুপুরে চিলি চিকেন, ফ্রাইড রাইস এবং রাতে ডিম, সবজি ভাত। অষ্টমীর দিন সকালে লুচি এবং কুমড়োর তরকারি দুপুরের গোবিন্দ ভোগের খিচুড়ি বেগুনি মিক্স ভেজ  এবং পায়েস। নবমীর দিন দুপুরে খাসির মাংস ভাত সবজি এবং দশমীর দিন দুপুরে মাছ সবজি ভাত মিষ্টি দই পাপড় থাকছে বন্দীদের জন্য। এখন সাড়ে ৬১০  জন পুরুষ এবং ৪০ জন মহিলা বন্দি আছে তাদের মধ্যে ১০৮ জন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ও ৪২ জন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। 
 সিউড়ি সংশোধনাগারের ভিতরে পুজো শুরু হয় সেই ইংরেজ আমলে। স্বাধীনতা সংগ্রামী শরৎকুমার মুখোপাধ্যায় স্বদেশী আন্দোলন করতে গিয়ে কারারুদ্ধ হন। তিনি তাঁর কয়েকজন সঙ্গী কে নিয়ে সেখানেই পুজো শুরু করেন বন্দী অবস্থায়। ইতিমধ্যেই  ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীনতা লাভ করে সিউড়ি সংশোধনাগার থেকে মুক্তি পান সেসব স্বাধীনতা সংগ্রামীরা। তারা বাইরে বেরিয়ে এসে সিউড়ি শহরের বিভিন্ন জায়গায় সেই দুর্গাপূজা করেন। বর্তমানে সেই পুজো স্থায়ী হয়েছে শহরের বাজারপাড়া জোনাকি ক্লাবে। অন্যদিকে সংশোধনাগারের ভিতরে সেই পুজো মাঝেমধ্যে বন্ধ হয়ে যায় আবার চালু হয়। 2004 সাল থেকে পুনরায় সেই পুজো শুরু হয় যা আজও বর্তমান।
বীরভূম জেলা সিউড়ি সংশোধনাগারের জেলার আব্দুল্লাহ কামাল বলেন," এই পুজো ক'দিন বাইরের পুজো থেকে কোন ভাবেই কম আনন্দ  হয়না সংশোধনাগারে ভিতরের পুজোয়। সহযোগী পুরোহিত হিসেবে  এক সাজা প্রাপ্ত আসামী পুজো করেন। চার দিন খাওয়া দাওয়া থাকে তাদের মনের মত করে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে প্রতিযোগিতা সবকিছুই হয় তাদের মধ্যে"।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only